শুন্য থেকে কোটিপতি মোহাজের পাড়ার জাফর, নেপথ্যে ইয়াবা

0
5
বিশেষ প্রতিবেদক
শহরের মোহাজের পাড়ার ১০নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মরহুম আমির হোসেন মিস্ত্রীর ছেলে জাফর আলম। দৃশ্যমান কোন ব্যবসা নেই। হঠাৎ বনেছে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ! কয়েকবছর আগেও তার সংসারে ছিল টানাপোড়ন। নুন আনতে পান্তা ফুরানো সেই সংসারে এখন নিয়মিত মাছ—মাংস পোলাও ছাড়া রান্না হয় না। চালচলনে এসেছে পরিবর্তন। যা দেখে এলাকায় চলছে কানাঘুঁষা!
স্থানীয়দের মতে, তিন বছরে জাফর এখন কোটিপতি। আশ্চর্যে্যর বিষয় হলো তিন বছর আগেও যে লোক মানুষের ধারে ধারে একশো দেড়শো টাকার জন্য হাত পাততো সে কিনা এখন বন্ধু—বান্ধবী নিয়ে ভিআইপি রেস্তোরাঁয় লাঞ্চ ডিনারের আয়োজন করে। সমানতালে টাকা উড়ায়! কেউ তার বিষয়ে মুখ খুললে হুমকি ধমকি ও টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৫ সালের পূর্বে একটি ইন্সু্যরেন্স কোম্পানীতে কমিশন এজেন্টের কাজ করতো জাফর। পরে সেখান থেকে চাকুরিচ্যুত হয় সে। সেসময় ছিলনা দৃশ্যমান কোন আয়! কি এমন যাদুর কাটিতে তার এই ভাগ্য পরিবর্তন? বর্তমানে সে শহরের বিভিন্ন জায়গায় নামে—বেনামে কিনেছে জমি। মোটা অংকের টাকায় কিনেছে উখিয়ার সোনারপাড়ায় সুপারি বাগান। শখের বসে ছেলেকে কিনে দিয়েছে ৪০ হাজার টাকা দামের ব্যাটারী চালিত বাইসাইকেল! নিজেও চালান দামী মোটরসাইকেল। স্ত্রীকে কিনে দিয়েছে বিশ তুলার বেশি ওজনের স্বর্ণের গহনা। শহরের ৯ নং ওয়ার্ডের ঘোনারপাড়া মনছুর রিক্সা গ্যারেজের সামনে ছোট ভাই সুরত আলমের কাছ থেকে ১৩ লক্ষ টাকা দিয়ে জমি কিনে নির্মাণ করছে বহুতল ভবন। তার পাশে আরেকটি দ্বিতল কুটির তৈরী করে দোকান ও বাসাভাড়া দিয়েছে। সোনারপাড়ায় শাশুর বাড়ীর পাশে ভায়রা ভাইয়ের জায়গায় গড়ে তুলেছে মুরগির খামার। কলাতলী হোটেল মোটেল জোনে কিনেছে বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাট। স্ত্রী ও স্ত্রীর আত্মীয় স্বজনের নামে ব্যাংকে ক্যাশ টাকা ও ফিক্সড ডিপোজিট করেছে অর্ধ কোটি টাকার মত। জাফরের চলাফেরা ওঠাবসা এখন ভিআইপি লোকের সাথে। নিজেকে জনমনে পরিচয় দিয়ে বেড়ান জেলা জজ আদালতের আইনজীবী। কিন্তু নেই কোন চেম্বার, নেই কোন মক্কেল তবুও সে আইনজীবী।
অনুসন্ধানে উঠে আসে ভিটাবাড়ী নিয়ে ভাইদের সাথে ঝামেলার সূত্র ধরে স্ত্রী পক্ষের আত্মীয় স্বজনের সংস্পর্শে আশার পর থেকে তার কপাল খুলতে শুরু করে। শশুর পক্ষের আশীর্বাদ যখন থেকে তার (জাফর) উপর পড়েছে তখন থেকে আর পিছনে ফিরে থাকাতে হয়নি।
সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, জাফরের স্ত্রীর বড় দুই বোন মাদকের সাথে সম্পৃক্ত। ২০১৭ সালের শেষের দিক থেকে তাদের হাত ধরে অপরাধ কারবারে জড়িয়ে পড়ে জাফর। তার ভায়রা ভাই সোনারপাড়ার ছৈয়দ কোম্পানির ছেলে ছৈয়দ নূর দামী মোটরসাইকেলে করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে মেরিন ড্রাইভ হয়ে সপ্তাহে ২—৩ বার জাফরের বাসায় আসতো আরও কয়েক বন্ধুদেরও নিয়ে। এভাবে প্রতিনিয়ত তাদের আসা—যাওয়া এলাকাবাসীর নজরে আসলে তারা সর্তক হয়ে যায়। বহুবার এলাকাবাসীর রোষানলে পড়তে হয় ছৈয়দুর ও তার সঙ্গীদের। প্রতিবারই জাফরের আত্মীয় পরিচয়ে রেহায় পেয়ে যায়।
এলাকার লোকজন জানান, জাফরের ঘরে নিয়মিত অপরিচিত লোকজন আসা—যাওয়া সন্দেহজনক। ২০২০ সালে জেলাব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযানে জাফর আত্মগোপনে চলে যায়। ওই সময় তার বাড়িতে বেশ কয়েকবার অভিযানও চালায় গোয়েন্দা সংস্থা। কিন্তু কৌশলে সে পার পেয়ে যায়। পুলিশের গণবদলির পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শিথিল হলে নেমে পড়ে সেই পুরোনো কারবারে। গেল বছর স্বামী—স্ত্রী ওমরা হজব্রত পালনের জন্য দৌড়ঝাঁপ করেছিল। কিন্তু মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে সারা দেশ লকডাউনের কবলে পড়লে সৌদি আরব যাওয়া সম্ভব হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পার্শ্ববর্তী এক নিকট আত্মীয় বলেন, যে লোক তিন বছর আগেও দুইটি টমেটো, তিন টাকার কাঁচা মরিচ কিনতে অন্যের কাছে হাত পেতেছে সেই কিভাবে তিন বছরের ব্যবধানে কোটিপতি হয়? তার ঘরে নিয়মিত অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা আমাদের নজরে আসলে জানতে পারি তারা অবৈধ ইয়াবাকারবারে জড়িত। সে সপ্তাহে তিন থেকে চার বার জাফর মাইক্রো রিজার্ভ করে ঢাকা— গাজীপুর আসা যাওয়া করে। কি এমন ব্যবসা করে সে রিজার্ভ গাড়ী নিয়ে ঢাকা যেতে হয়? শুনেছি গাড়ীসহ গত বছর ইয়াবা নিয়ে আটক করেছি ঢাকায়। ১৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে শুধুমাত্র ড্রাইভারকে আসামী করে রেহায় পেয়ে যায়। যতদুর জানি সেই ড্রাইভার এখনো জেলে আছে।
তিনি আরও বলেন আপনি আমার কথা রেকর্ড করেন, আমি মুসলমানের সন্তান, মসজিদে গিয়ে শপথ করে বলতে পারবো, জাফর ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত। তবে সে খুচরা বিক্রি করে না। বড় বড় চালান নিয়ে যায় ঢাকা চট্টগ্রামে। যেদিন ইয়াবার চালান নিয়ে যাবে তার আগের রাতে জাফর ঘর থেকে ইয়াবার সুগন্ধি বের হয় ঘনঘন তখন তাদের রুমে রুম স্প্রে ব্যবহার করে। জনশ্রুতি আছে সে একজন বড় মাপের মাদককারবারি।
এলাকাবাসী জানান, জাফর আলম মাদকের সাথে সম্পৃক্ত সেটা শতভাগ সত্যি। কিন্তু সে অত্যন্ত চতুর প্রকৃতির লোক। কৌশলে স্থানীয় প্রভাবশালী ও বড় বড় রাজনৈতিক নেতাদের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দেদারসে চালিয়ে যাচ্ছে অবৈধ ইয়াবা কারবার। এলাকার সচেতনত মহলের দাবী দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও গোয়েন্দা সংস্থা তার ব্যাপারে অনুসন্ধান করলে বেরিয়ে আসবে থলের আসল বিড়াল।
অভিযোগের বিষয়ে জাফর আলম বলেন, নিউজ না করার জন্য বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি দিয়ে তদবির করেন। সেই সাথে স্বীকার করে বলেন, তিনি ইয়াবা কারবারের সাথে জড়িত নেই। তবে গাজিপুর থেকে শতাধিক রোহিঙ্গাকে পাসপোর্ট করে দেন। সেই সাথে হাজারো রোহিঙ্গাকে জন্মনিবন্ধন করে দেয়। সেখান থেকেই তার অঢেল টাকার মূল উৎস বলে জানান।
এ ব্যাপারে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, মাদক নিমূর্লে ডিবি পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাঁর বিষয়ে খোঁজ—খবর নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে আইনের আওতায় আনা হবে।
এ প্রসেঙ্গ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, মাদকসহ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশ দিন—রাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অপকর্ম করে কেউ ছাড় পাবে না। তাঁর বিষয়ে তথ্য—উপাথ্য নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
-দৈনিক কক্সবাজার বার্তা
আগেবুধবার কক্সবাজারে ১৫ রোহিঙ্গাসহ ৭৫ জন করোনায় আক্রান্ত
পরেরামুর দূর্গমে এতিম-প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে অর্থ সহায়তা দিচ্ছে ডাকভাঙ্গা বাংলাদেশ