
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কক্সবাজারের উখিয়ায় ‘মোবাইল চুরির’ অপবাদে দুই যুবককে রশি দিয়ে বেঁধে নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। পরে পুলিশ অভিযুক্ত দুইজনকে আসামীকে গ্রেফতার করেছে।
রোববার (১৮ জুলাই) দুপুরে নির্যাতনের শিকার নুরুল আবছারের ভাই কামাল উদ্দিন বাদি হয়ে ২ জনের নাম উল্লেখ্য করে উখিয়া থানায় এ মামলা দায়ের করেন।
উখিয়ার থানার ওসি সঞ্জুর মোরশেদ বলেন, উখিয়ায় ‘মোবাইল চুরির’ অপবাদে দুই যুবককে রশি দিয়ে বেঁধে নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় জাহাঙ্গীর আলম ও আব্দুস সালাম বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগের পর থানায় মামলা লিপিবদ্ধ করা হয়। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের হাকিম পাড়া থেকে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম ও আব্দুস সালাম কে গ্রেফতার করে। তারপর আইনী প্রক্রিয়া শেষে দুইজনকে বিকেলে কক্সবাজারে আদালতে প্রেরণ করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৪ জুলাই উখিয়া উপেজেলার পালংখালী ইউনিয়নের হাকিম পাড়ায় দুই যুবককে এক সঙ্গে রশিতে পিছমোড়া করে হাত বেঁধে লাঠি দিয়ে মারধর করে দুই ব্যক্তি। যার একটি ভিডিও গতকাল শনিবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, দুই যুবককে এক সঙ্গে রশিতে পিছমোড়া করে হাত বেঁধে লাঠি দিয়ে মারধর করছে দুই ব্যক্তি। মারধরকারি ব্যক্তিরা নির্যাতন চালানোর সময় দুই যুবকের কাছে মোবাইল চুরির কথা স্বীকার করানোর চেষ্টা করছিল। মারধরের এক পর্যায়ে দুই যুবককে মাটিতে শুয়ে দিয়েও নির্যাতন চালানো হয়। এসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত বেশ কিছু সংখ্যক লোকজন মারধরে এই দৃশ্যটি দেখছিল। ভিডিও ভাইরালের পর থেকে এ ঘটনা আলোচনায় আসে।
নির্যাতনের শিকার নুরুল আবছার বলেন, মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে আব্দুল সালাম ধরে এনে নির্যাতন করেছে। কিন্তু আমি কোন মোবাইল চুরি করিনি। আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। এখন আমি এ ঘটনার বিচার দাবি করছি।
উখিয়ার পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, দুই যুবককে এক সঙ্গে রশিতে বেঁধে লাঠি দিয়ে মারধর ঘটনায় স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত জাহাঙ্গীর আলম ও আব্দুস সালাম ধরে পুলিশের কাছে সোর্পদ করি। এ ঘটনায় দুইজনকে চিকিৎসা দেয়া শেষে নির্যাতিত নুরুল আবছারের ভাই কামাল উদ্দিন কে দিয়ে থানায় মামলা দায়ের করায়। আমি অনুরোধ করছি পালংখালী ইউনিয়নবাসিকে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে আইনের আশ্রয় নিতে এবং আশপাশের সচেতন ব্যক্তিদের পরামর্শ নেয়ার।












