
সুমথ বড়ুয়া:
গত এক বছরে কক্সবাজার বনাঞ্চলে বন্য হাতি মারা গেছে ১৪ টি যা বর্বরভাবে হত্যা করা হয়। এইভাবে বন্য হাতি হত্যা চলমান থাকলে, হুমকির মুুখে পড়বে বন্য হাতি জীবন রক্ষা।
হত্যাকান্ডগুলো নিয়মিত চলতে থাকলেও আইনের সঠিক প্রয়োগ না হওয়ার কারণে অপরাধীদের আইনের দ্বারা আওতায় আনতে পারে নাই দায়িত্বে থাকা বনবিভাগ ।
বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৮ ক অনুযায়ী রাষ্ট্র কর্তৃক জীব বৈচিত্র বন্য ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধানের বিষয়টি অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে।
বন্য হাতি হত্যা একটি জামিন অযোগ্য অপরাধ। বন্য প্রাণী ( সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০১২) আইন অনুযায়ী এই অপরাধে দন্ডিত ব্যক্তির সর্বনিম্ন ১ বছর ও সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদন্ড ও সর্বনিম্ন এক লাখ আর সর্বোচ্চ দশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড হতে পারে। তাছাড়া পুনরায় একই অপরাধে দোষী হলে সর্বোচ্চ বারো বছর কারাদন্ড ও পনের লক্ষ অর্থদন্ড হতে পারে।
২০০৬ সালে ইন্টারন্যাশাল ইউনিয়ন ফর কনভার ভেশন অব নেচারের এক সমীক্ষায় জানা গেছে কক্সবাজার, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং শেরপুর সহ কয়েকটি এলাকায় ২৪৮ টি এশিয়ান হাতির বসবাস।
এই সমীক্ষার অর্ন্তভুক্ত ১২ টি করিডর, যেগুলো ওপর দিয়ে হাতির পাল খাদ্যের খোঁজে এক বন থেকে অন্য বনে যাতায়াত করে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প নির্মাণে কক্সবাজারের ১২ টি স্বীকৃত করিডর মধ্যে ৩ টি বন্ধ হয়েছে।
বনের ভিতর অবৈধ অনুপ্রবেশ, ইটের ভাটা স্খাপন, বাগান করা ও সংরক্ষিত বনের ভেতরে মাছ চাষ কার্যক্রমে ফলেহুমকির মুখে পড়েছে বন্য হাতির জীবনযাত্রা।
আমাদের হাতে বন্য হাতিদের ভবিষ্যৎ। আমাদের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে অপরাধীদের বিচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন আর সাধারণ মানুষের মধ্যে বন্যহাতি বাচিয়ে রাখার প্রয়োজনীয়তা ও নিধনে আইনি বিচারবিধান বিষয়ে সচেতনতা থাকতে হবে ও সৃষ্টি করতে হবে।
সুমথ বড়ুয়া
এলএল বি অর্নাস( শেষ বর্ষ)
কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি













