দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণের তেষট্টি ভাগ কাজ শেষ

0
8

সিবিকে ডেস্কঃ

সরকারের ফার্স্ট ট্র্যাক প্রকল্প দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণের তেষট্টি ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। ২০২২ সালের জুনের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা। তবে এরমধ্যে বাকি ৩৭ ভাগ কাজ শেষ হচ্ছে না। মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কক্সবাজারে ট্রেন নেওয়ার লক্ষ্যে কাজ চলছে বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন পূর্বকোণকে বলেন, ২০২২ সালের ১৬ ডিসেম্বর দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ চালুর লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। এই রেলপথ চালু হলে কক্সবাজারে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আগমন বৃদ্ধি পাবে। এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বাড়বে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের চিত্র পাল্টে যাবে।

অতিগুরুত্বপূর্ণ এ মেগা প্রকল্পটি ২০১০ সালের ৬ জুলাই একনেকে অনুমোদিত হয়। এর প্রারম্ভিক খরচ ধরা হয় ১ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। পরে কয়েক দফায় বাড়িয়ে এখন ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা করা হয়েছে। সর্বশেষ গত মাসে ব্যয় না বাড়িয়ে এই প্রকল্পের মেয়াদ ২ বছর বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে কক্সবাজারে ট্রেন যেতে ২ বছর সময় লাগবে না।

নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে না পারার বিষয়ে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা পূর্বকোণকে বলেন, করোনার কারণে প্রকল্পের কাজে ব্যাঘাত ঘটেছে। তার ওপরে বর্ষা বাদ সেধেছে। যন্ত্রপাতি নিয়ে নিচু জলা ভুমিতে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। জমি অধিগ্রহণ কাজও পুরোপুরি শেষ হয়নি। প্রকল্প এলাকায় মোট ১৫ কিলোমিটার বন থাকায় সেখানে কাজের অগ্রগতি কম।

ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের কিছু স্থাপনা-খুঁটি এ রেলপথের আওতায় পড়ায় সেখানে কাজে বিঘœ ঘটছে। এসব সরিয়ে নিতে বিদ্যুৎ বিভাগকে বলা হয়েছে। কিন্তু এখনো পুরোপুরি সরানো হয়নি। সব মিলিয়ে কাজের গতি বেশ ধীর- এটা অস্বীকার করার সুযোগ কম। তবে সামনের শীতে পুরোদমে কাজ করার চেষ্টা করছি।

জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক মফিজুর রহমান পূর্বকোণকে বলেন, ‘করোনা এবং বর্ষার ধকল কাটিয়ে দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণে আমরা কাজ করছি। মন্ত্রী মহোদয় ২০২২ সালের ডিসেম্বরে কক্সবাজারে যাতে ট্রেন যেতে পারে সে লক্ষ্যে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি গত সপ্তাহে প্রকল্পও পরিদর্শন করেছেন। আমরা তার নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছি’।

কোথায় কতটুকু কাজ :

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কক্সবাজার সদরের পানিরছড়া এলাকায় ৭ কিলোমিটার রেলপথ এখন দৃশ্যমান। এই এলাকায় রেল ট্র্যাক নির্মাণের পাশাপাশি সিগনেলিং তার টানার কাজ চলছে। ১০২ রুট কিলোমিটার এবং ১২৯ ট্র্যাক কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথের বাকি অংশেও নানা ধরনের কাজ চলছে।

প্রকল্পের অধীনে সাঙ্গু নদীর উপর ১টি, মাতামুহুরী নদীর উপর ২টি এবং বাঁকখালী নদীর উপর ১টি বড় রেল ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে। এরমধ্যে সাঙ্গু নদীর রেল ব্রিজের সিভিল ওয়ার্ক শেষ করে ৭টি গার্ডারের মধ্যে ৫টি গার্ডার বসানো হয়েছে। বাকি ২টি গার্ডার বসানো হবে দ্রুত। বিদেশ থেকে এসব গার্ডার আনা হয়েছে।

বাঁকখালী নদীর উপর রেল ব্রিজেরও সিভিল ওয়ার্ক শেষ। ওই ব্রিজের ৬টি গার্ডারের মধ্যে সবগুলো গার্ডার বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। মাতামুহুরী নদীর উপর ২টি রেল ব্রিজের সিভিল ওয়ার্ক শেষ। তবে এখনো এই দুই ব্রিজে গার্ডার বসানোর কাজ শুরু হয়নি। এই নদীর দুটি ব্রিজে মোট ১৮টি গার্ডার বসানো হবে।

এছাড়া প্রকল্পের অধীনে ৩৯টি মেজর ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে। এরমধ্যে ১৫টি ব্রিজে সিভিল ওয়ার্ক শেষ করে গার্ডার বসানো হয়েছে। ২০টি ব্রিজের সিভিল ওয়ার্ক শেষ। এখন গার্ডার বসানো হবে। বাকি ৪টিতে সিভিল ওয়ার্কের কাজ চলছে। এছাড়া দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইনে আন্ডার পাস, ওভার পাস, কালভার্ট ও মাইনর ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে ২২৩টি।

জায়গাভেদে ১৫ ফুট থেকে ৫ ফুট পর্যন্ত মাটি ভরাট করতে হচ্ছে দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পে। কোথাও ১৫, কোথাও ১২, কোথাও ১০, কোথাও ৫ ফুট পর্যন্ত মাটি ভরাট করতে হচ্ছে। চট্টগ্রাম অংশের সাতকানিয়ায় ছাড়া বাকি জায়াগাগুলোতে মাটি ভরাটের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। সব মিলিয়ে ভরাটের কাজ শেষ হয়েছে প্রায় ৭৫ শতাংশ।

দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইনে মোট ৯টি রেল স্টেশন নির্মাণ করা হচ্ছে। এরমধ্যে ডুলাহাজরা রেল স্টেশনের কাজ শেষের দিকে। দোহাজারী, লোহাগাড়া, হারবাং, চকরিয়া, ঈদগাঁও এবং কক্সবাজারে রেল স্টেশন নির্মাণের কাজ চলছে। তবে সাতকানিয়া এবং রামুতে রেল স্টেশন নির্মাণের কাজ এখনো শুরু হয়নি।

আগেরোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যায় জড়িত সন্দেহে আরও আটক ২
পরেপরিচ্ছন্ন ছাত্রনেতা থেকে জনগণের জনপ্রিয় কফিল নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী