
মেঘনা নামে নতুন একটি বিভাগ কুমিল্লায় হবে- প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষণার পর থেকে ফেনীবাসীর মধ্যে জোরালো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার মুহূর্ত থেকেই সরগরম স্যোশাল মিডিয়া। সর্বত্রই একটি আলোচনা ফেনীবাসী চট্টগ্রামের সাথেই থাকতে চায়।
ঘোষণার একদিন পরই ফেনীতে সকল শ্রেণি পেশার নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে গঠন হয়েছে ‘ফেনী নাগরিক কমিটি’ নামে একটি কমিটি।
ফেনী শহর ব্যবসায়ি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব পারভেজুল ইসলাম হাজারী বলেন, চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ, আসাদগঞ্জ সর্বোপরি চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক আমাদের দীর্ঘদিনের ব্যবসা। অপরদিকে কুমিল্লার সাথে আমাদের কোনো ধরনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরী হয়নি। সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিলে ব্যবসা বাণিজ্যে ব্যাপক ক্ষতির সন্মুখিন হবো আমরা। আমরা এর বিরুদ্ধে কর্মসূচি পালন করবো। এই সকল কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে গণ-স্বাক্ষর, প্রচার পত্র বিলি, মানববন্ধনসহ অবস্থান কর্মসূচি।
ফেনী চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আইনুল কবির শামীম বলেন, ব্যবসায়িকভাবে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের একটা বোঝাপড়ার তৈরী হয়েছে। এ জেলার অধিকাংশ মানুষ বাণিজ্যর ক্ষেত্রে চট্টগ্রামমুখী। সে সুবাধে চট্টগ্রাম বিভাগে থাকাতেই এখানকার ব্যবসায়ীরা স্বস্তি বোধ করেন।
ফেনী জেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মোতালেব বলেন, মুক্তিযুদ্ধ কেন্দ্রিক চট্টগ্রামের সাথে ফেনীর অনেক গৌরবগাঁথা ইতিহাস জড়িয়ে আছে। আছে অনেক স্মৃতি। আমরা যারা মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম আমাদের প্রায় সকলেই চাই চট্টগ্রামের সাথে থাকতে। চট্টগ্রাম শহরকে ফেনীর মানুষ নিজের শহর মনে করে।
ফেনী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও ‘আমরা ফেনীবাসী’র যুগ্ম আহ্বায়ক এডভোকেট নুর হোসেন বলেন, সরকার প্রয়োজন মনে করলে আরও ৫টি বিভাগ করুক। আমাদের কোনো আপত্তি নেই। চট্টগ্রামের সাথে বহুকাল আগ থেকে জড়িয়ে আছে ফেনীবাসী। আমরা অনেকের সাথে যোগাযোগ করেছি। ফেনীর সকল পেশাজীবী সকল ব্যবসায়ী, সকল রাজনৈতিক সংগঠন একমত তারা চট্টগ্রামের সাথেই থাকতে চায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয়ের কাছ আমরা আবেদন জানাবো জোড় করে চাপিয়ে দেয়া আমাদের আশা আকাঙ্খার বহির্ভূত। আমরা এতে অনেক কষ্ট পাব, মর্মাহত হবো। ফেনীবাসী এটা কিছুতেই মেনে নিতে পারবেনা। আমরা আশা করি প্রধানমন্ত্রী ফেনীবাসীর আশা আকাঙ্খার বহির্ভূত কিছু করবেন না।
শিক্ষার্থীরা বলছেন স্কুল ও কলেজের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় এলে এ জেলার শিক্ষার্থীরা চট্টগাম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্নই দেখে। দীর্ঘদিন ধরে এমনটাই হয়ে আসছে। আরও দুইটা চারটা বিভাগ করুক আমাদের কোনো আপত্তি নাই আসছে। উচ্চ শিক্ষায় তারা ঢাকার পরেই চট্টগ্রামে আগ্রহী। সে বিবেচনায় নতুন বিভাগে না গিয়ে চট্টগ্রামেই তারা থাকতে চায়।
খেলা-ধূলা ও সংস্কৃতির সাথে জড়িতরা জানান, কোনোভাবেই তারা অন্য বিভাগে যাওয়ার বিষয়ে একমত নয়। চট্টগ্রামের সাথে তাদের যে দীর্ঘদিনের বোঝাপড়া তা নতুন কোনো বিভাগের সাথে সম্ভব নয়। ক্রীড়া সংগঠক শরীফুল ইসলাম অপু বলেন, লম্বা সময় ধরে আমরা চট্টগ্রামের সাথে কাজ করেছি। চট্টগ্রামের সাথে আমাদের দারুন যোগাযোগ। বিভাগ পরিবর্তন হলে এটির ব্যত্যয় ঘটবে।
বিএমএ সভাপতি ডা. শাহেদুল ইসলাম কাউছার জানান, চট্টগ্রামের সাথে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা বাণিজ্যসহ নানা সম্পর্ক রয়েছে আমাদের। আমাদের ফেনীর সংকটাপন্ন রোগীকে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামেই বেশি নিয়ে যাওয়া হয়। না হয় ঢাকায়। চট্টগ্রামের সাথে ফেনীর মানুষের দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্ক। সে কারণেই এ জেলার মানুষ চট্টগ্রামের সাথেই থাকতে চায়।











