
বাঙালি জাতির জাগরণ, জাতীয় চেতনার বিকাশ, হাজার বছরের দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে মুক্তির জন্য গণজোয়ার, অকুতোভয় সংগ্রাম, জয় বাংলা স্লোগান, নৌকা প্রতীকে ভোটদান ও মহান স্বাধীনতা; এই সবকিছুর মূলেই রয়েছে একটি নাম- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
হ্যাঁ, আওয়ামী লীগের হাত ধরেই প্রতিবন্ধকতার পাহাড় ডিঙিয়েছে বাঙালি। ৫০ বছরের বাংলাদেশে, অনেক ঝড়-ঝাপটা ও দুঃসময় কাটিয়ে সাড়ে ২৩ বছর দেশশাসন করার সুযোগ পেয়েছে আওয়ামী লীগ।
এই সাড়ে ২৩ বছর আওয়ামী আমলের মধ্যে, ২০ বছরের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। তার অদম্য নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের হাত ধরেই দেশ থেকে দূর হয়েছে ক্ষুধা ও দারিদ্র। লোড শেডিংয়ের অন্ধকার শেষে প্রত্যন্ত গ্রামের এখন পৌঁছে গেছে বিদ্যুতের আলো। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়ার মূল সড়কগুলো সব চার লেনে উন্নীত করার মাধ্যমে বৃদ্ধি পাচ্ছে অভ্যন্তরীণ ব্যবসা ও যোগাযোগ।
১১ নভেম্বর কক্সবাজার জেলার, সদর, রামু এবং উখিয়া উপজেলা ২১ টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠ ও নিরেপেক্ষ এবং ভোটারদের সরব উপস্থিতির সাথে উৎসব মুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। উৎসব মুখর এই নির্বাচন টি সম্পন্ন করায় সর্ব প্রথমে সকল সম্মানিত ভোটার গন, আওয়ামিলীগ মনোনীত বিজয়ী এবং বিজিত চেয়ারম্যান বৃন্দ কে জানাই প্রানঢালা অভিনন্দন।
কক্সবাজারের সম্মানিত জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা নির্বাচন অফিসার, RAB-15 এর অধিনায়ক সহ নির্বাচনের দ্বায়িত্ব পালন করেছেন সকল অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বৃন্দ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সহকারী পুলিশ সুপার, ইএনও, নির্বাহী ম্যাজিষ্টেট, জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্টেট, রিটার্নিং কর্মকর্তা, প্রিসাইডিং, পুলিং, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সকল সদস্য এবং সকল রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম কর্মীদের আন্তরিক সদিচ্ছার কারণেই এই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
আমি ব্যক্তিগত ভাবে এবং বাংলাদেশ আওয়ামিলীগ কক্সবাজার পৌর শাখার সকলের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ও রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নের জন্য বাংলার গণমানুষ প্রস্তুত। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উন্নত বিশ্বের তালিকায় নাম লেখানোর স্বপ্নময় পথ অতিক্রম করছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন স্বপ্নের গণ্ডি ছড়িয়ে বিশ্বের বিস্ময় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। বীরের জাতি হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মান ফিরে পেয়েছে বাঙালি জাতি।
বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও ক্ষমতা বৃদ্ধি, দেশের টেকসই অর্থনীতির ভিত্তি গড়ে ওঠার কারণে বিশ্বব্যাপী নজর কেড়েছে বাংলাদেশ। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ। এক যুগের চলমান সুশাসনে দেশের মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন এসেছে।
স্বাধীনতার পর গত তিন যুগের অধিক সময়ে যা সম্ভব হয়নি, আওয়ামী লীগ সরকারের সর্বশেষ এক যুগে তাই সম্ভব করে দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জননেত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে লিঙ্গ সমতা, রফতানিমুখী শিল্পায়ন, ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষপণ, রফতানি আয় বৃদ্ধিসহ নানা অর্থনৈতিক সূচকে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে দ্রুতগতিতে।
নিজস্ব অর্থায়নে নান্দনিক পদ্মা সেতু, পারমাণবিক বিদ্যুৎকন্দ্র, গভীর সমুদ্রবন্দর, ঢাকা মেট্রোরেলসহ দেশের মেগা প্রকল্পসমূহ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। পরিশেষে সকল নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য যদি সরকারের উন্নয়ন ও সেবা জনতার কাতারে পৌঁছে দিতে পারেন তবেই জনপ্রতিনিধিদের প্রতি জনগণের রায় স্বার্থক হবে। জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।













