
সিবিকে ডেস্কঃ
শারীরিক-মানসিক-বুদ্ধিসহ বারো প্রকারের ২২ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী রয়েছে কক্সবাজার জেলায়। কেবল চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত গত ১১ মাসে শনাক্ত হয়েছে ১০ হাজার ৮৫ জন প্রতিবন্ধী।
‘সোশ্যাল এ্যাসিটেন্স এন্ড রিহেবিলিটেশন ফর দ্য ফিজিক্যালি ভার্নারেবল (এসএআরপিভি)’ নামক একটি বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে বুধবার বিকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালায় এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে গৃহিত ‘প্রমোশন অব হিউম্যান রাইট্স অব পারসন্স উইথ ডিজএ্যাবিলিটিস ইন বাংলাদেশ (পিএইচআরপিবিডি)’ শীর্ষক প্রকল্পের কর্মকান্ডের ফলে সৃষ্ট ভাল উদাহরণ ও শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ প্রচারের লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় তথ্য প্রকাশ করা হয় যে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত গত ১১ মাসে কক্সবাজার জেলার ৯ উপজেলার মধ্যে ৫ উপজেলায় নতুন করে বিভিন্ন প্রকারের ১০ হাজার ৮৫ জন প্রতিবন্ধী শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে রামুতে রিকেট্সজনিত ৮৮০ জন, সিপি জনিত ৪৫৪ জন, ক্লাবফুট জনিত ১২৬ জন এবং অন্যান্য প্রকারের ১৫৬১ জন প্রতিবন্ধী রোগী ধরা পড়ে। চকরিয়া উপজেলায় রিকেট্সজনিত রোগী ধরা পড়ে ৩৩৮ জন, সিপি জনিত ৮১৪ জন, ক্লাবফুট জনিত ৫৪১ জন এবং অন্যান্য প্রকারের ২৬৭২ জন, মহেশখালীতে রিকেট্সজনিত রোগী ধরা পড়ে ১০৫ জন, সিপি জনিত ২৫১ জন, ক্লাবফুট জনিত ১০ জন এবং অন্যান্য প্রকারের ৫৮১ জন, পেকুয়া উপজেলায় রিকেট্সজনিত রোগী ধরা পড়ে ২২ জন, সিপি জনিত ১৩৫ জন, ক্লাবফুট জনিত ২২ জন এবং অন্যান্য প্রকারের ১৪১ জন, উখিয়া উপজেলায় রিকেট্সজনিত রোগী ধরা পড়ে ৮৪ জন, সিপি জনিত ৫৭ জন, ক্লাবফুট জনিত ৩৮ জন এবং অন্যান্য প্রকারের ১৩৬ জন এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রতিবন্ধী রোগী ধরা পড়ে রিকেট্সজনিত রোগী ধরা পড়ে ৫৭৯ জন, সিপি জনিত ১৪৯ জন, ক্লাবফুট জনিত ৮৯ জন এবং অন্যান্য প্রকারের ৩০০ জন। শনাক্ত প্রতিবন্ধীর মধ্যে রিকেট্সজনিত, সিপি জনিত ও ক্লাবফুট জনিত রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য প্রকারের রোগীদের মধ্যে ৫৪৪ জনকে সংস্থাটির পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গ সহযোগিতা দেয়া হয়েছে।
কর্মশালায় আরো জানানো হয় যে, ২০১৮ সালে গৃহিত পিএইচআরপিবিডি প্রকল্পের অধীনে চকরিয়ায় ১৩৮ জন শারীরিক প্রতিবন্ধীকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা দেয়া হয়েছে। অনেক প্রতিবন্ধী এখন নিজেরাই মিনি গার্মেন্টস, নার্সাারীসহ নানা ধরনের ব্যবসার উদ্যোক্তায় পরিণত হয়েছেন। প্রকল্পটির মেয়াদ ডিসেম্বরে শেষ হয়ে যাচ্ছে।
এসএআরপিভি বাংলাদেশের আঞ্চলিক সমন্বয়ক কাজী মাকসুদুল আলম মুহিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত কর্মশালায় আরো বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( শিক্ষা ও আইসিটি) বিভূতিভূষণ দাশ, কক্সবাজার কৃষি অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ড এখলাছ উদ্দিন, চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী, চকরিয়ার ইউএনও সৈয়দ শামসুল তাবরীজ, উখিয়ার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গুলশান আরা, সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম, শিক্ষক তছলিম উদ্দিন, প্রতিবন্ধী জয়নাল আবেদীন ও আয়াতুন্নাহার। এসময় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, মিডিয়াকর্মী ও স্টেক হোল্ডাররা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয় যে, চকরিয়া উপজেলা পরিষদ, চকরিয়া পৌরসভা, বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি সংস্থার রাজস্বের একটি অংশ অনুদান হিসাবে এ বেসরকারি সংস্থাকে দেয়া হয় এবং প্রতিবন্ধীদের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ও পূনবার্সনে সেই অর্থ ব্যয় করা হয়।-দৈনিক কক্সবাজার













