
কক্সবাজারের ইনানী, হিমছড়ি, সেন্টমার্টিনসহ পর্যটন স্পটগুলোর সর্বত্রই পর্যটকের ঢল নেমেছে। দেশি-বিদেশি হাজারো পর্যটকের পদচারণায় এখন মুখরিত কক্সবাজার। কানায় কানায় পরিপূর্ণ সৈকতের পয়েন্টগুলো।
বৃহস্পতিবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল থেকে এসব পর্যটকের আগমন ঘটে সৈকতের বিভিন্ন স্পটে।
কুমিল্লার নতুন দম্পতি রায়হান-তাজকিয়া দুদিনের জন্য কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছেন। তারা বলছেন, ‘অনেকদিন ধরে কক্সবাজার আসার সিদ্ধান্ত ছিল। অবশেষে দুইদিনের জন্য কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছি। অনেক মজা করছি। বিজয় দিবসে সৈকতে অনেক পর্যটকের সমাগম দেখে খুবই ভালো লাগছে। ’
সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্টে কথা হয় সিলেটের বালাগঞ্জ থেকে আসা পাঁচ বন্ধু, বাবু, আরমান, শাহরিয়ার, জুলহাস ও আনাফের সঙ্গে। তারা জানান, দুই বছর পর পাঁচ বন্ধু মিলে কক্সবাজার এসেছেন। করোনা মহামারির জন্য এতদিন তারা আসার চেষ্টা থাকলেও লকডাউনসহ নানা কারণে আসতে পারেনি। এবার এসে তারা খুব ভালো সময় পার করছেন।
প্রতিদিন আসছেন দেশি-বিদেশি পর্যটকরা। সাড়ে ৪ শতাধিক হোটেল-মোটেল গেস্টহাউসে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কোনো কক্ষ খালি থাকছে না। এসব হোটেল-মোটেল, গেস্টহাউজে বর্তমানে ৯৫ শতাংশ থেকে শতভাগ রুম বুকিং হয়ে গেছে।
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি ওমর সুলতান বলেন, ‘কক্সবাজার শহরে সাড়ে ৪ শতাধিক হোটেল-মোটেল, গেস্টহাউস রয়েছে। লকডাউন আর করোনার কারণে সবার ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। সৈকত খুলে দেওয়ার পর পর্যটকরা আসতে শুরু করেছেন। এখন আমাদের হোটেল মালিকরা আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য আমরা পর্যটকদের নানা সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছি। ’
হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ‘করোনাকালীন হোটেল মালিকসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হন। বর্তমানে করোনাভাইরাসের প্রভাব কমে যাওয়ার কারণে সৈকত উন্মুক্ত ও শীত মৌসুমে পর্যটকের আগমন ঘটছে। এতে করে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চেষ্টা করছেন সবাই। সামনে স্কুল-কলেজের পরীক্ষা শেষে থার্টি ফাস্ট নাইট উদযাপনের লক্ষ্যে হোটেলগুলোতে অগ্রিম প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। অনেক হোটেলে অগ্রিম বুকিং হচ্ছে। সবমিলিয়ে পর্যটন ব্যবসা ভালোই বলতে পারি। ’
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘পর্যটন মৌসুম শুরু হওয়ায় কক্সবাজারে পর্যটক আসতে শুরু করেছে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটক আসছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় সৈকতের সব স্পটে ট্যুরিস্ট পুলিশের টিম টহল ও নজরদারি রাখছে। ’













