
উখিয়া প্রতিনিধিঃ
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ১৬ নং শফিউল্লাহ কাটা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডে ৪৬৭টি বসতি ভস্মীভূত হয়েছে। এছাড়া ভাংচুরসহ নানাভাবে নষ্ট হয়েছে আরো ১২০টি বসতি। সব মিলে ৫৮৭টি বসতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব বসতিতে থাকা সব ধরনের জিনিসপত্র পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এতে টাকার পরিমাণে ৪০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের পর এনজিও ও প্রশাসন সমন্বিতভাবে অনুসন্ধানে করে ক্ষয়ক্ষতির এই চিত্র পেয়েছেন। রোববার রাতে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের পাঠানো এক লিখিত পরিসংখ্যান থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
এই তথ্য মতে, এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ নং ক্যাম্পের চারটি ব্লকে আগুন ছড়িয়ে যায়। এতে ব্লক বি ১-এ ১৯০টি রোহিঙ্গা ও তিনটি স্থানীয় বসতি পুড়ে গেছে। ব্লক বি ২-এ ৯৫টি রোহিঙ্গা ও পাঁচটি স্থানীয়, ব্লক বি ৩-এ ১৩৪টি রোহিঙ্গা ও একটি স্থানীয় এবং ব্লক সি-এ ৪০টি রোহিঙ্গা ও একটি স্থানীয় বসতি পুড়ে গেছে।
এদিকে অনুসন্ধানে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ও কারণ খুঁজে বের করা হয়েছে। এক রোহিঙ্গা বসতির চুলার আগুন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের বরাত দিয়ে ৮ নম্বর এপিবিএন’র অধিনায়ক পুলিশ সুপার শিহাব কায়সার খান জানিয়েছেন, ব্লক বি ১-এর আবু ছৈয়দের বাড়ি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। আবু ছৈয়দের স্ত্রী লাকড়ি দিয়ে রান্না করতে গেলে ঘরের বেড়ায় আগুন লেগে যায়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে আর নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি।
রোববার বিকেল ৫টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। দ্রুত উখিয়া-টেকনাফ ও কক্সবাজার থেকে ফায়ার সার্ভিসের ৮ টি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন কার্যালয়ের অতিরিক্ত কমিশনার শামসুদ দৌজা জানিয়েছেন, আগুনে পুড়ে ঘরহারা রোহিঙ্গাদের পাশ্ববর্তী লার্নিং সেন্টার, মাদরাসা,মক্তব, ওমেন ফ্রেন্ডলি স্পেস ও আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে রাখা হয়েছে। এনজিও সংস্থাগুলো তাদের জরুরি খাবার সরবরাহ করেছে।
প্রসঙ্গত, গত এক বছরে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এখন পর্যন্ত তিনটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। , গত বছরের ২ মার্চ রাতে উখিয়ার ৮ ও ৯ নম্বর ক্যাম্পে ভয়াবহ আগুনে বহু বসতি পুড়ে যায় এবং ১১জন নিহত হয়। গত ২ জানুয়ারি অগ্নিকাণ্ডে আইওএম পরিচালিত একটি করোনা হাসপাতাল ও তার পাশের কয়েকটি বসতি পুড়ে যায়।












