
কক্সবাজারের আলোচিত মেহেদী হত্যা মামলায় পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবদুল্লাহ আল মামুন রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- কক্সবাজার শহরের বাহারছরার বাসিন্দা ফরিদ আহামদের ছেলে মোহাম্মদ ফারুক প্রকাশ ওমর ফারুক, আবুল বশরের ছেলে শাহেদ, মধ্যম বাহারছরার তৈয়বুর রহমানের ছেলে সাগর, জহির আহমদের ছেলে মিঠু ও আমির হোসেনের ছেলে ওয়াসিম।
রায় ঘোষণার সময় মোহাম্মদ ফারুক ও মোহাম্মদ শাহেদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অপর তিন আসামি পালাতক রয়েছেন।
অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মোজাফ্ফর আহমদ হেলালী বলেন, মামলায় সাক্ষী করা হয় ১৬ জনকে। পরে আদালত ২০১২ সালের ১০ এপ্রিল অভিযোগ গঠন করেন। আদালত পাঁচজনকে যাবজ্জীবন সাজা ছাড়াও প্রত্যেক আসামিকে পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও তিন বছর করে সশ্রম সাজার আদেশ দেন। সাজাপ্রাপ্তরা সবাই মেহেদী হাসানের বন্ধু।
অর্থদণ্ডের টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা করে সরকারি কোষাগারে জমা হবে এবং আদায় করা বাকি টাকা ভিকটিমের মা রোজিনা আক্তারকে দেওয়ার জন্য বিচারক নির্দেশ দেন বলে জানান এপিপি মোজাফ্ফর।
মেহেদী হাসান শহরের মধ্যম বাহারছড়া এলাকার মোহাম্মদ সোলাইমানের ছেলে। বন্ধুদের সঙ্গে বাকবিতাণ্ডার জেরে ২০১০ সালের ২০ এপ্রিল রাত ১০টায় কক্সবাজার শহরের শহীদ মিনার রোডে (বন বিভাগের সামনে) হামলার শিকার হন তিনি। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে ২০১০ সালের ২২ এপ্রিল পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে সদর থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে এজাহারভুক্ত আসামি হুমায়ুনকে বাদ দিয়ে মধ্যম বাহারছড়ার তৈয়বুর রহমানের ছেলে সাগরকে অভিযুক্ত করে মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা।













