প্রেমে অস্বীকৃতি, প্রেমিককে ডেকে নিয়ে খুনঃ কথিত প্রেমিকা আটক!

0
5

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি:

পার্বত্য বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী থেকে শহিদুল ইসলাম নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক নারীকে আটক করেছে রামু থানা। নিহত শহিদুল ইসলাম পার্শ্ববর্তী ঈদগড় ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকার ইছহাক মিয়ার ছেলে, পেশায় একজন পাঠাও চালক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠক। ১৯ এপ্রিল দুপুরে বাইশারী ২নং ওয়ার্ডের রাঙাঝিরি রাবার বাগান থেকে তার লাশটি উদ্ধার করেন বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আবুল কাসেমের নেতৃত্ব একদল পুলিশ। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী পূর্বক ময়না তদন্তের জন্য বান্দরবান জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।পরদিন ময়না তদন্ত শেষে দাফন করা হয়৷

নিহত শহিদুল ইসলামের বাবা জানান, স্থানীয়দের মারফত খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ শনাক্ত করা হয়। এর দুই দিন আগে সে নিখোঁজ ছিল। ১৭ এপ্রিল ইফতারের পর নিহত শহিদুল ইসলামের মোবাইলে একটি কল আসে, ডেলিভারি এক নারীকে হাসপাতালে আনার কথা বলে তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায় এক ব্যক্তি। সে থেকে নিখোঁজ হন ছেলে শহিদুল ইসলাম।

নিহত শহিদুলের শাশুড় মোক্তার আহমেদ জানান, তার মেয়ের জামাই নিখোঁজের পরদিন রামু থানায় সাধারণ ডায়েরী করতে গেলে সময় ক্ষেপন করতে থাকে থানা পুলিশ। তিনি আরো বলেন, শহিদুল ইসলামের সঙ্গে ঈদগড় বড়বিল এলাকার রশিদ আহমদের মেয়ে রেজিনা আক্তার নামের এক মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রায় চার মাস আগে রেজিনা আক্তারের বিয়ে টিক হলে তিন মাস পর তার মেয়েকে বিয়ে করেন। ইত্যবসরে আগে টিক হওয়া রেজিনার বিয়েটি ভেঙে যায়। ভেঙে যাওয়ার পর থেকে পূনরায় প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে শহিদুল ইসলামকে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করে রেজিনা। তাতে শহিদুল রাজি হয়নি, কারন ইতিপূর্বে বিয়ে করে ফেলেছে। এ কারণেই শহিদুলকে রিজার্ভ ভাড়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে সু-পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে। শহিদুল নিখোঁজের আগের দিন রবিবার রেজিনা আক্তার নামের ঐ নারী তার বাড়িতে এসে হাঁকাবকাও করেন বলে জানান শুশুর মোক্তার আহমদ।

নিহত শহিদুল ইসলামের ছোট ভাই জানান, তার ভাই নিখোঁজের পরদিন কথিত ঐ প্রেমিকা তার মুঠোফোনে কল করে শহিদুলের খবর নিতে বলেন, এ সময় বলেন তোমার ভাইকে বাইশারী রাঙাঝিরি রাবার বাগানের দিকে খোঁজ নিলে সন্ধান পাওয়া যাবে।

এদিন খবর পেয়ে অন্যদের মতো তার এ সহকর্মীও ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযানে সহযোগিতা করেন। এ সময় শহিদুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ১৯ টির মতো ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তার সহপাঠীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ এ সহকর্মী। তিনি ঘটনায় জড়িত সকলের শাস্তি দাবি করেন।

নিহত শহিদুল ইসলাম পাঠাও চালকের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে রক্তশূণ্য রোগীদের জন্য কাজ করে আসছিল। সাংগঠনিক কাজকর্মে তিনি অত্যন্ত দক্ষ সংগঠক ছিলেন বলে জানান ঈদগর ব্লাড ডোনার সংগঠনের এ নেতা।

ঘাতকদের হাতে নির্মম ভাবে হত্যার শিকার হওয়া শহিদুল ইসলামের জানাজা পরবর্তী ঈদগড় বাজারে বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন স্থানীয়রা। প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে সন্ত্রাসীদের আটকের দাবি জানানো হয়।

বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আবুল হাসেমের সাথে একাধিক বার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, কিন্তু সংযোগ না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রামু থানার ওসি তদন্ত বলেন,খবর পেয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার সাথে সহযোগিতা করার জন্য রামু থানা থেকে একদল পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনাস্থল যেহেতু নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় আটকের বিষয়টি তারাই জানবে, একজন নারী আটকের সংবাদ তিনিও পেয়েছেন তবে নিশ্চিত নন।

আগেরামুতে কর্মরত সাংবাদিকদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
পরেব্রাহ্মণবাড়িয়ার এডিসি হলেন রামু’র ইউএনও প্রণয় চাকমা