বাদশাঘোনায় জমি ভাড়া দিয়ে বিপাকে মালিকেরা, সন্ত্রাসী দিয়ে উল্টো দখল

0
3

 

বার্তা পরিবেশক:
শহরের বাদশাঘোনায় পৈতৃক জমি শওকত আলম নামে এক ব্যক্তিকে স্কুল পরিচালনার জন্য ভাড়া দিয়ে বিপাকে পড়েছে মালিকেরা। ভাড়াটিয়া শওকত আলম এখন জমি ছেড়ে দিতে দাবি করছে মোটা অংকের চাঁদা। আর চাঁদা না দিলে নিজেই জমির মালিক দাবি করছে সে। এতে নিরূপায় দখলবাজ চক্রের কবল থেকে পৈতৃক জমি ফিরে পেতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগীরা।

বুধবার বিকালে শহরের একটি অভিজাত হোটেলের হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ওই জমির অন্যতম ওয়ারিশ ওমর ফারুকের পুত্র ওমর হাসান।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানিয়েছেন শহরের বাদশাঘোনায় তিন দলিল মূলে মোট ১৮ (আঠারো) শতক জমির মালিক আলহাজ্ব মকবুল আহমদ। তাঁর মৃত্যুর পর জমি ওয়ারিশ সুত্রে মালিক বনেন তিন সন্তান ওমর ফারুক, জাহাঙ্গীর আলম ও মুজিবুল হক মানিকসহ তাদের বোনেরা। বছর দেড়েক পূর্বে ঘোনার পাড়া এলাকার মৃত হাজী আবুল বশরের পুত্র শওকত আলমকে জমিতে একটি স্কুল পরিচালনার জন্য মৌখিক চুক্তিতে অস্থায়ীভাবে ভাড়া প্রদান করা হয়। শওকত আলম সেখানে টিনের ঘর নির্মাণ করে ৩/৪ মাস যাবত আল-হেরা একাডেমী নামে একটি প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেছিল। এসময় তাকে লিখিতভাবে চুক্তি করতে বললে সে আর লিখিত কোন চুক্তি করে নাই। এরইমধ্যে করোনা পরিস্থিতিতে স্কুল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে। বর্তমানে শওকত আলমকে আমার ভাড়া দেওয়া জায়গাটি আমার অনুকূলে ছেড়ে দিতে বললে সে জায়গাটি ছেড়ে না দিয়ে বিভিন্ন তালবাহানা করছে।

ওমর হাসান আরও জানান, বর্তমানে শওকত আলম এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও অবৈধ অস্ত্রধারী বাদশাঘোনার মৃত জালাল আহমদের পুত্র ছৈয়দুল আমিন, দক্ষিণ ঘোনার পাড়ার নাজির হোসেনের পুত্র রশীদুল হাসান প্রকাশ রশীদু ও বৈদ্যঘোনার মৃত আবুল হাশেমের পুত্র আবু তাহেরকে আমার জায়গাটি জোরপূর্বক জবর দখলের উদ্দেশ্যে লেলিয়ে দেয়। উল্লেখ্য যে, ছৈয়দুল আমিন একজন রোহিঙ্গা। ভাসমান থাকায় তাকে জমিতে পাহারাদার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন শওকত আলম। সেখান থেকে সে রোহিঙ্গা এনে নানা সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালিত করে আসছে। এছাড়া রশীদুল হাসান প্রকাশ রশীদু শহরের একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। সে পুলিশ কনস্টেবল পারভেজ হত্যা মামলাসহ অসংখ্য ফৌজধারী মামলার আসামী। আবু তাহেরও চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও মাদকসহ অসংখ্য মামলার আসামী। তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে শওকত আলমসহ রয়েছে সন্ত্রাসী গডফাদার। কিন্তু এসব সন্ত্রাসী জায়গাটি জবর দখলের উদ্দেশ্যে অবৈধ অস্ত্রের মহড়া দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। যার অংশ হিসেবে বিগত ১৮/০২/২০২২ইং তারিখ রাত অনুমান ১১.৩০ ঘটিকার সময় ছৈয়দুল আমিন ও শওকত আলমের নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন সন্ত্রাসী আমাদের পৈত্রিক মালিকানাধীন জমি দখলের উদ্দেশ্যে কয়েক রাউন্ড ফাঁকাগুলি বর্ষণ করে এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।

সংবাদ সম্মেলনে মুজিবুল হক মানিক জানান, তারা সকলেই তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। যা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল। এছাড়া জমিটি আমাদের কিনা তা বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করলে পরিস্কার হয়ে যাবে। কিন্তু তবুও আমরা আজ সন্ত্রাসীদের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছি। আমরা নিরূপায় হয়ে আমার জমি উদ্ধারে তাদের বিরুদ্ধে সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করি। তার প্রেক্ষিতে শহর পুলিশ ফাঁড়িতে এ নিয়ে বৈঠক হয়। বৈঠকে তাঁরা কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। উল্টো বিচার না মেনে তারা বৈঠক থেকে উঠে এসে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। পরবর্তীতের জমি ছাড়তে আমাদের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে। নচেৎ আমরা জমি ফিরে পাবো না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। এই অবস্থায় আমার পৈতৃকি জমি ফিরে পেতে আমি আপনাদের মাধ্যমে প্রশাসনসহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। নতুবা আত্মহনন ছাড়া আমার আর কোন পথ খোলা নেই।

সংবাদ সম্মেলনে ঘোনারপাড়া সমাজ কমিটির সভাপতি জানান, জায়গাটি হাজী মকবুল আহমদের। তার মৃত্যুর পর সন্তানেরা এটি মালিক। কিন্তু তাদের জমি আত্মসাতের জন্য এমন নাটকীয়তা চলছে। যা সভ্য সমাজে কখনো কাম্য নয়।

 

 

 

 

আগেবঙ্গমাতায় চকরিয়া ও বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলে রামু চ্যাম্পিয়ন
পরেমিরসরাইয়ে র‌্যাবের ওপর হামলা, আহত ২