উখিয়ায় বিশেষায়িত হাসপাতাল উদ্বোধন করলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা-ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

0
7

উখিয়া প্রতিনিধি:

বিশেষায়িত হাসপাতালে  উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে উখিয়ায়  আধুনিক চিকিৎসা সেবার দ্বার উম্মোচিত হল। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডাঃ এনামুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে এ বিশেষায়িত  হাসপাতালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
উখিয়া কলেজের পাশেই ১ একর জায়গায় ১৭ হাজার ৫ শত বর্গফুট আয়তনের উপর  বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের অর্থায়নে  এই বিশেষায়িত হাসপাতালটি চালু করা হয়েছে। ২৩ টি বিভাগে  আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে এতে চিকিৎসা সেবা দেয়া হবে । এতে কক্ষ সংখ্যা হচ্ছে ৬০টি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন    দূর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের সচিব  মোহাম্মদ কামরুল হাসান, রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের   বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মিরজাদী সাব্রিনা  ফ্লোরা, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শাহ রেজওয়ান হায়াত, কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা ম‍্যাজিষ্ট্রেট আবু সুফিয়ান, ইউএনএইচসিআরের কক্সবাজার হেড ইটা শুয়েটা, জাপান দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, উখিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী ও রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী ।
এ সময় শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয়ের অতিরিক্ত কমিশনার মোঃ শামশু দৌজা, কক্সবাজার সিভিল সার্জন ডাক্তার মাহবুবুর রহমান, উখিয়া  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  ইমরান হোসেন সজিব , উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার রঞ্জন বড়ুয়া রাজন ৮ এপিবিএন পুলিশের কমান্ডিং অফিসার পুলিশ সুপার শিহাব কায়সার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উখিয়া সার্কেল শাকিল আহমেদ, দাতা সংস্থা জাপান ও জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা   ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি  উপস্থিত ছিলেন।
ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডাক্তার এনামুর রহমান বলেন, মিয়ানমারে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নেয়ায়  স্থানীয় জনগোষ্ঠী বহুমাত্রিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়  জনগোষ্ঠী ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের চিকিৎসা সেবা দেয়ার লক্ষ্যে এ বিশেষায়িত   হাসপাতালটি গড়ে তোলা হয়েছে।
আরআরআরসি রেজওয়ান  হায়াত স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের  দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন অত্র এলাকায় নার্সিং ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার জন্য  কাজ করা হচ্ছে।
এর পর ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী   হাসপাতালটি ঘুরে দেখেন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে  ফলক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে  বিশেষায়িত হাসপাতাল টির যাত্রা শুরু হয়। এদিকে বিশেষায়িত হাসপাতালটি পরিচালনার বিষয়ে গত ৩০ জুন ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রিপক্ষীয় এক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, মধ্যম পর্যায়ে অসুস্থ ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে এই বিশেষায়িত হাসপাতালটি কাজ করবে। বহিরাগত রোগীদের পরিসেবা প্রদান, যেমন-সার্জারি, ট্রমা কেয়ার, চক্ষু ও দাঁতের যত্ন, ফিজিওথেরাপি এবং উপশমকারী চিকিৎসা সেবার জন্য এই হাসপাতালে সব ধরনের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়াও ২৪ঘন্টা/৭দিন সার্বক্ষনিক জরুরী ইউনিট, অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি এবং ডায়াগনস্টিক সুবিধা রয়েছে এই বিশেষায়িত হাসপাতালে।
সমঝোতা স্মারক অনুসারে এই হাসপাতালের চিকিৎসা ও প্রশাসনিক সুবিধা প্রদানে যৌথভাবে কাজ করবে বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বেসরকারি সংস্থা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র, রিলিফ ইন্টারন্যাশনাল এবং অরবিস। এই বিশেষায়িত হাসপাতালে ইতিমধ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ডবয়, স্বাস্থ্য কর্মী, টেকনিশিয়ান সহ শতাধিক লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
উএনএইচসিআর জানিয়েছে, হাসপাতালে সেবাপ্রার্থীরা চোখ ও দাঁতের চিকিৎসার পাশাপাশি অপারেশন সার্পোটসহ বিভিন্ন ধরণের বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা পাবেন।
প্রসঙ্গত ২০১৭ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর বলপূর্বক ব্যস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক ও স্থানীয় জনগণের চিকিৎসার জন্য মালেয়েশিয়ান সরকার “মালেশিয়ান ফিল্ড হাসপাতাল” নামের হাসপাতাল চালু করে। প্রায় চার বছর পরিচালনার পর ২০২১ সালের ১৪ মার্চ মালয়েশিয়ান সরকার বাংলাদেশ সরকারের কাছে হাসপাতালটি হস্তান্তর করে।
আগেফয়সাল হ*ত্যা: ১০ মিনিটের কিলিং মিশনে অংশ নেয় ২০ ঘাতক
পরেটেকনাফে সাড়ে ৫ কোটি টাকার আইস-মাদক উদ্ধার