
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
আফগানিস্তানে ড্রোন হামলায় জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার প্রধান আয়মান আল-জাওয়াহিরি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।রোববার ( ৩১ জুলাই) দেশটির রাজধানী কাবুলে ড্রোনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ- এ হামলা চালায়।
প্রেসিডেন্ট বাইডেন হোয়াইট হাউজের এক বিবৃতিতে বলেছেন, “ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ওই সন্ত্রাসী নেতা আর জীবিত নেই। আমরা কখনও হারিনি।”
২০১১ সালের ২ মে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে মার্কিন কমান্ডো হামলায় আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেন নিহত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক এ সন্ত্রাসী সংগঠনের জন্য এটাই সবচেয়ে বড় আঘাত।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হোয়াইট হাউসের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সোমবার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানে চালানো একটি অভিযান সফল হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, গত রোববার আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ পরিচালিত ড্রোন হামলায় তিনি নিহত হন।
মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, তিনটি সূত্র আল-কায়েদা নেতার হত্যার খবর নিশ্চিত করেছে। নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট এবং সিএনএন অজ্ঞাত পরিচয় সূত্রের বরাত দিয়ে নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করেছে।
এর আগে একজন উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন যে, আফগানিস্তানে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ একটি আল-কায়েদা লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ‘সফল’ অভিযান চালানো হয়েছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, অভিযান সপ্তাহান্তে চালানো হয়েছিল এবং কোনো বেসামরিক লোক তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
বাইডেন প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেছেন, কাবুলে সিআইএ-এর হামলায় যিনি নিহত হয়েছেন, তিনি জাওয়াহিরি বলেই গোয়েন্দা তথ্য থেকে তারা নিশ্চিত হয়েছেন। এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য তিনি দেননি।
আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেন এবং আল-জাওয়াহিরি এক সাথে আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন এবং ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার আয়োজন করেন বলে অনেকে অভিহিত করেন।
আল-জাওয়াহিরি মিশরের ইসলামি জিহাদ নামক জঙ্গি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। ওসামা বিন লাদেন ২০১১ সালের মে মাসে মার্কিন বাহিনীর হাতে নিহত হবার পর আল-জাওয়াহিরি আল-কায়েদার নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
তার আগে আল-জাওয়াহিরিকে ওসামা বিন লাদেনের ডান হাত আর আল-কায়েদার মূল চিন্তাবিদ বলে গণ্য করা হতো। অনেকে মনে করেন আয়মান আল-জাওয়াহিরিই ছিলেন ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার মূল রূপকার।
এদিকে আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এক বিবৃতিতে কাবুলে একটি হামলার ঘটনার কথা স্বীকার করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তার ভাষায়, এটা ‘আন্তর্জাতিক নীতির পরিষ্কার লঙ্ঘন’।













