মানবতার মুক্তির দূত মহানবীর পৃথিবীতে আগমনের দিন আজ

0
6
সিবিকে ডেস্কঃ

আজ ১২ রবিউল আউয়াল। সর্বশেষ নবী ও রাসূল হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর জন্ম ও ওফাতের পুণ্য স্মৃতিময় দিন। ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের এই দিনে আরবের মক্কা নগরীর সভ্রান্ত কুরাইশ গোত্রে মা আমিনার কোল আলো করে জন্ম নিয়েছিলেন এক শিশু। নাম তাঁর বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)। সমগ্র মানব জাতির জন্য রহমত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন তিনি। ৬৩ বছরের জীবনে ইহকালীন ও পরকালীন মুক্তির পথ দেখিয়ে একই তারিখে তিনি পৃথিবী ছেড়ে যান।

এ কারণেই কাজী নজরুল নবীজির স্মরণে লিখেছিলেন:

‘তোরা দেখে যা আমিনা মায়ের কোলে
মধু পূর্ণিমারি সেথা চাঁদ দোলে
যেন ঊষার কোলে রাঙা-রবি দোলে।’

 

জাজিরাতুল আরব যখন আইয়ামে জাহেলিয়াত বা পাপাচারের অন্ধকারে ডুবে ছিল, তখন আলোকবর্তিকা হয়ে জন্ম হয় আল্লাহর বার্তাবাহক বা রাসুল (সা.) এর। সত্যবাদিতা ও সততার প্রতীক ছিলেন তিনি। শান্তি প্রতিষ্ঠার অগ্রদূত ছিলেন। করুণা, ক্ষমাশীলতা, বিনয়, দানশীলতা, সহিষুষ্ণতায় তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব।

হজরত মুহাম্মদ (সা.) ৪০ বছর বয়সে নবুয়ত লাভ করেন। দীর্ঘ ২৩ বছর ইসলামের শান্তি ও মানবতার বার্তা প্রচার করেন। শুধু আধ্যাত্মিক শিক্ষা নয়, কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠারও অগ্রদূত তিনি। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ইসলামী রাষ্ট্র মদিনা কল্যাণ রাষ্ট্রের প্রথম উদাহরণ।

সারাবিশ্বের দেড়শ কোটি ইসলাম ধর্মাবলম্বীর মতো বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরাও এ দিন যথাযোগ্য মর্যাদায় রাসুল (সা.) এর জন্ম ও ওফাতের দিন তথা ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালন করেন। নফল নামাজ আদায় ও রোজা রাখেন অনেকে। রাসুলের (সা.) সম্মানে কোরআনখানি, মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। এ ছাড়া বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাণী দিয়েছেন। মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানবকল্যাণে ব্রতী হতে সবার প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি। বন্ধ থাকবে সংবাদপত্রও। দেশের সব সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন ও রেডিও চ্যানেল দিনটিতে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে। সংবাদপত্রগুলোও বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করেছে।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন আলোচনা সভা, মিলাদ, দোয়া মাহফিলসহ বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলার আয়োজন করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

প্রতিবছরের মতো এবারও আশেকানে মাইজভান্ডারি জশনে জুলুশের আয়োজন করছে। আনজুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভান্ডারিসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে।

আগেএসএসসি ২০০৩ ব্যাচের পূণর্মিলনীতে প্রাণের উচ্ছ্বাস
পরেজন্মের দিনেই ইহকাল ত্যাগ করেছিলেন মহানবী মুহাম্মদ স.