মৃত্যুর আগে হলেও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম শেখ

0
2

মোহাম্মদ শফিক:
মহান মুক্তিযোদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে দেশকে স্বাধীন করার পরও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আজও বাংলাদেশ গেজেটে অর্ন্তভুক্ত হতে পারেনি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম শেখ (৭৪)। এমন কি গেল কক্সবাজার সদর উপজেলায় যাচাই-বাছাই ও ইন্টারভিউতে প্রথম হয়েছিলো তিনি এছাড়া ¯’ানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সবার সুপারিশও ছিলো। কিš‘ কেন্দ্রের অসহযোগিতা ও অর্থের কাছে হেরে গিয়ে গেজেটভ্ক্তু থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। বলেন মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ইন্ডিয়ার এলসি গ্রাম এর ৮ নং সেক্টরে গ্রেনেড প্রশিক্ষণ শেষে বাংলাদেশে গেরিলা যুদ্ধে সক্রিয় অংশ গ্রহণ করেন। সে সময় তিনি হ্যান্ড গেনেট, টিআর সেল, হ্যান্ড টিআর সেল প্রশিক্ষণ করেন। আবুল হাসেম শেখ ফরিদপুর জেলার পালং থানার নিল কান্দি গ্রামের মৃত: পাচু শেখ এর চেলে। যিনি বর্তমানে কক্সবাজার পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড এর পাহাড়তলির ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শহরের পাহাড়তলি ইসলামপুর এলাকায় একটি কুঁড়েঘরে বসবাস করেন তিনি। বেঁচে থাকার তাগিদে ৭৪ বছর বয়সে অসু¯’ শরির নিয়ে প্রতিদিন লাঠিতে ভর দিয়ে কুজো হয়ে ¯’ানীয় একটি মসজিদে মুয়াজ্জিন এর দায়িত্ব পালন করে। সেখান থেকে মাসে যা পায় ও ছেলের সামান্য ইনকাম দিয়ে সংসার চলে তাঁর। বর্তমানে খুবই অসুস্ত তিনি। কানে শুনেনা, চোখে দেখেনা, ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারেনা এমননিক বয়স্ক ভাতাটুকুও জোটেনি তার ভাগ্যে। অর্থাভাবে তার নুন্যনতম চিকিৎসা করানো কঠিন হ”েছ তার।

কক্সবাজার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এর সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধ মো: আলীসহ অনেকেই বলেন, “হাসেম শেখ একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। হয়তো সংগত কারণে তিনি গেজেটে অর্ন্তভুক্ত হতে পারেনি। তবে সরকার আবার যদি অর্ন্তভুক্ত প্রক্রিয়া শুরু করে তাহলে আমরা তাকে করায়ে নেওয়ার চেষ্টা করবো”।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম শেখ বলেন, “১৯৫১ সালে কক্সবাজার শহরের গোলদিঘি পাড়ে আমি পাম্পড্রাইভার হিসেবে নিযুক্ত ছিলাম। যখন সংগ্রাম শুরু হয় তখন আমি, আমার স্ত্রী ও যে বাড়িতে আমি ভাড়া থাকতাম বাড়ির মালিক লতিফ খলিফাসহ আমাদের ৩জনকে পাক হানাদার বাহিনীরা ধরিয়ে নিয়ে যায় এবং সাপলাই ওয়াব্দ রেস্টহাউসে বন্দি করে রাখে আমাদেরকে। এসময় আমাদের পাহারা দেওয়ার জন্য ২ জন চৌকিদার নিয়োগ করেন তাঁরা। একজন হলো এনায়েত মিটার চেকিং এবং আরেক জন হলো ¯’ানীয় চৌকিদার আব্দুল হক। পরে তাদের দু’জন এর সুপাশিক্রমে এবং আল্লাহর রহমতে আমাদের ছেড়ে দেয়। ওনারা বলেন আমি একজন পানি চাপলাইয়ের পাম্প ড্্র্াইভার। আমাকে মেরে ফেললে সবার লবাণাক্ত পানি পান করতে হবে। ছেড়ে দেওয়ার পর আমার স্ত্রীকে একটি বাড়িতে রেখে তখন আমি ভারতে চলে যায়। ভারতে চলে যাওয়ার পর সেখানে এলসি গ্রাম ৮ নং সেক্টরে হ্যান্ড গেনেট, টিআর সেল, হ্যান্ড টিআর সেল প্রশিক্ষণ দিয়। পরে বাংলাদেশে গেরিলা যুদ্ধে আমাকে পাঠানো হয়। ৯মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে শেষে ১৯৭১ দেশ স্বাধীন হয়ে বিজয়ের পতকা উড়াই। স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট যখন বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে তখন আমিও প্রাণের ভয়ে ইরানে চলে যায়। কারণ আমার নাম আবুল হাশেম শেখ এবং পিতা পাচু শেখ। পরর্বর্তীতে দেশের পরিবেশ ভালো হলে দীর্ঘ ২১ বছর পর ইরান থেকে দেশে চলে আসি। আসার পর গেজেটভুক্ত হওয়ার জন্য তখন আমি আর কোনো দরখাস্ত করিনি। সর্বশেষ যখন অনলাইনে মুক্তিযোদ্ধাদের আবেদন পক্রিয়া চলছিলো তখন আামি তবলিগ জামায়াতে ছিলাম। পরে আমি নানা চেষ্ট চালানোর পরও শাররীক অসু¯’তা ও কেন্দ্রে অর্থ দিতে পারিনি বলেই আমি এ পর্যন্ত গেজেটে অর্ন্তভুক্ত হতে পারেনি”।

এদিকে আবুল হাশেম শেখ এর লিখিত বিভিন্ন পত্রে দেখা গেছে, কক্সবাজারের সাবেক সাংসদ ও জেলা পরিষদ এর সাবেক চেয়ারম্যান এবং সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এর যাচাই বাছাই কমিটির সভাপতি, মোস্তাক আহমদ চৌধুরী, জয় বাংলাবাহিনীর প্রধান বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল হোছেন চৌধুরী, সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার, বীর মুক্তিযোদ্ধা রমজান আলী বাহাদুর, সাবেক জেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো: আলী, সয়মনসিংহ ১৮ নং ইউনিট ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর সুবেদার মেজর বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলী, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউনএনও)সহ কক্সবাজারের ¯’ানীয় অধিংকাংশ মুক্তিযোদ্ধাদের লিখিত প্রত্যায়নে প্রকৃত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সবাই তাঁর পক্ষে সুপারিশ করেছে। কিš‘ আজ পর্যন্ত অন্ত্রণালয়ের অসহযোগিতার কারণে এখনও মুক্তিযুদ্ধা হিসেবে গেজেটে অর্ন্তভুক্ত হতে পারেননি তিনি।
শেষ বয়সে হলেও যেন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলে এবং মৃত্যুর পরে যেন রাষ্ট্রীয় মর্যদায় পায় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল এর কাছে এটাই দাবী এই বীরের।

 

আগেকক্সবাজারে ডু নো হার্ম বিষয়ক দুদিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
পরে৫ ডিসেম্বর কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন