
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দাম্পত্য জীবন পুনঃউদ্ধারের আবেদন জানিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন হতভাগা এক স্বামী। গত ২৬ ফেব্রুয়ারী পারিবারিক সিনিয়র সহকারী জজ আদালত সদরে মামলাটি দায়ের করেন কক্সবাজারের রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের কোদালিয়া কাটা এলাকার আবদুল মতলবের ছেলে বেদার মিয়া প্রকাশ এনাম নামের এক ব্যক্তি।
যার পারিবারিক মামলা নং ২৭/২৩ ইং। মামলায় স্ত্রী লিমা আক্তারসহ ৪জনকে বিবাদী করা হয়েছে। তারা হলেন চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়া এলাকার নুরু মিয়ার ছেলে রাশেল, নুরু মিয়া ও হাসিনা আক্তারকে৷
মামলার আবেদন সূত্রে জানা যায়,২০১৯ সালে স্ত্রী লিমা আক্তারের সাথে সামাজিক ও ইসলামি শরিয়া মোতাবেক নিকাহনামা মূলে বেদার মিয়া প্রকাশ এনামের বিয়ে হয়। পরবর্তীতে দাম্পত্য জীবন সুুখি করতে স্ত্রী লিমা আক্তারকে সৌদি আরব নিয়ে যায় স্বামী বেদার মিয়া। সেখানে তাদের দুুই বছরের একটি সন্তানও রয়েছে।
ইত্যবসরে সৌদি আরব পুলিশের হাতে আটক হয়ে কারাভোগ করে স্বামী বেদার মিয়া। ঐ সময়ে সুচতুর স্ত্রী লিমা আক্তার পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে স্বামী বেদার মিয়ার গচ্ছিত নগদ ৩৬ হাজার (সৌদি রিয়াল)যার বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ১০ লাখ, ৮০ হাজার টাকা,১২ ভরি স্বর্ণ, সৌদি আরবের পণ্য সামগ্রীসহ ৮ টি গাইড আত্মসাৎ করে চলিত বছরের ৮ জানুয়ারি বাংলাদেশে ফিরে আসে। পরে বেদার মিয়া সৌদি জেল থেকে মুুুক্ত হয়ে জানতে পারে, স্ত্রী লিমা আক্তার পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন একই সাথে তার অর্জিত সহায় সম্পদ আত্মসাৎ করে পিত্রালয়ে অবস্থান করছে। এমন খবরে বেদার মিয়াও বাংলাদেশে চলে আসে। দেশে এসে শাশুড় বাড়ির লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে সামাজিক ভাবে একাধিক বার বসে সমাধানের চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হন, তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজের সর্দার মাতবর কারো কথা কর্ণপাত না করে অর্থ-সম্পদ আত্মসাৎ এর উদ্দেশ্য স্বামীর সংসারে ফিরে আসে না। শেষমেষ অনেকটা নিরুপায় হয়ে বেদার মিয়া বিজ্ঞ আদালতে দাম্পত্য জীবন পুনঃউদ্ধারের আবেদন করেন।
এদিকে শাশুড় বাড়ির লোকজনের প্রাণের নাশের হুমকি, অর্থ সম্পদ আত্মসাৎ,স্ত্রীর পরকীয়ায় লিপ্ত ও নিজের নিরাপত্তা চেয়ে জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলন করেছে স্বামী বেদার মিয়া।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হতভাগা স্বামী বেদার মিয়া কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, সৌদি আরব থেকে এসে তার দুই বছরের ছেলেকে দেখতে গেলে অমানুষিক ও শারীরিক নির্যাতন করে শ্বশুর বাড়ির লোকজনেরা। হামলা করতে এগিয়ে আসেন স্ত্রী লিমা আক্তারের পিতা মাতা ও ভাইয়েরা। নিজের সন্তানকে একটি বারের মতো দেখতে আকুতি, আর্তচিৎকার করেও ছেলেকে দেখতে দেয়নি শাশুড় বাড়ির লোকজন।
স্ত্রী লিমা আক্তারের সব ভুলক্রুটি মেনে নিয়ে পূনরায় দাম্পত্য জীবন সুখি করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে আদালতের আশ্রয় নেন স্বামী। তিনি বলেন, দীর্ঘ বছরের অর্জিত সম্পদ, সহায় সম্বল, স্ত্রী, ছেলে সন্তান হারিয়ে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছেন। প্রশাসন, সমাজের সমাজপতি, জনপ্রতিনিধিদের মানবিক সহযোগিতা কামনা করে দাম্পত্য জীবন পুনঃউদ্ধারের সহযোগিতা কামনা করেন এই নির্যাতিত স্বামী বেদার মিয়া।













