
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
দৈনিক যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে অবশেষে জেলার শীর্ষ ইয়াবা ডন সাইদুল হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৭ এপ্রিল)দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রামুর চাকমারকুলের ডেইঙ্গাপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
কক্সবাজার জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রফিকুল ইসলাম আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান।
অভিযোগ আছে একটি ইয়াবা মামলায় সাইদুল হোসেন তার পরিবর্তে শাহাজান নামে এক ব্যক্তিকে
টাকার বিনিময় জেলে পাঠিয়েছেন। আর এলাকায় বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সাইদুল।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার ৬ এপ্রিল দৈনিক যুগান্তরে কক্সবাজারের ইয়াবা ডন সাইদুলের আয়নাবাজি শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। তথ্যসমৃদ্ধ উক্ত সংবাদকে ঘিরে সর্ব মহলে আলোচনার ঝড় উঠে। পরে শুক্রবার দুপুরে পুলিশ সাইদুল হোসেনকে আটক করে।
জানাগেছে,কয়েক বছর ধরে সাইদুল ইয়াবার বড় বড় চালান পার করেছেন। বিভিন্ন সময় তার ইয়াবার চালান নিয়ে ১৩ মাদক বহনকারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে গেলেও সাইদুল থেকে যান পর্দার আড়ালে তবে শেষ রক্ষা হয়নি তার।
সর্বশেষ গ্রেফতার হওয়া সাইমনের দেওয়া জবানবন্দিতে ফেঁসে যান সাইদুল। এসব বিষয়ে জানতে রামুর চাকমারকুলে সাইদুলের মুখোমুখি হয় যুগান্তর। এ সময় তিনি অভিযোগ স্বীকার করে সংবাদ না করার জন্য প্রতিবেদককে ঘুসের প্রস্তাব দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৭ জুলাই রাতে রামু উপজেলার মরিচ্যা যৌথ চেকপোস্টে বিজিবির হাতে ১৯ হাজার ৬৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার হন চাকমারকুল ইউনিয়নের পশ্চিম ৯নং ওয়ার্ডের মৃত মকতুল হোসেনের ছেলে সাইমন।
ওই রাতেই সাইমনকে আসামি করে মামলা করেন ৩০ বিজিবির হাবিলদার খলিলুর রহমান। মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান রামু থানার পুলিশ পরিদর্শক এসআই মোহাম্মদ আমির হোসেন। পরে আসামি সাইমনকে দুদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সাইমনের ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী সাইদুলকে মামলার ২ নম্বর আসামি করা হয়। এছাড়া সদরের খরুলিয়া ঝিলংজা ডেইঙ্গাপাড়ার রশিদ আহামদের ছেলে আমিনকে ৩ নম্বর আসামি করে ৩১ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
অভিযোগপত্র ও আসামির স্বীকারোক্তি মতে, সাইদুল সিএনজি অটোরিকশা ক্রয় করে অন্য কারও নামে এটির মালিকানার কাগজপত্র তৈরি করেন। পরে ওই সিএনজি অটোর মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা পাচার করেন। সাইদুলের কথামতো ওইদিন সাইমন কক্সবাজার সদরে ইয়াবার চালানটি পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। তবে তার আগেই সাইমন বিজিবির হাতে ধরা পড়েন। সাইদুলের বদলি হিসাবে জেলে যাওয়া শাহাজাহান তারই (সাইমন) আপন ভাই। ১৬ মার্চ সাইদুল সেজে কক্সবাজারের একটি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন শাহাজাহান। এর আগে সাইদুলের জাতীয় পরিচয়পত্রে ছবি পরিবর্তন করে নিজের ছবি জুড়ে দিয়েছিলেন তিনি। ওইদিন থেকেই শাহাজাহান কক্সবাজার জেলা কারাগারে। তার হাজতি নাম্বার ২৩৫৩/২৩। বর্তমানে তাকে যে কোনো মূল্যে জামিনে মুক্ত করতে চেষ্টা করছেন ইয়াবা ডিলার সাইদুল।
অভিযোগ আছে, কোটি টাকার বিনিময়ে থানা পুলিশ ও আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে আদালতের সঙ্গে প্রতারণা করে তার বদলি আসামি হিসাবে শাহাজাহানকে আত্মসমর্পণ করিয়েছেন সাইদুল। অন্যদিকে টাকার বিনিময়ে এতে সহযোগিতা করেন কক্সবাজার জেলা জজকোর্টের ৩১৫নং সদস্য আইনজীবী নজিবুল আলম নজীব। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে যুগান্তরকে বলেন, অন্য সব আসামির মতো শাহাজাহানও আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। তার কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র চাইলে তিনি তা দেখান। জাতীয় পরিচয়পত্রে ছবি পরিবর্তনের বিষয়টি জানতেন না বলে জানান তিনি।











