
ওয়াহিদুর রহমান রুবেল, ২২ জুলাই ১৯ ইং
মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের কারণে উখিয়া-টেকনাফের মানুষ চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে দাবি করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, স্থানীয়দের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে বিশ্বব্যাংক সরকারকে দেড়’শ মিলিয়ন ডলার সহযোগিতা করছেন। আর এসব টাকার ৯০ভাগ ব্যয় করা হবে স্থানীয়দের সেবা নিশ্চিত করতে।
তিনি বলেন, ২০১৭ সালের আগস্ট মাস থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কারণে স্থানীয়দের স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাতে বিশ্ব ব্যাংকের কাছে ২৫০ মিলিয়ন ডলার সহযোগিতার চাওয়া হয়েছিলো। সে সময় ৫০ মিলিয়ন ডলার সহযোগিতা করলেও এবার ১৫০ মিলিয়ন ডলার সহযোগিতা করেছে বিশ্বব্যাংক।
সোমবার (২২ জুলাই) দুপুর আড়াইটায় কক্সবাজারে অভিজাত হোটেল সায়মান বীচ রির্সোট হলরুমে অনুষ্ঠিত “স্বাস্থ্য, পুষ্ঠি, জনসংখ্যা এবং লিঙ্গ সাপোর্ট” নিয়ে জেলা পরিকল্পনা ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠান শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেছেন।
মন্ত্রী বলেন, জেলা সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগ উন্নত করার পাশাপাশি আইসিও, সিসিও চালু করা হবে। এছাড়া জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে আরো শয্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে।
কক্সবাজারকে বিশ্বের একটি অন্যতম পর্যটন শহর উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত ভ্রমন করতে প্রতি বছর কয়েক লাখ পর্যটক কক্সবাজারে আসেন। এখাত থেকে সরকার প্রচুর রাজস্ব আয় করে। তাই পর্যটকদের স্বাস্থ্য বিষয়ও আমাদের নজরে রাখতে হবে। স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকলে পর্যটকরা কক্সবাজারে আসবে না।
তিনি বলেন, উখিয়া-টেকনাফে যেসব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে সেগুলো সংস্কারের পাশাপাশি প্রয়োজন মতে অবকাটামো নির্মাণ করা হবে। যেসব ইউনিয়নে কমিউনিটি ক্লিনিক নেই সেখানেও আধুনিক যন্ত্রপাতি ও জনবল সমৃদ্ধ কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হবে। আর এর পুরোটাই টেকনিক্যাল সহযোগিতা করবে বিশ্বব্যাংক।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক যেসব এনজিও সংস্থার রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন করেছে সেখানে স্থানীয়দের সেবা নিশ্চিত করতেও নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে আতংকিত হওয়ার কারণ নেই। ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ দেখা দেয়ার সাথে সাথে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা সেবা দিতে হবে। স্বাস্থ্য বিভাগ নিশ্চিত করতে চাই, সেবা না পেয়ে যেন কারো মৃত্যু না হয়। তবে, যে ক’জনের মৃত্যু হয়েছে তা দেরিতে সেবা নেয়ার কারণে হয়েছে। বন্যার কারণে এডিস মশা বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি করে তিনি আরো বলেন, মশা উৎপাদন হয় এমন সবস্থানে স্প্রে করা হয়েছে, কিন্তু যথেষ্ট ছিলো না বলে মশা বৃদ্ধি পেয়েছে। আশা করি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রনের বাইরে যাবে না।
মাতৃমৃত্যু কমাতে প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে ডেলিভারি সেন্টার চালু করা হবে। যা ২৪ ঘন্টা খোলা থাকবে। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের জন্য গাড়ির ক্রয় করা হবে। মেন্টাল হেল্প কেয়ার চালু করা হবে। মেডিকের কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য ডরমেটরি নির্মাণ করা হবে
এসময় উপস্থিত ছিলেন, বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি সিনিয়র হেল্থ স্পেশালিষ্ট (এইচএনপি গ্লোবাল প্রেকটিস) ডা: বুশরা বিনতে আলম, স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের যুগ্ন-প্রধান (পরিকল্পা) ডা: মহি উদ্দিন ওসমানি, চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ডা: হাসান শাহরিয়ার, কক্সবাজার জেলা সিভিল সার্জন আব্দুল মতিন এবং জেলা পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের ডা: পিন্টু কান্তি।













