কোন যানবাহন যেতে চায় না রামুর বৌদ্ধ মন্দির সড়কে

0
77

সুনীল বড়ুয়া :
‘চেরাংঘাটায় কাঠের তৈরী বড় বৌদ্ধ বিহারটি দেখে মন ভরে গেল। এর আশে পাশে দেখলাম দৃষ্টিনন্দন আরো চার-পাঁচটি বৌদ্ধ বিহার। একটি স্কুলও দেখলাম এই সড়কে। কিন্তু এ রকম একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের এই বেহাল অবস্থা দেখে খুব হতবাক হয়েছি’।
রামুর বৌদ্ধ মন্দির সড়কের বেহাল অবস্থা দেখে স্বপরিবারে রামুতে ভ্রমনে আসা আবু মুসা নামের এক পর্যটক এভাবেই তার প্রতিক্রিয়া জানালেন।তিনি বলেন,যে এ সড়ক দিয়ে একবার আসবে সে আর দ্বিতীয়বার আসতে চাইবেনা।
সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, রামু চৌমুহনী থেকে চেরাংঘাটা পর্যন্ত সড়কটির দৈর্ঘ্য এক কিলোমিটারেরও কম। এরমধ্যে তেলীপাড়া সেতু থেকে চেরাংঘাটা পর্যন্ত আধা কিলোমিটারের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ছোট বড় অসংখ্য গর্ত। যে কারণে প্রায় এক বছর ধরে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যেকারণে স্থানীয়দের পাশাপাশি দুর-দুরান্ত থেকে বৌদ্ধ বিহার দেখতে আসা পর্যটকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অথচ মাত্র পৌনে এক কিলোমিটার এ সড়কেই রয়েছে, চেরাংঘাটা বড় ক্যাং,লালচিং,সাদাচিংসহ ছয়টি বৌদ্ধবিহার, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জেলার সর্ববৃহৎ রামু ফকিরা বাজার। যে কারণে এখন কোন যান বাহন যেতে চায়না এ সড়কে।
জানাগেছে,২০১৭ সালে সড়কটি বন্যায় প্লাবিত হওয়ায় সড়কের কার্পেটিং উঠে বিভিন্নস্থানে ছোট বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়। সেই থেকে অব্যাবধি সড়কটি সংস্কার করা হয়নি।তাই এই বর্ষায় মানুষের দুর্ভোগ আরো বাড়বে।
স্থানীয়রা জানান, বৌদ্ধ পূরার্কীতি ও প্রত্মতাত্মিক নির্দশনের জন্য সারাদেশে রামু উপজেলা বিখ্যাত। এসব পুরার্কীতির মধ্যে পাঁচটি প্রধান বৌদ্ধ বিহার এ সড়কে অবস্থিত। তাই সারা বছর পূরার্কীতি গুলো দেখার জন্য দেশী বিদেশী পর্যটকেরা এ সড়কে চলাচল করেন। কিন্তু সড়কটির দূরাবস্থার কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে পর্যটকদের। সড়ক ভেঙে বড় গর্তে পানি জমে থাকায় আবার ছোট ছোট দূর্ঘটনাও ঘটছে। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থা হলেও সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছেনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এই সড়কের ব্যবসায়ি ও রামু পুরাকীর্তি সংরক্ষণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কেতন বড়ুয়া বলেন,সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে স্থানীয়রা তো দুর্ভোগে আছেই,পর্যটকেরাও বেশ বিরক্ত। বর্তমানে কোন যানবাহন এ সড়কেই ঢুকতে চায়না। এছাড়া বৃষ্টি হলে সড়কের গর্তগুলো এক একটা মিনি পুকুরে পরিণত হয়।
জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার বিজন বড়ুয়া তাঁর ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন,‘রামুর সবচেয়ে ব্যস্থতম সড়ক এটি। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। কিন্তু অদৃষ্ট কারণে প্রায় তিন-চার বছর ধরে এ সড়কটি সংস্কার হচ্ছেনা। এমনকি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অনেকবার বলা হলেও কোন কাজ হয়নি’।
রামু ডিগ্রী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শিক্ষাবিদ প্রফেসর মোশতাক আহমদ জানান, বৌদ্ধ মন্দির সড়কটি শুধুমাত্র পূরার্কীতির জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, জেলার সবচেয়ে বড় ফকিরা বাজার, বাঁশ বাজার এবং পাবর্ত্য উপজেলা নাইক্ষ্যংছড়ি ও রামুর পূর্বাঞ্চল গর্জনিয়া কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের সাথে যোগাযোগের প্রধান সড়ক এটি। গুরুত্ব বিবেচনা করে সড়কটির দ্রুত সংস্কার জরুরী।
রামুর নবাগত উপজেলা নির্বাবাহী অফিসার (ইউএনও) প্রণয় চাকমা জানান,রামু প্রাণকেন্দ্র চৌমুহনী। সড়কের বেহাল অবস্থাসহ এই চৌমুহনীর আশপাশেই নানা সমস্যা বিদ্যমান।সড়ক সংস্কার,চৌমুহনীর যানজট নিরসন,যানবাহন ব্যবস্থায় শৃংখলা ফেরানোসহ এসব সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আগেঈদগাঁওতে সড়ক-উপসড়কে যত্রতত্র গাড়ী পার্কিং : ভোগান্তি চরমে
পরেমহেশখালীতে বিদ্যুতের ছেঁড়াতার সরাতে গিয়ে স্কুৃল ছাত্রী কানিজের মৃত্যু