কক্সবাজার খবর ডেস্কঃ
কক্সবাজার পৌর শহরের একদিকে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনার স্তুপ অন্যদিকে সড়ক ও নালা-নর্দমাগুলোর বেহাল দশা সৃষ্টি হওয়ায় পৌরবাসীদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। সাগর পাড়ের স্বাস্থ্যকর স্থান হিসাবে পরিচিত শহরটি বর্তমানে ময়লা-আবর্জনার শহরে পরিণত হয়েছে। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনায় ভরে গেছে পৌর শহরের বেশীর ভাগ এলাকা। চলাচলের সড়ক ও উপ সড়কগুলো গর্ত আর খানা-খন্ধকে পরিণত হয়েছে। শহরের ময়লা-আবর্জনার কারণে ডেঙ্গু মশার প্রজননের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি দেখা দিয়েছে। আর এমন অবস্থা মোকাবেলা করতে নানা সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।
শহরের সড়কগুলো ভাঙ্গাচুরা এবং ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হওয়ায় জনজীবন বিষিয়ে উঠেছে। নালা-নর্দমা ভরাটের কারণে এবং অনেক সড়কে নর্দমা না থাকায় একটুখানি বর্ষণ হলেই সড়ক উপচিয়ে পানিতে সয়লাব হয়ে পড়ে দেশের প্রধান পর্যটন শহরটি। শহরের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ। শুধু রাস্তার পাশে নয় নালায়ও ফেলা হয় ময়লা-আবর্জনা।
আবার দিনের ব্যস্ততম সময়ে খোলা ট্রাকে করে ময়লা আবর্জনা নিয়ে যাওয়ার সময় দুর্গন্ধময় হয়ে উঠে পুরো শহর। খোলা ট্রাক থেকে কিছু কিছু ময়লা রাস্তায় পড়ে যায়। তখন পথচারিদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শহরের সৈকত বালিকা মাদরাসা সড়কের আশে-পার্শ্বে ডাব-নারিকেলের ছোবড়ার স্তুপ নিয়ে এমন সময়ে সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সাগর তীরের ঝাউবিথীর আড়ালেও ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে।
শহরের একমাত্র প্রধান সড়কটির কারনে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে পৌরবাসী। পশ্চিমে হলিডে মোড় থেকে পূর্বে বাস টার্মিনাল পর্যন্ত তিন কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা মারাত্মক খারাপ। প্রতি দিনই খানাখন্ধকে পড়ে যানবাহন দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে। সড়কটির মালিকানা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে শহরবাসীর মধ্যে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ছিল। কেউ বলে পৌরসভা, কেউ বলে সওজ আবার কারও মতে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)।
এসব কারণে কেউই এগিয়ে আসছে না জরুরিভাবে সংস্কারের কাজ করতে। সর্বশেষ গত ক’দিন আগে কামাল হোসেন চৌধুরী নামের স্থানীয় একজন প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা একটি অনুষ্ঠানে সড়কের সংস্কারের দাবিতে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেন। এমন ঘোষণার পরই কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ (সওজ) কর্তৃপক্ষ আজ স্থানীয় ভাবে প্রচারণার মাধ্যমে জানিয়ে দেয়-বাস্তবে সড়কটি কউক কর্তৃপক্ষের।
এদিকে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) সচিব আবু জাফর রাশেদ জানান, গেল বছরের অক্টোবর মাসে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভার মাধ্যমে প্রধান সড়কটি সওজ কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে কউক কর্তৃপক্ষের আওতায় আনা হয়েছে। সড়কটির সৌন্দর্য বর্ধণের একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে, যা একনেকে অনুমোদন হয়েছে। শীঘ্রই সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার কাজও শুরু হবে।
অপরদিকে প্রধান সড়ক ব্যতিত অন্যান্য সড়ক, উপ সড়ক ও নালা-নর্দমা সংস্কার এবং নিয়ে রাস্তার ধারে ও নালায় ময়লা জমে থাকার কারণে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। যে সব ময়লা নিয়ে যাওয়া হয় তা ফেলা হচ্ছে বাঁকখালী নদীতে। এতে দুষিত হয়ে পড়ছে নদী। দুর্গন্ধ আর দূষণের শহরে পরিণত হয়ে উঠেছে কক্সবাজার পৌর শহর।
এসব বিষয়ে কক্সবাজার পৌরসভার কিছু চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছেন পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান। তিনি জানান, কক্সবাজার পৌরসভায় জনগন বেড়েছে, বর্ধিত হয়েছে পৌরসভা। কিন্তু সে অনুপাতে পৌরসভায় জনবল বাড়েনি, বাড়েনি কোন সুযোগ সুবিধাও। পৌরসভার উপর জনগণের নানাভাবে চাপ বেড়েছে। চাপ পড়েছে রাস্তা ও নালার উপর। এসব সমস্যা সমাধানে এখনো সরকারি কোন বরাদ্ধ পাওয়া যায়নি। নাগরিকদের কর বাড়ানো হয়নি। সীমিত আয়ে চলছে পৌরসভার কার্যক্রম।
পৌর মেয়র আরো জানান, দেড়শ বছরের পুরানো পৌরসভাটিতে ময়লা আবর্জনা ফেলার জন্য কোন ডাম্পিং স্টেশন নেই। ফলে বাধ্য হয়ে পৌরবাসীর এসব আবর্জনা ফেলা হচ্ছে বাকঁখালী নদীর পাড়ে। আবার ময়লা-আবর্জনা নিক্ষেপের কারনে নদী থেকে সাগরও হয়ে দূষিত হবার আশংকা রয়েছে।সুত্রঃ কালের কন্ঠ।













