ডেঙ্গুর প্রকোপ : যেভাবে কাজ করতে চেয়েছিলেন আনিসুল হক

0
39

কক্সবাজার খবর ডেস্ক :

আধুনিক ঢাকার রূপকার এবং সত্যিকারের নগরদরদি মানুষ ছিলেন প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক। তিনি মানুষের কথা বলতেন, সমস্যার সমাধানে সচেষ্ট হতেন। ছিলেন উন্নয়নে বিশ্বাসী। নগরীর প্রতিটি কোণে ঘুরে ঘুরে নানা সমস্যা ও দুর্দশা চিহ্নিত করে সমাধানে ব্রতী হতেন। তাইতো রাজধানীসহ সারা দেশে যখন ডেঙ্গু মহামারি রূপ ধারণ করেছে। তখন ঢাকাবাসী ঘুরে ফিরেই স্মরণ করছেন আনিসুল হকের কথা। অনেকেই বলছেন তিনি থাকলে সমস্যা এতদূর গড়াতো না। আর এসবের প্রেক্ষিতে প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের ছেলে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। যা জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘বাবা কোনো সুপারম্যান ছিলেন না। বাবা ছিলেন একজন সুপার প্ল্যানার, একজন সুপার ম্যানেজার। বাবা ছিলেন একজন সুপার মেয়র। বাবা মেয়র হয়ে আসার আগেই মশা নিয়ে কী করা যায় তা নিয়ে চিন্তা শুরু করেছিলেন। উনি জানতেন, যে ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে তার কর্মক্ষমতা কমে গিয়েছে। মশার ধরণ বদলানোর সাথে সাথে ওষুধও বদলাতে হবে। এর জন্য তাঁর ওপেন অফার ছিল, যে কোম্পানি ওষুধের কার্যকারিতা দেখাতে পারবে তাকেই সুযোগ দেয়া হবে ওষুধ সরবরাহ করার জন্য। কিন্তু ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব কোনো পরীক্ষাগার ছিল না। উনি বুঝতে পেরেছিলেন ওষুধ যত না গুরুত্বপূর্ণ ঠিক ততটুকু গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সিটি কর্পোরেশনের অভ্যন্তরীণ কর্ম ব্যবস্থাপনা, সুশাসন, সহ্যক্ষমতা ও জবাবদিহিতা। এই সব বিষয় ঠিক না করলে কোনো ধরণের কাজই ঠিকভাবে করা সম্ভব না। নতুন ওষুধ খোঁজার পাশাপাশি তাই শুরু হল সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ।’

‘আরও পরিকল্পনা ছিল একটি ডেটাবেজ তৈরি করার, যার মধ্যে প্রতিদিন কোন হাসপাতালে কত ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং তারা কোন এলাকা থেকে এসেছেন সেটি ট্র্যাক করা। কোন এলাকায় বেশি বর্জ্য পাওয়া যাচ্ছে, কী ধরণের বর্জ্য পাওয়া যাচ্ছে সেগুলো ট্র্যাক করা।’

‘ডেটা অ্যানালাইসিস করে দেখা যেত কোন কোন এলাকাতে আরও জোরালোভাবে কাজ করা প্রয়োজন। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে প্রযুক্তির সবরকমের ব্যবহার করাই ছিল পরিকল্পনা। ‘নগর’ অ্যাপটি ছিল তার একটা ছোট অংশ, যার মাধ্যমে নগরবাসীর দুর্ভোগগুলোর একটি এলাকাভিত্তিক ডেটাবেজ তৈরি করার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছিল।’

‘ডেঙ্গু দমন করতে শুধু ওষুধ আর সচেতনতা দিয়ে হবে না। দরকার প্রযুক্তিভিত্তিক শহর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা। বিগ ডেটা, মোবাইল ট্র্যাকিং, জিপিএস, আইওটি ব্যবহার করে ঢাকার মতন সমস্যাজর্জরিত শহরকে একটু হলেও ভাল করা সম্ভব।’

আগেবঙ্গবন্ধুর রক্তের ঋণ শোধ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী
পরেএই শহরে একজন সুপারম্যান এসেছিলো !