প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের ছেলে নাভিদুল হকের ফেইসবুক হতে :
বাবা কোনো সুপারম্যান ছিলেন না। বাবা ছিলেন একজন সুপার প্ল্যানার, একজন সুপার ম্যানেজার। বাবা ছিলেন একজন সুপার মেয়র। বাবা মেয়র হয়ে আসার আগেই মশা নিয়ে কী করা যায় তা নিয়ে চিন্তা শুরু করেছিলেন। উনি জানতেন, যে ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে তার কর্মক্ষমতা কমে গিয়েছে। মশার ধরণ বদলানোর সাথে সাথে ওষুধও বদলাতে হবে। এর জন্য তাঁর ওপেন অফার ছিল, যে কোম্পানি ওষুধের কার্যকারিতা দেখাতে পারবে তাকেই সুযোগ দেয়া হবে ওষুধ সরবরাহ করার জন্য। কিন্তু ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব কোনো পরীক্ষাগার ছিল না। উনি বুঝতে পেরেছিলেন ওষুধ যত না গুরুত্বপূর্ণ ঠিক ততটুকু গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সিটি কর্পোরেশনের অভ্যন্তরীণ কর্ম ব্যবস্থাপনা, সুশাসন, সহ্যক্ষমতা ও জবাবদিহিতা। এই সব বিষয় ঠিক না করলে কোনো ধরণের কাজই ঠিকভাবে করা সম্ভব না। নতুন ওষুধ খোঁজার পাশাপাশি তাই শুরু হল সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ।
প্রযুক্তি টুকটাক বুঝি বলে বাবা আমার পরামর্শ চাইলেন। আমরা ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে কিভাবে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায় সেটার ওপর কাজ শুরু করলাম। শুধু মশাতেই যদি আসি তাহলে এখন বড় সমস্যা হচ্ছে, মশার ওষুধ কি আসলেই দেওয়া হচ্ছে কি না, এইটাই আমরা জানি না। সবাই ফেইসবুক-এ লিখছেন, দিনের পর দিন কাউকে ওষুধ দিতে দেখা যায় না। মেয়র আতিক আঙ্কেল সেদিন একই কথা বললেন। খুব সহজ একটি ওয়ার্কফোর্স ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ দিয়ে প্রতিদিন ওষুধ ছিটানোর রুট প্ল্যান তৈরি করে দিয়ে সহজভাবে জিপিএস ট্র্যাকিং করে দেখার পরিকল্পনা ছিল। মশক নিধন কর্মী ছাড়াও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীসহ সুপারভাইজাররা প্রতিদিন সবাই যার যার এলাকায় ঠিক মতন কাজ করছে কি না, তাও এই অ্যাপের সাহায্যে বের করা যেত। তারা কাজের ছবি এবং ভিডিও আপলোড করলে সুপারভিশনের কাজটাও ঠিক মতন হতো । অ্যাপের আগেই ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সব কর্মীকে ২০০০ মোবাইল ট্র্যাকিং সিম দেওয়া হয়েছিল, যেন স্মার্টফোন না থাকলেও তাদের ট্র্যাক করে দেখা যায় তারা এলাকাতে কাজ করছে কি না। এর বাইরেও পরিকল্পনা ছিল একই ধরণের জবাবদিহিতার ভেতর প্রতিটি বিভাগকে নিয়ে আসা।
আরও পরিকল্পনা ছিল একটি ডেটাবেজ তৈরি করার, যার মধ্যে প্রতিদিন কোন হাসপাতালে কত ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং তারা কোন এলাকা থেকে এসেছেন সেটি ট্র্যাক করা। কোন এলাকায় বেশি বর্জ্য পাওয়া যাচ্ছে, কী ধরণের বর্জ্য পাওয়া যাচ্ছে সেগুলো ট্র্যাক করা।
ডেটা অ্যানালাইসিস করে দেখা যেত কোন কোন এলাকাতে আরও জোরালোভাবে কাজ করা প্রয়োজন। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে প্রযুক্তির সবরকমের ব্যবহার করাই ছিল পরিকল্পনা। ‘নগর’ অ্যাপটি ছিল তার একটা ছোট অংশ, যার মাধ্যমে নগরবাসীর দুর্ভোগগুলোর একটি এলাকাভিত্তিক ডেটাবেজ তৈরি করার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছিল।
প্রযুক্তি টুকটাক বুঝি বলে বাবা আমার পরামর্শ চাইলেন। আমরা ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে কিভাবে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায় সেটার ওপর কাজ শুরু করলাম। শুধু মশাতেই যদি আসি তাহলে এখন বড় সমস্যা হচ্ছে, মশার ওষুধ কি আসলেই দেওয়া হচ্ছে কি না, এইটাই আমরা জানি না। সবাই ফেইসবুক-এ লিখছেন, দিনের পর দিন কাউকে ওষুধ দিতে দেখা যায় না। মেয়র আতিক আঙ্কেল সেদিন একই কথা বললেন। খুব সহজ একটি ওয়ার্কফোর্স ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ দিয়ে প্রতিদিন ওষুধ ছিটানোর রুট প্ল্যান তৈরি করে দিয়ে সহজভাবে জিপিএস ট্র্যাকিং করে দেখার পরিকল্পনা ছিল। মশক নিধন কর্মী ছাড়াও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীসহ সুপারভাইজাররা প্রতিদিন সবাই যার যার এলাকায় ঠিক মতন কাজ করছে কি না, তাও এই অ্যাপের সাহায্যে বের করা যেত। তারা কাজের ছবি এবং ভিডিও আপলোড করলে সুপারভিশনের কাজটাও ঠিক মতন হতো । অ্যাপের আগেই ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সব কর্মীকে ২০০০ মোবাইল ট্র্যাকিং সিম দেওয়া হয়েছিল, যেন স্মার্টফোন না থাকলেও তাদের ট্র্যাক করে দেখা যায় তারা এলাকাতে কাজ করছে কি না। এর বাইরেও পরিকল্পনা ছিল একই ধরণের জবাবদিহিতার ভেতর প্রতিটি বিভাগকে নিয়ে আসা।
আরও পরিকল্পনা ছিল একটি ডেটাবেজ তৈরি করার, যার মধ্যে প্রতিদিন কোন হাসপাতালে কত ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং তারা কোন এলাকা থেকে এসেছেন সেটি ট্র্যাক করা। কোন এলাকায় বেশি বর্জ্য পাওয়া যাচ্ছে, কী ধরণের বর্জ্য পাওয়া যাচ্ছে সেগুলো ট্র্যাক করা।
ডেটা অ্যানালাইসিস করে দেখা যেত কোন কোন এলাকাতে আরও জোরালোভাবে কাজ করা প্রয়োজন। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে প্রযুক্তির সবরকমের ব্যবহার করাই ছিল পরিকল্পনা। ‘নগর’ অ্যাপটি ছিল তার একটা ছোট অংশ, যার মাধ্যমে নগরবাসীর দুর্ভোগগুলোর একটি এলাকাভিত্তিক ডেটাবেজ তৈরি করার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছিল।
ডেঙ্গু দমন করতে শুধু ওষুধ আর সচেতনতা দিয়ে হবে না। দরকার প্রযুক্তিভিত্তিক শহর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা। বিগ ডেটা, মোবাইল ট্র্যাকিং, জিপিএস, আইওটি ব্যবহার করে ঢাকার মতন সমস্যাজর্জরিত শহরকে একটু হলেও ভাল করা সম্ভব।https://web.facebook.com/huqnavid?__tn__=%2Cd*F*F-R&eid=ARCwWDrLm_3orz3yiPJEqO_mQ1J5ZJ4o-1agTVZbEYBaU63A9UsWz0sFIHguI6ZK4JpcOanygUPBhOrQ&tn-str=*F













