কুরবান আলীর গরুর রচনা! -মির্জা ওবাইদ রুমেল

0
40

 

গরু গৃহপালিত পশু এবং উপকারী প্রাণী।স্ত্রী গরু আমাদের দুধ-মাংস-বাঁচুর সহ অনেক কিছু দেয়।পুরুষ গরু বীর্য দেয়, ষাঁড়ের লড়াই’য়ে নেমে বীর উপাধীতে ভূষিত হয়।বলদ গরু হালচাষ ও বোঝা বহন কাজে লিপ্ত থাকে। অন্যান্য শ্রেণীর নানা বয়সী গরু মাঠে চরে বেড়ায় এবং তিড়িং-বিড়িং লাফায়।

ছাগল-মহিষ-ভেড়া-দুম্বা-উট-গয়াল’দের চেয়ে গরু’রা সংখ্যাগরিষ্ট বিধায় তারা শিংধারী ক্ষমতাধর এবং সূখি প্রাণী।চার পা’ বিশিষ্ট গরু’দের দু’পা বিশিষ্ট বন্ধু আছে।সারা বছর গরুপ্রীতি থাকে রাখালদের। হিজরী সনের জিলহজ্ব মাসে দু’পা আর চার’পা বিশিষ্ট গরুদের মধুর মিলন হয়।

কে বলদ,কে ষাঁড়, কে গুদেলা গাভী বুঝা মুশকিল হয়ে যায়।কারণ দু’পদে আর চতুষ্পদে মহামিলনে বিলীন হয়ে যায়।হাঁট থেকে সুদের-ঘুষের-দূর্নীতির-ত্রাণের-মাদকের-মাগীর দালালীর টাকায় বরযাত্রার বেশে গরু কিনে দাঁত কেলানো হাসি দিয়ে ছবি তুলতে তুলতে বাড়ী ফিরে কুরবান আলীরা।

তাদের অনুচর’রা গরুর গলায় পুষ্পমাল্য দিয়ে সম্মান প্রর্দশন করে,বলদের বদা’য় তৈল দিয়ে যত্ন নেয়,লম্বা ছুরি-চাপাতি’তে ধার দিতে দিতে ষাঁড়ে মূল্য উচ্চারণে গরুদীপ্ত গৌরবের সৌরভ ছড়ায়।কুরবান শব্দের অর্থ বিসর্জন হলেও সময়ে তাড়নায় কুরবান শব্দের অর্থ এখন প্রর্দশন।

ঈদুল আযহা’য় মানবতার আজাহারি দেখার-শোনার সময় তাদের নাই।কুরবান আলীদের গরু’র রচনায় পুরো দেশ পরিণত হয়েছে Cow @ Cow herd’এ। এখন গরুবান্ধব সমাজে বদলেছে অনেক কিছু,সংযমের মাসে চলে সংগম,বির্সজনের মাসে প্রর্দশন।

ত্যাগের ক্ষেত্রে গরু এবং গরু বন্ধুদের দুর্দান্ত মিল আছে।গরু’র ত্যাগ মানে গোয়ালে’র গোবর,কুরবান আলীদের ত্যাগ মানে ইংলিশ কমেট। তাদের ত্যাগের রক্ত-নাড়ীভূঁড়ি ও বর্জ্যের গন্ধ কাল থেকে যথারীতি বাতাসে ছড়াবে। বাতাস দুষিত হওয়া’টাই নিয়ম,কারন-আমাদের দেশে ধর্মের কল বাতাসে নড়ে!

(-মির্জা ওবাইদ রুমেল,লেখক-সাংবাদিক ও সাবেক ছাত্রনেতা,কক্সবাজার।)

সুত্রঃ মুক্তমুখ

আগেচিরকুটে অপবাদকারীদের বিচার চেয়ে মাদ্রাসা ছাত্রীর আত্মহত্যা!
পরেহাজতে গণধর্ষণ : সেই ওসি-এসআই ক্লোজড