মাহাবুবুর রহমান ও মনতোষ বেদজ্ঞ :
রোহিঙ্গারা প্রত্যাবাসনে প্রস্তুতি শুরু হতে না হতেই কিছু বিদেশি সংস্থার লোকজন তৎপর হয়ে উঠেছে প্রত্যাবাসন বিরোধী কাজে। ওইসব সংস্থার মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মিয়ানমারের ফেরার ব্যাপারে রোহিঙ্গাদের নানাভাবে নিরুৎসাহিত করছে। এতে স্বদেশে ফেরা নিয়ে রোহিঙ্গাদের মাঝে দ্বিধা ও অনিশ্চয়তার মনোভাব তৈরী হচ্ছে।
আগামী ২২ আগস্ট প্রথম ধাপে সাড়ে তিন হাজার রোহিঙ্গাকে গ্রহণ করতে প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে মিয়ামনার। তবে ক্যাম্পগুলোতে প্রত্যাবাসনবিরোধী উস্কানিদাতাদের নিবৃত্ত করা না গেলে ফের এ উদ্যোগ হোঁচট খেতে পারে বলে শঙ্কা রয়েছে।
কক্সবাজারে সক্রিয় ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রত্যাশী’ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কিছু বিদেশি দাতা সংস্থা ও এনজিওর কর্তাব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। প্রত্যাবাসন কার্যক্রম বিঘ্নিত করতে পর্দার আড়ালে থেকে তারা কলকাঠি নাড়ছেন। বিদেশী এনজিওর প্রত্যাবাসন বিরোধী তৎপরতার কারনেই গত বছরের ১৫ নভেম্বর প্রথম দফায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ ভেস্তে যায়। তখন শেষ মুহুর্তে ক্যাম্পে অবস্থানকারী রোহিঙ্গারা স্বদেশে ফিরতে অনীহার কথা জানায়। তারা প্রত্যাবাসন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে নানা দাবি-দাওয়া নিয়ে প্রতিবাদ জানায়। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে এবারও রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরানোর উদ্যোগের সফলতা নিয়েও সংশয় থাকছে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আন্দোলনের সভাপতি মাহমুদুল হক চৌধুরী বলেন, ‘এবারও যদি রোহিঙ্গারা বলে, তারা মিয়ানমারে যেতে নিরাপদবোধ করছে না, তাহলে কি হবে? তাহলে কি গত বছরের মতো এবারও ঝুলে যাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া? আমি মনে করি, রোহিঙ্গারা যেহেতু মিয়ানমারের নাগরিকÑ তাদের নিজ দেশে নিরাপত্তাহীনতা যাতে তৈরি না হয়, সেই নিশ্চয়তা মিয়ানমারকেই দিতে হবে। এ নিয়ে চতুরতার আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ নেই। খোলা মন নিয়ে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে। কেননা বাংলাদেশ যুগের পর যুগ রোহিঙ্গাদের বোঝা টানবে না। এই দায় থেকে আমাদেরকে দ্রুত মুক্তি দিতে হবে। এ বিষয়ে আমরা কোন গোষ্ঠীর অপতৎপরতা বা কোন সংশ্লিষ্ঠ কোন পক্ষের কোন অজুহাত দেখতে চাই না।’
স্থানীয় সচেতন লোকজনের অভিযোগ, সম্প্রতি দ্বিতীয় দফায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরু হলে বিদেশি সংস্থাগুলো ত্রাণ তৎপরতা বাড়িয়ে দেয়। বিদেশি এনজিওগুলোর বরাদ্দের ২৫ শতাংশ স্থানীয়দের সহায়তায় ব্যয় করার কথা থাকলেও কার্যত তা বাস্তবায়ন হচ্ছে সামান্যই। অল্প সংখ্যক স্থানীয় জনগোষ্ঠী সেই সহায়তার আওতায় আসছে। বরাদ্দকৃত অধিকাংশ অর্থ তাদের দেশী বিদেশীকর্মকর্তাদের বেতন ভাতা ও যাতায়াতে ব্যয় করা হচ্ছে। অপরদিকে রোহিঙ্গারা বেশি ত্রান পাওয়ায় ত্রানের বড় অংশ তারা বিদেশি এনজিওগুলোর নির্ধারণ করা রেশনের দোকানে বিক্রি করে দেয়। কিছু বিদেশি সংস্থার মাঠ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরার বিষয়ে নানা নেতিবাচক কথা বলে নিরুৎসাহিত করে।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় কাজ করা সংস্থাগুলোর জোট ইন্টার সেক্টর কো-অর্ডিনেশন গ্রুপ (আইএসসিজি) এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈকত বিশ^াস অধিকাংশ সময় শরনাথী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ে অবস্থান করেন। সেখান থেকে তথ্য নিয়ে প্রত্যাবাসন বিরোধী তৎপরতা চালান। কয়েকদিন আগে শরনাথী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের একটি বৈঠকে জোরপূর্বক ঢুকে পড়েন ওই কমকর্তা। এ নিয়ে এক কর্মকর্তার সাথে তার বাদানুবাদও হয়। সর্বশেষ গত রোববার অনুষ্ঠিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্পর্কিত টাস্কফোর্স কমিটির সভায়ও বিদেশি সংস্থার একজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
গত মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ওখানে কিছু এনজিও আছে। ধারণা করা হচ্ছে, আমাদের গোয়েন্দা রিপোর্টেও সেগুলো লক্ষ্য করছি, অনেক এনজিও ইল মোটিভ (অসৎ উদ্দেশ্য) নিয়ে কাজ করছে। আপনারা শুনলে অবাক হবেন যে, গত সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত (রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করা এনজিওগুলো) হোটেল বিল দিয়েছে ১৫০ কোটি টাকার উপর। ফ্ল্যাট বাড়ি ভাড়া দিয়েছে আট কোটি টাকারও বেশি। বিদেশ থেকে যে টাকা আনে সেটা ভুক্তভোগী অর্থাৎ রোহিঙ্গাদের জন্য ২৫ শতাংশও খরচ হয় না। ৭৫ ভাগই খরচ হয় এগুলো দেখাশোনা করার জন্য, ওনাদের (এনজিওকর্মী) জন্য। এটা খুবই দুঃখজনক।’
সংশ্নিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, মিয়ানামারের ছাড়পত্র পাওয়া ৩,৩০০ রোহিঙ্গার একটি তালিকা জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুই দেশের সঙ্গে ইউএনএইচসিআর-এর এ বিষয়ে চুক্তি রয়েছে। রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরতে আগ্রহী কি-না সাক্ষাৎকার গ্রহণের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করবেন ইউএনএইচসিআর কর্মকর্তারা। এরপর তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে।
রোববার অনুষ্ঠিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্পর্কিত টাস্কফোর্সের সভায় একজন কর্মকর্তা অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে প্রশ্ন তুলে বলেন, ইউএনএইচসিআর কর্মকর্তারা সাক্ষাৎকার গ্রহণের নামে রোহিঙ্গাদের ফেরত না যেতে প্রভাবিত করেন। এখন থেকে স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফেরত যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎকার গ্রহণের সময় ইউএনএইচসিআর এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের কর্মকর্তারা যৌথভাবে উপস্থিত থাকবেন। সংশ্নিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, যেসব রোহিঙ্গার ছাড়পত্র পাওয়া গেছে, তারা ফিরতে রাজি হলে ৯টি দফায় তাদের ফেরত পাঠানো হবে। এ ব্যাপারে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার নুরুল আলম নেজামী সাংবাদিকদের বলেছেন, ২২ আগস্ট প্রত্যাবাসন নিয়ে আমরা ইতিমধ্যে প্রস্তুতি শেষ করেছি। আনুষঙ্গিক যেসব প্রক্রিয়া রয়েছে তা সম্পন্ন করা হচ্ছে।
কক্সবাজার সোসাইটির সভাপতি ও কক্সবাজার সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘প্রত্যাবাসন বিরোধী যে কোনো রকম তৎপরতা শক্ত হাতে দমন করার বিকল্প নেই। এ জন্য রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও ক্যাম্পের বাইরে গোয়েন্দা নজরদারি জোরালো করা দরকার। এনজিও বা যেসব মহল রোহিঙ্গাদের ভুল ধারণা দিয়ে উসকে দিতে বা পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে সচেষ্ট রয়েছে, তাদের ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে প্রশাসনকে।’
মিয়ানমার সেনা বাহিনির চরম অত্যাচার নির্যাতন ও গণহত্যার কারনে পার্শবর্তি দেশ মায়ানমার থেকে ২০১৭ সালে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ২ বছরের মাথায় কিছু সংখ্যক রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানো পক্রিয়া অনেকটা চড়ান্ত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। তবে ভেতরে ভেতরে আবারো প্রত্যাবাসন না হওয়ার জন্য নানামূখি ষড়যন্ত্র চলছে বলে জানান সচেতন মহল।
উখিয়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন,সরকারি ভাবে যতই বলা হওক রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন করা হবে আমি ব্যাক্তিগত ভাবে মোটেও বিশ^াস করতে পারছিনা রোহিঙ্গারা ফেরত যাবে। কারণ আমরা ইতিপূর্বে দেখেছি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হওয়ার দিনক্ষণ ঠিক করা হলেও সে দিন রোহিঙ্গারা সরাসরি মিছিল সমাবেশ করেছিল। সে সময় বেশ কিছু দেশী বিদেশী আর্ন্তজাতিক সংন্থার ষড়যন্ত্র প্রকাশ হলেও কোন পদক্ষেপ নেয়নি সরকার। বর্তমানে ও আমরা খবর পাচ্ছি বেশ কয়েকটি দেশী বিদেশী সংস্থা এবং কিছু ব্যাক্তি প্রত্যাবাসন বিরোধী ষড়যন্ত্র করছে। তারা ক্যাম্পে টাকা দিয়ে বিদ্রোহ করানোর জন্য কাজ করছে এছাড়া ইতিমধ্যে রোহিঙ্গাদের ত্রাণ সহায়তা বাড়িয়ে দিয়েছে।
উখিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন,আমরা শুরু থেকে বলে আসছিলাম রোহিঙ্গাদের বেশি পশ্রয় না দিতে। কিন্তু কিছু এনজিও সংস্থা রোহিঙ্গাদের চাকরী দিয়ে,বিপুল পরিমান ভাতা দিয়ে,নানা ধরনের প্রশিক্ষণ দিয়ে সরকারি সুযোগ সুবিধা দিয়ে মিছিল মিটিং করার অনুমতি দিয়ে তাদের লোভী করে তুলেছে। এখন বেশির ভাগ রোহিঙ্গা নিজ দেশে ফিরতে রাজি নয়। এছাড়া তারা যে দাবী করছে সেটা তাদের দেশের নিজস্ব সাংবিধানিক বিষয়। হয়তো সব দাবী একসাথে পূরণ নাও হতে পারে। এখন তারা যদি সব দাবী এখানে থেকে পূরণ করতে চায়সেটা কোন দিনও হবেনা। আর প্রত্যাবাসন ও হবে না।
টেকনাফ উপজেলা কৃষকলীগ নেতা আবুল হোসেন রাজু বলেন,২২ আগষ্ট রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের দিনক্ষন ঠিককরা হয়েছে বলে জেনেছি। তবে এখানে হাটেবাজারে খবর ছড়িয়ে পড়েছে কোন রোহিঙ্গা যাবে না। কারন এনজিওরা তাদের যেতে দিবেনা। এমনকি যাদের নামে ফরম পূরণ করা হয়েছে তাদের বিভিন্ন কৌশলে বিদ্রোহ করানো পরিকল্পনা করছে।তিনি দাবী করেন ২০১৭ সালে রোহিঙ্গারা আসার পরে তাদের শারিরিক মানসিক যে অবস্থা ছিল বর্তমানে ১২ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে কোন রোহিঙ্গার সেই শারিরিক মানসিক অবস্থা নেই। সবাই এখন বেশ তরতাজা এবং মানসিক ভাবে চাঙ্গা। কারন তারা আগে সে স্বাধীনতা পায়নি বর্তমানে সব ধরনের স্বাধীনতা পাচ্ছে। ভাল বেতনে চাকরী করতে পারছে ব্যবসা করছে পারছে। ভাল ফ্রি খাবার পাচ্ছে,ঔষধ পাচ্ছে। তাই এতসব সুবিধা ছেড়ে মায়ানমারে ফেরত যাবে বলে মনে হয়না।
কক্সবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম বলেন, ২২ আগস্ট রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার প্রস্তাব করেছে। তাই আমরা সে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। যেসব রোহিঙ্গা পরিবার মিয়ানমারের ছাড়পত্র পেয়েছে সেসব রোহিঙ্গার বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ইউএনএইচসিআর এর প্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে রোহিঙ্গাদের মতামত গ্রহণ কাজ মঙ্গলবার থেকে শুরু করা হবে।
শরণার্থী কমিশনার আবুল কালাম আরও জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে নদী পথে নয়; সীমান্ত পথ বান্দরবানের ঘুমধুম ট্রানজিট ঘাট দিয়ে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। যেসব রোহিঙ্গা স্বেচ্ছায় যেতে আগ্রহী কেবল তাদেরকেই পাঠানো হবে। প্রাথমিক ভাবে মিয়ানমারের ছাড়পত্র দেয়া ৩৪৫০ জনের তালিকায় হিন্দু কিংবা খ্রিস্টান রোহিঙ্গাদের নাম নেই বলেও জানান তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই পর্যন্ত ২২ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা হস্তান্তর করা হয়েছে। এই তালিকা থেকে মাত্র ৩ হাজার ৪৫০ জনের অনুমোদন দিয়েছে মিয়ানমার। এদের নিয়ে প্রত্যাবাসন শুরু করতে তাগাদা দিচ্ছে মিয়ানমার। বাংলাদেশও দ্রুত প্রত্যাবাসন শুরু করতে চায়। তবে রোহিঙ্গারা স্বদেশে ফিরতে রাজি হবে কিনা এই নিয়ে এখনও সন্দেহ সংশয় রয়েছে। এর আগে গত বছরের ১৪ নভেম্বর প্রত্যাবাসন শুরু করার সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু রোহিঙ্গারা স্বদেশে ফিরে যেতে রাজি হয়নি। ফলে প্রত্যাবাসন শুরু করা সম্ভব হয়নি। আগামী ২২ আগষ্ট ২ দফায় ফের প্রত্যাবাসনের তারিখ নির্ধারণ হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে- মিয়ানামারের ছাড়পত্র পাওয়া ৩ হাজার ৪৫০ রোহিঙ্গার একটি তালিকা জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুই দেশের সাথে ইউএনএইচসিআর এর এই বিষয়ে চুক্তি রয়েছে। রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরতে আগ্রহি কিনা সাক্ষাতকার গ্রহণের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করবেন ইউএনএইচসিআর কর্মকর্তারা। এই সময়ে উপস্থিত থাকবেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। এরপর তাদেরকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে।
উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের অনেকে বলছেন, স্বদেশের ফেরার বিষয়ে তারা এখনও কিছু জানেন না। তারা বলছেন, রোহিঙ্গাদের দেয়া শর্ত মানা হলেই রাখাইনে ফিরবেন, এর আগে নয়













