সুজাউদ্দিন রুবেল :
রোহিঙ্গাদের অনীহার কারণে প্রত্যাবাসন না হওয়ায় উৎকন্ঠার পাশাপাশি ক্ষুদ্ধ স্থানীয়রা। সচেতন মহলের দাবি, প্রত্যাবাসন না হওয়ার পেছনে দায়ী এনজিও সংস্থাগুলো। তাই তাদের নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে প্রত্যাবাসন আরও কঠিন হয়ে পড়বে। তবে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার জানান, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে ।
দু’দফা চেষ্টার পরও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন না হওয়ায় ক্ষোভের পাশাপাশি চরম হতাশা বিরাজ করছে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের এই জনপদে। বিভিন্ন সংস্থা ও স্থানীয়রা জানায়, লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিতে গিয়ে গত দু’বছরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১০ হাজার একর বনভূমি, কেটে ফেলা হয়েছে অর্ধ-কোটি গাছ, দু’শতাধিক পাহাড় ও ছেড়ে দিতে হয়েছে ২০ হেক্টর কৃষি জমি।
এছাড়া বেকার হয়ে পড়েছে জেলার লক্ষাধিক শ্রমিক, বেহাল অবস্থা যোগাযোগ ব্যবস্থার, নিম্নমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা ও ছড়াচ্ছে নতুন নতুন রোগ। এতে দ্বিতীয়বারের মতো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন না হওয়ায় কক্সবাজার জনপদে সংকট বাড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
উখিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান ও উখিয়া কলেজের প্রভাষক তহিদুল আলম তহিদ বলেন, এ যাত্রায় আমরা খুবই আশাবাদী ছিলাম। কারণ গত বছর হয়ত প্রথমে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে আমরা প্রস্তুত ছিলাম না। কিন্তু এবার দীর্ঘ দুই বছর পরও কেন আমরা তা পারলাম না তা নিয়ে হতাশ।
কুতুপালং এলাকার মুদি দোকানদার জসিম উদ্দীন, উখিয়া সদরের চা ষ্টল মালিক দিল মোহাম্মদ বলেন, গত কয়েকদিন ধরে সরকারি দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্যে স্থানীয় লোকজন খুবই আশাবাদী হয়। কিন্তু তাদের কথা গুলো যে এত অর্থহীন হয় তাহলে আমাদের প্রজন্মের ভবিষ্যৎ কি হবে তা নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব উখিয়ার পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলনে, আমি প্রথম থেকে বলে আসছি এনজিও গুলো নিয়ন্ত্রণ করা না হলে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি কঠিনতর হয়ে উঠবে। কিছু এনজিওর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধনে, চাকরির নামে তাদের অর্থায়ন বিবেচনায় আনতে হবে। অপহরণ, গুম, খুন, নারী ধর্ষণ সহ গুরুতর অপরাধের সাথে জড়িত রোহিঙ্গাদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে তিনি জানান।
রোহিঙ্গাদের কারণে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি, অপহরণ, ধর্ষণ, চুরি, মাদক ও মানবপাচারসহ মামলা হয়েছে ৩শ’৮১টি। তাই এদের নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন কক্সবাজার বাঁচাও আন্দোলনের অ্যাডভোকেট আয়াছুর রহমান।
তিনি বলেন, মূলত মিয়ানমারে ফেরত না যেতে রোহিঙ্গারা অযৌক্তিক এসব দাবি তুলে ধরছে। এসব দাবি রোহিঙ্গাদের জানা ছিল না। কিছু দাতা সংস্থা, এনজিও ও স্থানীয় কুচক্রি মহল তাদের এসব শিখিয়ে দিচ্ছে। ফলে রোহিঙ্গা ও এনজিওসংস্থাগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আগামী আরও বেশি কঠিন হয়ে পড়বে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম জানান, মিয়ানমারের ছাড়পত্র পাওয়ার রোহিঙ্গাদের মতামত গ্রহণ অব্যাহত ও দ্রুত প্রত্যাবাসনের শুরু করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। প্রত্যাবাসন না হওয়ার ব্যর্থতা বাংলাদেশে নয়। এটির দায় মিয়ানমারকে নিতে হবে। কারণ মিয়ানমার এই সংকট তৈরি করেছে; ফলে এই সংকট নিরসনে তাদেরকে উদ্যোগ নিতে হবে। বাংলাদেশ শুধুমাত্র মানবিক দিক বিবেচনা করে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়।
উল্লেখ্য, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে পালিয়ে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নিয়েছে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। তাদের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই দুই উপজেলার ৫ লাখের বেশি স্থানীয় বাসিন্দা।













