বন্ধুর স্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করায় হত্যার শিকার ফাহিম

0
63

কক্সবাজার খবর ডেস্কঃ

বন্ধুর স্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর কথা বলার ক্ষোভ থেকে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন সাখাওয়াত হোসেন ফাহিম।

শাখাওয়াত হোসেন ফাহিম (২১) ও মো. আরিফ (২২) দুইবন্ধু। তারা প্রায় সময় ডিসি রোডের আবু কলোনির পাশে আবুল কাশেমের বাড়ির দ্বিতীয় তলায় টিনশেডঘেরা পানির টাঙ্কি ও ভাড়াটিয়া বিপ্লব দে’র রুমে আড্ডা দিতো। আড্ডাতে দুই বন্ধু ইয়াবা সেবন করতো এবং প্রায় সময় আরিফের স্ত্রীকে নিয়ে বাজে কথা বলতো ফাহিম। এ নিয়ে আরিফের মনে ক্ষোভ জন্মে। সে ফাহিমকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। পুলিশকে এমন তথ্য দিয়েছে ফাহিম হত্যা মামলার আসামি মো. আরিফ।

বুধবার (২৮ আগস্ট) নগরের মোমিন রোডের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এসএম মেহেদী হাসান।

তিনি বলেন, ঘটনার দুইদিন আগেও আরিফের স্ত্রীকে নিয়ে বাজে কথা বলে ফাহিম। আরিফের কাছে ফাহিম বলেন, তার স্ত্রীর সঙ্গ পেতে চান। ওইদিনের পর আরিফ ফাহিমকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ২০ আগস্ট সকাল ৮টার দিকে আরিফ বাসা থেকে একটি কাঁথা ও একটি ছুরি নিয়ে আবুল কাশেমের বাড়ির দ্বিতীয় তলায় টিনশেডঘেরা পানির টাঙ্কির নিকট যায়। সাড়ে ৮টার দিকে গলির মুখে দাঁড়িয়ে শাহাব উদ্দিন নামে এক পরিচিত ব্যক্তির মোবাইল থেকে ফাহিমকে ফোন করে ওখানে আসতে বলে। ফাহিমের আসতে দেরি হওয়ায় শাহজাহান নামের আরেকজনের মোবাইল থেকে আবার ফোন করে। ফাহিম আসলে তাকে নিয়ে আড্ডা দেয়ার ছলে দু’জন পানির টাঙ্কির ওখানে গিয়ে বসে। একপর্যায়ে ফাহিমের গলায় ছুরি বসায় আরিফ। মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য ফাহিমের বুকে, পেটে ও পিঠে ছুরিকাঘাত করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর সেখান থেকে চলে যায় আরিফ। ঘটনার তিন দিন পর ২৩ আগস্ট ফাহিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায় বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে আরিফ।

পুলিশ আরো জানায়, হত্যাকাণ্ডের পরপরই আরিফ ভোলা জেলার রতনপুর এলাকায় তার খালার বাড়িতে গিয়ে আত্মগোপন করে। মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) অভিযান চালিয়ে ভোলা জেলার রতনপুর এলাকায় তার খালার বাড়ি থেকে আরিফকে গ্রেফতার করা হয়। আরিফের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি তার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও চকবাজার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবছার উদ্দিন রুবেল সিভয়েসকে বলেন, হত্যার পরপরই স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় খুনির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। পরে আমরা খবর পাই ভোলা জেলায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপন করেছে আসামি। সেখানে অভিযান চালিয়ে আরিফকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার সকালে আরিফকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মুহাম্মদ আবদুর রউফ, চকবাজার জোনের সহকারী কমিশনার মুহাম্মদ রাইসু্ল ইসলাম, চকবাজার থানার ওসি মো. নিজাম উদ্দিন, পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরীসহ অভিযান পারিচালনাকারী টিমের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ২০ আগস্ট ফাহিমকে খুঁজে না পেয়ে ২২ আগস্ট চকবাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি করে তার পরিবার। পরে ২৩ আগস্ট ১২টা ৫০ মিনিটে ডিসি রোডের আবু কলোনির পাশে আবুল কাশেমের বাড়ির দ্বিতীয় তলায় টিনশেডঘেরা পানির টাঙ্কি থেকে ফাহিমের গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

-সিভয়েস/আইএইচ/এসএ

আগেপবিত্র কুরআন সঙ্গে নিয়ে মহাকাশ যাচ্ছেন নভোচারী
পরেচট্টগ্রামে এমপির প্রতিষ্ঠানে গাড়িচালককে গুলি করে হত্যা