বার্তা পরিবেশক
মুহতামিম সিরাজুল ইসলাম ও দাতা সদস্যদের মধ্যে দ্বন্দ্বের মাঝেই রামুর ঐতিহ্যবাহী চাকমারকুল মাদ্রাসায় ফঁাকা গুলির ছোঁড়া হয়েছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। এতে আতঙ্কে মাদ্রাসার ছাত্ররা মাদ্রাসা ছেড়ে পালাতে থাকে। তবে মুহুর্তের মধ্যে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় বিবদমান দু’পক্ষ একে অপর দিকে অভিযোগ তুলছেন। দাতা সদস্যরা অভিযোগ করছেন, মুহতামিম সিরাজুল ইসলাম গোপন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার মাগরিবের নামাজের ঘণ্টাখানেক পর মাদ্রাসার আঙিনায় হঠাৎ গুলির শব্দ হয়। পর পর তিন/চারটি গুলির শব্দ হলে মাদ্রাসায় থাকা ছাত্ররা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। আতঙ্কে তারা দিগ্বিদিক ছুটাছুটি করতে থাকে। আতঙ্কে বিপুল সংখ্যক ছাত্র মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যায়। অনেকে মাদ্রাসার ভেতরে বিভিন্ন নিরাপদ স্থানে লুকিয়ে পড়ে। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে যায় রামু থানার পুলিশ। থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ গিয়ে ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় এক পক্ষ অপর পক্ষকে দায়ী করছেন। মাদ্রাসার দাতা সদস্যদের অভিযোগ, মাদ্রাসাকে কব্জা করে রাখা, নিজের অভিযোগের তদন্ত ভেস্তে দেয়া, এবং দাতা সদস্যদের ফঁাসাতে মুহতামিম সিরাজুল ইসলাম নানা ষড়যন্ত্রে নেমেছে। এরই অংশ হিসেবে মাদ্রাসায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে দাতা সদস্যদের উপর দায় চাপাতে চেষ্টা করে আসছিল মুহতামিম। এই পরিকল্পিত অঘটন ঘটাতে গত দুদিন আগে মুহতামিম সিরাজুল ইসলাম তার ভাই চেয়ারম্যান নূরুল ইসলামসহ আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে মাদ্রাসায় একটি গোপন বৈঠক করেন। ওই বৈঠক থেকে মাদ্রাসায় পরিকল্পিত হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে এই অঘটন ঘটানোর চেষ্টা করেছেন মুহতামিম সিরাজুল ইসলাম। তার ভাই নূরুল আমিন সিকদারের নেতৃত্বে এই হামলার ঘটনা ঘটানো হয়। এতে সহযোগিতা করেছেন রোহিঙ্গা ছাত্র ও মুহতামিম সিরাজের আজ্ঞাবহ কিছু ছাত্র। ডাকাতি ও চুরিসহ ৮/১০ টি মামলা পলাতক আসামী নূরুল আমিন সিকদার তার অবৈধ বন্দুক দিয়ে গুলি ছুঁড়েছেন। মুহতামিম সিরাজ পরিকল্পিত এই অঘটন ঘটিয়ে দাতা সদস্যদের উপর দায় চাপাানোর চেষ্টা করেছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মুহতামিম সিরাজুল ইসলাম। এ ব্যাপারে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, রামুর চাকমারকুল মাদ্রাসায় মুহতামিম ও দাতা সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছে। এই নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু কোনোভাবেই সমঝোতা হয়নি। এরই অংশ হিসেবে ফাঁকা ছুঁড়ে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা হয়েছে। তবে কারা এই গুলি ছুঁড়েছে তা স্পষ্ট হয়নি। এই নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।













