এম. বেদারুল আলম :
অঘোষিত দ্বিতীয় টেকনাফ খ্যাত কক্সবাজার সদরের খরুলিয়ার ইয়াবা জোনের ভীত নাড়িয়ে দিয়েছে দৈনিক কক্সবাজার। গত ২৪ জুলাই ‘খরুলিয়া যেন ইয়াবা ভিলেজ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। এরপর থেকেই শুরু হয় পুলিশি এ্যাকশন। বর্তমানে ও চলমান রয়েছে ইয়াবা ব্যবসায়িদের বিরুদ্ধে শুরু করা সেই অভিযান। শুধুমাত্র খরুলিয়া থেকেই গত মাস দেড়েকের মধ্যে ইয়াবার বড় চালানকারিসহ ৮জনকে আটক করেছে কক্সবাজার মডেল থানা পুলিশ। সাড়াশি অভিযানের মধ্যে গত মঙ্গলবার শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ি খরুলিয়ার রাজা মিয়ার লাশ ‘পড়ার’ কারনে অনেকটা নড়বড়ে তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়িরা। তবে চলমান অভিযান আরো জোরদার করা হলে ইয়াবা শূন্য হবে খরুলিয়া দাবি এলাকাবাসির।
ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের খরুলিয়া এলাকার কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক জনপ্রতিনিধি জানান, দৈনিক কক্সবাজারে ইয়াবা নিয়ে তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশ অভিযান জোরদার করে। তালিকা থেকে আটক করা হয় ইয়াবার ভেন্ডার হিসাবে পরিচিত নয়াপাড়ার নুরুল ইসলাম নুরু, বাজার পাড়া এলাকার লিয়াকত আলী, খামার পাড়ার নবাব মিয়া, বাজারপাড়ার শওকত আলম পুতু, কোনার পাড়ার নুরুল আমিন, খামারপাড়ার মনসুর আলম।
ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান জানান, গত মঙ্গলবার সকালে খরুলিয়ার শীর্ষ ইয়াবা কারবারি ইউসুফ আলীর পুত্র রাজা মিয়ার লাশ পড়ার খবরে দিনভর এলাকাবাসি উল্লাস করেছে। সন্ধ্যার দিকে মিষ্টি বিতরণ করা হয় কোন কোন এলাকায়। মানুষের মাঝে ক্ষোভ দেখা গেছে রাতে যখন লাশ দাফনের জন্য নিয়ে আসা হয় এলাকায়। স্থানীয় কবরস্থানে লাশ দাফন করতে দেয়নি জনগণ। পরে রাত ৩ টার দিকে পুলিশি প্রহরায় অন্য কবরস্থানে যেটাকে খইত্যাপুকুর এলাকা বলে সেখানে লাশ দাফন করা হয়। মাত্র ১৩ জন লোক জানাজায় উপস্থিত ছিল। মানুষের মাঝে যে চরম ক্ষোভ ঘৃণা তা দেখা গেছে রাজা মিয়ার লাশের দাফনে। এদিকে পিএমখালীর চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়িদের সাথে খরুলিয়ার ইয়াবা ব্যবসায়িদের লেনদেন থাকার কারণে সম্প্রতি পিএমখালীতে বেড়েছে এ ব্যবসা দাবি চেয়ারম্যান টিপু সুলতানের।
এদিকে খরুলিয়ার ইয়াবার দূর্গ ধ্বংস করতে প্রশাসনের ভুমিকা নিয়ে কক্সবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ ফরিদ উদ্দিন খন্দকার দৈনিক কক্সবাজারকে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইয়াবার বা যেকোন মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা জানিয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে আমরা শক্ত অভিযান অব্যাহত রেখেছি। খরুলিয়ায় চলমান অভিযান আরো জোরদার করা হবে। মাদক ব্যবসা খরুলিয়াসহ সদরের রেড জোন সমুহে শূন্যের কোঠায় না আসা পর্যন্ত অভিযান চলমান থাকবে। খরুলিয়ার অবশিষ্ট মাদক ব্যবসায়িদের ধরতে একাধিক টিম কাজ করছে বলে ও জানান এ কর্মকর্তা।
পুলিশের অব্যাহত অভিযানে কোনঠাসা খরুলিয়ার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়িরা। তারপরও অনেকে কৌশলে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে গোপন সূত্রে জানা গেছে। অনেক ইয়াবা ব্যবসায়ি কয়েকজন জনপ্রতিনিধির ছত্রছায়ায় গোপনে এ কাজ চালালেও তাদেরকে নজরদারিতে রেখেছে পুলিশ। কয়েকজন জনপ্রতিনিধি সরকার দলীয় নেতাদের আশ্রয় নিলেও তাদের ব্যাপারে খোঁজ খবর রাখছে পুলিশ এমনই আভাস দিয়েছেন পুলিশের এক কর্মকর্তা। তাদের ধরতে তথ্য প্রমাণ যোগাড়ে মাঠে কাজ করছে পুলিশের টিম।
এদিকে পুরো খরুলিয়ার ২টি ওয়ার্ডে রয়েছে শতাধিক ছোট বড় ইয়াবা ব্যবসায়ি। স্থানীয় সচেতন মহল, শিক্ষক, চেয়ারম্যান, ইমামসহ রাজনীতিবীদদের নিয়ে একটি ইয়াবা ব্যবসায়িদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গত জুলাই মাসে জমা দেওয়া হয়। তালিকায় ৩০ জন ইয়াবা এবং মাদক ব্যবসায়ির নাম রয়েছে যারা অনেকে পূর্ব থেকে মাদক মামলায় জেল খেটেছে। তালিকা থেকে অনেক ইয়াবা ব্যবসায়ি বাদ পড়েছে স্থানীয়দের মাঝে এমন অভিযোগ রয়েছে। প্রকাশিত তালিকা থেকে বর্তমানে পুলিশ ৮/১০ জনের মত আটক করেছে বিভিন্ন সময়। তবে অনেকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে খরুলিয়ার রহিম উদ্দিন প্রকাশ সিঙ্গার রহিমের দীর্ঘদিনের ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন। টেকনাফে সিঙ্গার শোরুম খোলার সময় থেকে এ ব্যবসা চালিয়ে তিনি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন এমন অভিযোগ করেছেন তারা। তবে রহিম উদ্দিন ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত থাকার বিষয়টি ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন।
সদর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার মাধ্যমে ঝিলংজা ইউপি থেকে পুলিশ প্রশাসনে দেয়া তালিকায় নাম থাকা চিহ্নিত ইয়াবা ও মাদক ব্যবসায়িরা হলেন আটক ফকির মোহাম্মদের ছেলে নুরুল ইসলাম , তার ভাই ঈমাম শরীফ ও জেলে থাকা জুহুর আলম, খামার পাড়ার খুইল্ল্যা মিয়ার পুত্র নবাব মিয়া, সিকদার পাড়ার মোস্তফার ছেলে ইরহান, কোনার পাড়ার জাফর আলমের ছেলে জিয়াউর রহমান, খুইল্ল্যা মিয়ার ছেলে মনছুর মিয়া ও সিরাজ মিয়া, খরুলিয়া বাজারপাড়ার ইউসুফ আলীর ৩ ছেলে শওকত আলী, সাদ্দাম, ও রাজা মিয়া, ডেইংগা পাড়ার মৃত মোস্তফার ছেলে সাইফুল ইসলাম, পূর্ব খরুলিয়ার নাপিতপাড়ার শামসুল আলমের পুত্র আরমান। এছাড়া খুচরা ইয়াবা ব্যবসায়ি হিসেবে যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন বাজারপাড়ার ইউসুফ আলীর ২ ছেলে বর্তমানে মাদক মামলায় জেলে থাকা লিয়াকত ও দেলোয়ার, ঘাটপাড়ার গফুর মাঝির ছেলে মোস্তাক, কোনারপাড়ার বদিউজ্জামানের ছেলে শহর মুল্লুক, নয়া পাড়ার আদর মিয়া, কোনার পাড়ার মৃত জাফরের ছেলে মনিয়া, নয়া পাড়ার আবু তাহের, আবদুল খালেকের ছেলে বাদশাহ মিয়া, খামারপাড়ার সিরাজ মিয়া, মুন্সির বিলের মুছা আলীর ছেলে জুবাইর, কবির হোসেনের ছেলে জাহেদ, সুতারচরের নওয়াজ শরীফ, চরপাড়ার আবুল কাসেমের ছেরে জসিম, নয়াপাড়ার মোনাফের ছেলে সালাম মিয়া, সিকদার পাড়ার জাফর সাদেক, ও তার ভাই রাশেদ, নাপিত পাড়ার মৃত শামসুল আলমের স্ত্রী মিনু আরা বেগম, পূর্ব মোক্তার কুলের রশিদ আহমদ ধলু, আবদুল্লাহ প্রকাশ বাদুল্লাহ অন্যতম। উক্ত তালিকার বাইরে রয়েছে পূর্ব খরুলিয়ার জাফর ছাদেক, রাশেদ, হিন্দুপাড়ার আরমান,সিরাজ, নয়া পাড়ার সাদ্দাম, মুসলিম, এরশাদ, আনোয়ারা বেগমসহ অনেকে।
এলাকাবাসির দাবি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাচাঁতে তালিকাভুক্ত এবং তালিকার বাইরে থাকা বড় বড় ইয়াবা ভেন্ডারদের যেন আটক করে খরুলিয়াকে ইয়াবামুক্ত করা হয়। পাশাপাশি যেসব রাজনৈতিক নেতাদের কমিশন গিয়ে য়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে তাদেরকে ও আইনের আওতায় আনা হোক।সুুুুত্রঃ দৈনিক কক্সবাজার













