
নিজস্ব প্রতিবেদক, রামু
রামুতে সরকারী নিষেধ থাকা সত্তে¡ও নির্বাচনী কাজে বারংবার গণউপদ্রব করার অপরাধে মোহাম্মদুল হক নামের এক ব্যক্তিকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। বুধবার (৯ অক্টোবর) রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট প্রণয় চাকমা এ সাজা দেন।
জানা যায়, রামুতে ভুয়া তথ্য দিয়ে বাংলাদেশী নাগরিক সেজে ভোটারের তথ্য পূরণকারী দুই রোহিঙ্গাকে সনাক্ত করেছে উপজেলা ভোটার তথ্য যাচাই বাছাইয়ের বিশেষ কমিটি। দালালের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে আবেদনকারী ভাই-বোন হলো- উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মোবারক মিয়া ও তার বোন খালেদা আক্তার (যার ফরম নং- ৫৩২৬৬৮০৭ ও ৫৩২৬৬৮০৮)। আবেদন ফরমে তারা পিতার নামের সাথে মিল রেখে বাংলাদেশী নাগরিককে পিতা বানিয়ে অন্যজনের এনআইডি কার্ড সংযুক্ত করে। যার নং ১৯৬২২২১৬৬৩৮৭৪০৯৭০, নাম- ছুরুত আলম)। স্থানীয় ইউপি সদস্যও আবেদনকারী ভাই বোনের পিতা রোহিঙ্গা বলে সনাক্ত করেন। এসময় মোবারক মিয়া এবং তার মাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাদের বাবা একজন রোহিঙ্গা তাই তারা স্থানীয় দালাল জোয়ারিয়ানালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী, জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের মুরাপাড়ার আনর আলীর ছেলে মোহাম্মদুল হক (২৪) এর মাধ্যমে এসব ভুয়া কাগজ পত্র সংগ্রহ করেছে বলে জানান।
জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই রামু প্রতিনিধি আবু হানিফ আবেদনকারী মোবারক মিয়া ও দালাল মোহাম্মদুল হককে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট প্রণয় চাকমাকে হস্তান্তর করলে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ইউএনও দালাল মোহাম্মদুল হককে দন্ডবিধি ১৮৬০ এর ২৯১ ধারায় ৩৫,০০০টাকা জরিমানা করেন।
উল্লেখ্য, রোহিঙ্গা ছুরুত আলমের ৮ ছেলে মেয়ে রয়েছে, অর্থাৎ মোবারক মিয়ারা ৮ ভাইবোন। ইতিমধ্যে এক ছেলে শামসুল আলম ( এনআইডি নং ৮৩০৮১১১০২৪), মেয়ে আরেফা বেগম (এনআইডি নং- ১৯৮৩২২১৬৬৩৮৭৪০৪৭৫)) এবং মেয়ে সাহেদা আক্তার (এনআইডি নং-১৯৮৯২৮৫৩৬১৬৩৩০) ভোটার হয়ে গেছে।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা বলেন, সরকারী নিষেধ থাকা সত্তে¡ও নির্বাচনী কাজে বারংবার গণউপদ্রব করার অপরাধে মোহাম্মদুল হক (২৪) কে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ৩৫,০০০টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভোটার আবেদন ফরমে ভুয়া তথ্য দিয়ে আবেদনকারীর স্বীকারোক্তি মোতাবেক তাকে এ সাজা দেয়া হয়।













