
কক্সবাজার খবর ডেস্কঃ
সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এম এ মোতালেব সিআইপি বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া সালাহ উদ্দিন হাসান চৌধুরী ভাইস চেয়ারম্যান ও আনজুমান আরা বেগম মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ শেখ ফরিদের দেয়া তথ্য মতে, চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এম এ মোতালেব সিআইপি (নৌকা) ৬৩ হাজার ৫৭৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আবদুল গফ্ফার চৌধুরী (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৮৪ ভোট। এছাড়া আবদুল মোনায়েম মুন্না চৌধুরী (মোটর সাইকেল) পেয়েছেন ১ হাজার ৪১৮ ভোট।
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আনজুমান আরা বেগম (কলসি) ৪১ হাজার ৫০৯ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তারান্নুম আয়েশা (প্রজাপতি) পেয়েছেন ২২ হাজার ২৩২ ভোট। অন্যপ্রার্থী জান্নাতুল নাঈম চৌধুরী রিকু (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৭ হাজার ৮৮৩ ভোট।
এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে সালাহ উদ্দিন হাসান চৌধুরী (বই) ৩৮ হাজার ৭০ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ শাহজাহান (তালা) পেয়েছেন ১৯ হাজার ৪৭৯ ভোট। অন্যপ্রার্থীর মধ্যে বশির উদ্দিন আহমদ (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৭৯ ভোট, মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন (চশমা) পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৪ ভোট, আছিফুর রহমান সিকদার (মাইক) পেয়েছেন ২ হাজার ৩০৫ ভোট এবং ওমর ফারুক লিটন (টিউবওয়েল) পেয়েছেন ১ হাজার ৫৮৮ ভোট।
এর আগে গতকাল সকাল থেকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। প্রথম বারের মতো এবার সবকটি কেন্দ্রে ইলেকট্রিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোটগ্রহণ হয়েছে। তবে ভোটারের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। সকাল থেকে অধিকাংশ ভোট কেন্দ্র ছিল ফাঁকা। ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইন শৃক্সখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও বেশির ভাগ সময় খোশগল্প করে সময় কাটিয়েছেন। ভোটারের উপস্থিতি কম হওয়ায় রিটার্নিং অফিসার নিজেও হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, আমরা ভোটারের উপস্থিতি আরো একটি বেশি হবে বলে আশা করছিলাম।
এদিকে বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল গফ্ফার চৌধুরী দুপুর আড়াইটার দিকে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। তার এজেন্টদের মারধর, কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া এবং ভোটারদের আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে নির্দিষ্ট বাটনে ভোট দেয়ার সুযোগ না দেয়াসহ নানা অভিযোগ আনেন। তবে চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল গফ্ফার চৌধুরী নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেও ভোটগ্রহণের পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বিএনপি মনোনীত ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী বশির উদ্দিন আহমদ। বিকাল ৫টার দিকে তিনি জানান, নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই। আমি এখনো জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী আবদুল গফ্ফারের অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এম এ মোতালেব সিআইপি জানান, অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরাজয় বুঝতে পারায় বিএনপি প্রার্থী আবদুল গফ্ফার চৌধুরী নির্বাচন বর্জন করেছেন। তার নির্বাচন বর্জন নাটকটি সাতকানিয়ার মানুষের হাসির খোরাক হয়েছে।
ভোট কেন্দ্রগুলোতে সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখা যায়, অধিকাংশ কেন্দ্র ভোটার শূন্য ছিল। দুপুরের দিকে কিছু কিছু কেন্দ্রে সীমিত সংখ্যক ভোটারের লাইন দেখা গেছে। সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তেমুহনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ওই সময়ে কেন্দ্রে কোনো ভোটার ছিল না। পুরো ভোট কেন্দ্র ছিল ফাঁকা। অবশ্য কিছুক্ষণ পর থেকে ভোটাররা কেন্দ্রে আসতে শুরু করে এবং লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন। তেমুহনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মুহাম্মদ বেলাল হোসাইন জানান, ভোটারের উপস্থিতি কম হলেও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জনার কেঁওচিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রের বাইরে লাইনে তেমন কোনো ভোটার নেই। আধ ঘণ্টায় ৯টি বুথে মাত্র ১৫টি ভোট পড়েছে। ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মুহাম্মদ হুমায়ুন কবির জানান, অত্যন্ত সুশৃক্সখল পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেন্দ্রে সকল প্রার্থীর এজেন্টরা উপস্থিত ছিলেন। তবে ভোটারের উপস্থিতি কম।
বিএনপি প্রার্থী আবদুল গফ্ফার চৌধুরী দুপুর আড়াইটার দিকে তার বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। এসময় তিনি বলেন, শতাধিক ভোট কেন্দ্র থেকে আমার এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেয়া হয়েছে। ছদাহা কেফায়েত উল্লাহ কবির আহমদ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সাতকানিয়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি শাফায়েত উল্লাহকে মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তার জামা কাপড় ছিঁড়ে দিয়েছেন। বেশির ভাগ ভোট কেন্দ্রের বাইরে আওয়ামী লীগের লোকজন ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে দিচ্ছেন না। এছাড়া কিছু কেন্দ্রে ভোটারদের কাছ থেকে আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। তাদের ভোট দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়নি।
এ বিষয়ে নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও চট্টগ্রামের সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মুনীর হোসাইন খান জানান, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, কেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দেয়ার যে অভিযোগ তিনি করছেন তা সঠিক নয়। তিনি বলেন, একটি কেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দেয়ার বিষয়ে প্রার্থী আমাকে মুঠোফোনে বলার পর আমি নিজেই ওই কেন্দ্রে গিয়েছি। সেখানে এজেন্টদের সাথে কথা বলেছি। তারা এরকম কোনো কিছু হয়নি বলে জানান। রিটার্নিং অফিসার আরো জানান, আঙ্গুলের ছাপ নেয়ার পর প্রতীকে চাপ দেয়ার আগে ভোটারদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার যে অভিযোগ করা হচ্ছে তারও কোনো ভিত্তি নেই।











