রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিষিদ্ধ এনজিও আদ্রা কর্মীরা চাকরি নিয়ে বিপাকে

0
7

বার্তা পরিবেশক :
রোহিঙ্গা সমাবেশে অর্থায়নের অভিযোগে ক্যাম্পে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আদ্রা সহ ৪১ এনজিওর কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নিজেদের চাকরী নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। তাদের কাজ না থাকায় নিয়োগকৃত কর্মচারীদের বেতনও দিচ্ছে না এনজিও কর্তৃপক্ষ। নিষিদ্ধ হওয়ায় এনজিওগুলো ইতোমধ্যে অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জানিয়ে দিয়েছে তাদের চাকরি নেই।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিষিদ্ধ হওয়া ৪১ এনজিও’র অন্তত ৮ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। ইতোমধ্যে বেতন-ভাতা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন কর্মীরা। গতকাল কক্সবাজার জেলা প্রশাসক বরাবরে স্থাগিতাদেশ প্রত্যাহার করার জন্য আবেদন করেছেন আদ্রা বাংলাদেশ নামের একটি এনজিওতে কর্মরত ২০০ জন কর্মচারী।
তাঁরা আবেদনে জানান, আদ্রা বাংলাদেশ কোনভাবেই রোহিঙ্গা সমাবেশে অর্থায়ন করেনি। সমাবেশের সাথে এই এনজিওর বিন্দুমাত্র সংশ্লিষ্টতা নেই। আমাদের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী এই সমাবেশ আয়োজনে সম্পৃক্ততা ছিল না। এরপরও আদ্রা বাংলাদেশের উপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে ইতোমধ্যে এনজিও থেকে আমাদের অব্যাহতির নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এ্যাডরা বাংলাদেশের ব্যাংক কার্যক্রমের উপর নিষেধাজ্ঞার কারণে গত সেপ্টেম্বর থেকে আমাদের বেতন-ভাতা ও বন্ধ রয়েছে। আমরা পরিবার নিয়ে বর্তমানে অসহায় জীবনযাপন করছি।
এ্যাডরা বাংলাদেশে কর্মরত উখিয়ার জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, এই এনজিওতে প্রায় ৬৫ ভাগ স্থানীয় লোকজন চাকরি করে। একজন কর্মচারী মানে একটি পরিবার। বিনা কারণে দক্ষতার সাথে ক্যাম্পে কার্যক্রম চালানো এই এনজিওটির কার্যক্রম বন্ধ করে আমাদের জীবন অনিশ্চয়তায় ঠেলে দেওয়া হয়েছে। আমরা আমাদের পরিবার নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছি। সরকার যেখানে বেকার সমস্যা সমাধান করতে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে, সেখানে একটি স্থগিতাদেশ আমাদের মত অসংখ্য লোকজনকে বেকার করে দিচ্ছে। যেসব এনজিও ওই রোহিঙ্গা সমাবেশে সংশ্লিষ্টতা আছে তাদের কার্যক্রম স্থগিত করলে আমাদের আপত্তি নেই।
আদ্রা বাংলাদেশের কর্মচারী শাহিনুর বেগম জানিয়েছেন, কার্যক্রম স্থগিত হওয়ায় আমাদের চাকরীও অঘোষিতভাবে স্থগিত হয়ে গেছে। আমরা বেতন পাচ্ছি না। কিভাবে সংসার চালাব এখন বুঝতে পারছি না।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, বিগত ২৫ আগষ্ট রোহিঙ্গা সমাবেশে অর্থায়ন করার অভিযোগে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ্যাডরা সহ ৪১টি এনজিওর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে এনজিও বিষয়ক ব্যুরো। গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি এসব এনজিওর তৎপরতার ওপর আপত্তি দিয়ে এনজিও ব্যুরোতে চিঠি পাঠায়। পরে এসব এনজিও’র কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় সরকার।

আগেমিয়ানমারের কাছে ৫০ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা হস্তান্তর
পরেবিশ্বকাপ বাঁচাই পর্বে ভারতের বিপক্ষে ১-০ গোলে এগিয়ে বাংলাদেশ