
আমির মুঃশাহজাহান,টেকনাফ
৩দিন অতিবাহিত হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর অভিযানের মুখে মুক্তিপণ আদায়ে ব্যর্থ হয়ে টেকনাফে অপহৃত বাহারছড়া মনতইল্যা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী তসলিমা আক্তার (১৩) ও লাকি আক্তার (১১)-কে ফেরত দিলো দুর্ধর্ষ রোহিঙ্গা ডাকাত আব্দুল হাকিম।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ১৯ অক্টোবর, শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে পাহাড়ি জনপদের মূর্তিমান আতঙ্ক দুর্ধর্ষ রোহিঙ্গা ডাকাত আব্দুল হাকিমের বাহিনী টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শীলখালী গ্রামের মাঠপাড়া এলাকার বাসিন্দা হেডম্যান আবুল কালামের কন্যা মনতইল্যা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী তসলিমা আকতার (১৩) ও লাকি আকতার (১১)-কে অপহরণ করে নিয়ে যায় গহীন অরণ্যে। এর কিছুক্ষণ পর এলাকাবাসীর সহযোগিতায় শামলাপুর পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি এলাকায় রাতভর অভিযান চালিয়েও উদ্ধার করতে পারেনি অপহৃতদের। অপহরণের পর ডাকাত আব্দুল হাকিম হেডম্যান আবুল কালামের নিকট মুক্তি দাবি করে। কিন্তু আবুল কালাম অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় তাদের দাবি মেটাতে পারেন নি। ৩ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরেও কোন প্রকার মুক্তিপণ না পাওয়ায় আজ দিবাগত রাত ৩টার দিকে হেডম্যান আবুল কালামের বাড়ির অদূরে জঙ্গলের পাশে অপহৃতদের রেখে গহীন অরণ্যে চলে যায় ডাকাত আব্দুল হাকিমের দল। ডাকাত আব্দুল হাকিম বাহিনীর আগমন ও অপহৃতদের জঙ্গলের পাশে রেখে যাওয়ার সংবাদ পেয়ে শামলাপুর পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ তাৎক্ষণিক পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহৃতদের উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়।
অত্র ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার হুমায়ুন কাদেরের নিকট এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, ‘আজ দিবাগত রাত ৩টার দিকে আব্দুল হাকিম ডাকাতের দলবল মুক্তিপণ আদায়ে ব্যর্থ হয়ে অপহৃতদের জঙ্গলের ধারে নিয়ে এসে তাদের পরিবারকে খবর দেয়। খবর পেয়েই অপহৃতদের পরিবার বিষয়টি শামলাপুর পুলিশ ফাঁড়িকে অবহিত করে। খবর পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতায় জঙ্গলে তল্লাসি চালিয়ে অপহৃতদের উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়।’সুত্রঃকক্সবাজার লাইভ২৪













