
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
কয়েক বছর আগেও তার কিছু ছিল না। সেসময় কর্মরত ছিলেন মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলায়। কিন্তু কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের এলএ শাখায় বদলীর পর ভাগ্যের দ্বার খুলে যায় সার্ভেয়ার আবুল খায়ের রিংকুর। এলএ শাখাকে আলাদিনের প্রদীপের ন্যায় ব্যবহার করছেন। সীমাহীন দুর্নীতিতে অল্পদিনেই বনেছেন শূণ্য থেকে কোটিপতি। সদর ভূমি অফিসের কানুনগো মিলন কান্তি চাকমার আশির্বাদে বর্তমানে টাকা ছাড়া কিছুই বুঝেন না তিনি। কানুনগো মিলন কান্তি চাকমার অপকর্মের হোতা সার্ভেয়ার এই আবুল খায়ের।
ভুক্তভূগীরা জানান, তার কাছে ফাইল নিয়ে গেলে দিতে হয় অগ্রীম টাকা। নচেৎ সেই ফাইল ফেরত দেয়া হয়। টাকা দিলেও ঘুরতে হয় মাসের পর মাস। একটি ফাইলের জন্য কয়েক দফা টাকা দিয়েও করেন নানা তালবাহানা। ইনানী ৬ নং এলএ কেসের এক ভুক্তভূগী বলেন, মাস তিনেক আগে অগ্রীম টাকা দিয়ে সার্ভেয়ার আবুল খায়ের রিংকুকে তার ফাইলটি দেয়া হয়। কিন্তু ফাইল নেয়ার পর কালক্ষেপণ করছেন তিনি। ৩ মাসের মধ্যে কয়েকবার তাকে টাকা দেয়া হয়েছে। তবুও যেন শান্তি নাই তার। চাই আরও টাকা। কিন্তু ফাইল অনুমোদন না হলে এত টাকা কোথায় পাবে অসহায় ওই ভূক্তভোগী। সুত্রে জানা যায়, প্রকল্প ও বিভিন্ন কেসে কাজ করার জন্য সার্ভেয়ার আবুল খায়ের কয়েকজন দালালদের নিয়ে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালী সিন্ডিকেট। তার মধ্যে ইনানী ৮/৪/১৫ এলএ মামলায় কাজ করার জন্য মোস্তাক নামের এক দালাল যুক্ত করা হয়েছে। ওই দালাল কেসের সব কিছু দেখাশুনা করে। তার মাধ্যমে বকরা ফাঁদে ফেলানো হয়। এছাড়া ৭/৪/১৫ মাতারবাড়ি প্রকল্পের কাজ ও ঘুষ লেনদেনের জন্য আরাফাত ইয়াসিন নামের আরেক দালালকে নিয়োজিত করেছেন তিনি। সে ঘুষের সব টাকা কৌশলে লেনদেনের মূল নায়ক। তাদের সাথে রয়েছে আফজাল নামে অপর এক দালাল। সব মিলিয়ে সার্ভেয়ার আবুল খায়ের এলএ অফিসে শক্তিশালী সিন্ডিকেট নিয়ে দুর্নীতির রাম রাজত্ব কায়েম করেছেন। কোন ভাবেই তাকে ঠেকানো যাচ্ছে না। তার বিরুদ্ধে কথা বলাও যেন দায়। তার দাম্ভিক আচরণ সবাইকে হতবাক করছে প্রতিনিয়ত। সুত্র আরও জানায়, সার্ভেয়ার আবুল খায়ের রিংকু টাকার নেশায় কাউকে গুণছেন না। কক্সবাজারে আসার পর রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে যাওয়া নিয়ে খোদ তার এলাকায়ও এ নিয়ে চলছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে আবুল খায়েরের রয়েছে ৩-৪টি বাড়ি। অনেক জমিজমাও কিনেছেন। কুমিল্লা শহরে রয়েছে কয়েকটি নিজস্ব দোকান। নামে-বেনামে ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা গচ্ছিত রয়েছে। সচেতন মহলের অভিমত সারাদেশ যখন উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে তখন এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আবুল খায়ের এর মতো গুটি কয়েক মানুষ নিজের ভাগ্য বদলানোর উন্নয়নে ব্যস্ত। যা দেশ ও জাতির জন্য অশনি সংকেত সরূপ। সার্ভেয়ার আবুল খায়ের রিংকুর শক্তিশালী সিন্ডিকেট ভেঙে আইনের আওতায় আনতে দুদকসহ সংশ্লিষ্ঠ দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভূগীরা। অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে দ্বিধাবোধ করেন সার্ভেয়ার আবুল খায়ের রিংকু। তিনি এ বিষয়ে বসে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার প্রস্তাব দেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফুল আফসার বলেন, জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় জনগণের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিতে আনসার ব্যাটালিয়ন রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে র্যাবও আনা হবে। কোন দুর্নীতিবাজ সার্ভেয়ার ও কমকর্তার এখানে আশ্রয় হবে না।সুত্রঃআপনকন্ঠ













