
সোয়েব সাঈদঃ
কক্সবাজার সদর উপজেলার পশ্চিম চৌফলদন্ডী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিতর্কিত প্রধান শিক্ষক হামিদুর রহমানের অনিয়ম-দূর্ণীতির তদন্ত শুরু হয়েছে। অসংখ্য অনিয়ম-দুর্ণীতি দেখিয়ে এলাকার অভিভাবক ও সচেতন জনসাধারণ দু’মাস পূর্বে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-০২ এর উপ-পরিচালকসহ সংশি¬ষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শফিউল আলম জানান, তদন্তে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে এখনো এ নিয়ে লিখিত তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়নি।
এরই প্রেক্ষিতে গত ১৩ অক্টোবর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শফিউল আলম, জেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শহীদুল আজম, উপজেলা শিক্ষা অফিসার নুরুল আমিন, ও সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আবু শামীম অভিযোগ সমূহ তদন্তের জন্য ওই বিদ্যালয়ে যান।
পশ্চিম চৌফলদন্ডী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য ও স্থানীয় ইউপি সদস্য রাশেদুল ইসলাম জানান, অভিভাবকসহ এলাকাবাসী প্রধান শিক্ষকের বিভিন্ন অনিয়ম-দূর্ণীতির তথ্য তদন্তকারি কর্মকর্তাদের অবহিত করেন। অর্থাৎ তদন্তকারি কর্মকর্তারা অনিয়মের সত্যতা পেয়েছেন। তিনি আরো জানান, বর্তমান তদন্ত প্রতিবেদন প্রভাবিত করে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে প্রধান শিক্ষক হামিদুর রহমান ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনিক তদন্তকালে অনেক লোকজন এনে নিজের পক্ষে সাক্ষ্য দেয়া চেষ্টা চালান।
এদিকে দুদক সহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে দেয়া অভিভাবকদের অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক হামিদুর রহমান এ বিদ্যালয়কে নিজের গৃহে পরিনত করেছেন। একাধিক শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সদস্য প্রধান শিক্ষকের নিকটাত্মীয় হওয়ায় এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ক্ষমতার জোরও বেশী। যে কারনে প্রধান শিক্ষক স্বেচ্ছাচারিতা, স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম-দূর্ণীতি করলেও তার অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পায় না। ২০১৩ সালে হামিদুর রহমান পশ্চিম চৌফলদন্ডী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। দীর্ঘ ৭ বছর তিনি সরকারি নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে বিদ্যালয়টিকে দূর্ণীতির আখড়ায় পরিনত করেছেন। নৈশ্যপ্রহরী নিয়োগে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিদ্যালয়ের জন্য আসা সরকারী বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা উন্নয়নে যথাযথ ব্যয় না করে আত্মসাৎ করেন তিনি।
সূত্রমতে, বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের নিকটাত্মীয় ৩ শিক্ষকের মধ্যে রয়েছেন, মামা শাশুড় নুরুল হক, শ্যালক মোঃ মুজাহেদ ও মামী শাশুড়ি আসমাউল হোসনা। এছাড়া বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের ৩ নিকটাত্মীয়ের মধ্যে রয়েছেন, অভিভাবক প্রতিনিধি মামী শাশুড়ি লুৎফুন্নাহার, মাধ্যমিক শিক্ষক প্রতিনিধি স্ত্রীর বড় বোন সেলিনা আকতার ও শিক্ষক প্রতিনিধি মামা শাশুড় নুরুল হক।
লিখিত অভিযোগে অভিভাবকরা জানান, প্রধান শিক্ষক নিজেই বিদ্যালয়ে ভর্তি ফি, বই বিতরণ, পিএসসি রেজিস্ট্রেশন ফি,উপবৃত্তির ছবি তোলা, পিএসসি পাশকৃত শিক্ষার্থীদের সনদ বিতরণ, প্রবেশপত্র, ভুয়া সনদ ও প্রশংসা পত্র বিক্রি বাবদ ইচ্ছেমত অর্থ আদায় করে থাকেন। কোন গরীব শিক্ষার্থী উপরোক্ত ফি দিতে অপারগ হলে প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের উক্ত সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেন। এনিয়ে ক্ষুব্দ অভিভাবক ও এলাকাবাসী সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন অবিলম্বে প্রদান এবং বিতর্কিত প্রধান শিক্ষকের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।













