
সদরের বৃহত্তর ঈদগাঁওতে পরিবেশ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে বেশ কটি ইটভাটার জ্বালানী কাঠ পুড়ানো হচ্ছে। ফলে পার্শ্ববর্তী বনাঞ্চলের বৃক্ষাদি প্রতিনিয়ত উজাড় হলেও নজর নেই সংশ্লিষ্টদের। যার কারণে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। স্থানীয় সচেতন মহলের আশংকা এ অবস্থা চলতে থাকলে বৃক্ষশূণ্য হয়ে পড়বে পুরো বনাঞ্চল।
দেখা যায়, বৃহত্তর এলাকার তিন ইউনিয়নে বেশ কয়েকটি ইটভাটায় পুড়ানো হচ্ছে বনাঞ্চলের কাঠ। চুল্লীর পাশে স্বল্প ওজনের কয়লা রাখা হলেও সেগুলো লোক দেখানো বলে জানান নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক কজন শ্রমিক। এসব ইটভাটায় চলতি মৌসুমে ইট তৈরীর কার্যক্রম চলছে।
ইটভাটা মালিকরা সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে ম্যানেজ করে সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে কাঠ পাচার করে পোড়াচ্ছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। কজন ইটভাটার শ্রমিক বনাঞ্চলের কাঠ পুড়ানো হচ্ছে বলে স্বীকার করেন। এতে পাশ্ববর্তী বন বিভাগের সংরক্ষিত ও রক্ষিত পাহাড়ের সৃজিত বাগানের কচি বৃক্ষাদি উজাড় হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
জানা যায়, প্রত্যক ইটভাটায় ডাম্পার ও ট্রাক রয়েছে। মালিকদের বেতনধারী চালকরা এসব পরিবহন দিয়ে রাতদিন পার্শ্ববর্তী ঈদগড়, বাইশারী,রশিদনগর,খুটাখালী বনাঞ্চল থেকে চারাগাছ কেটে জ্বালানী কাঠ সংগ্রহ করে নিয়ে আসে স্ব-স্ব ইটভাটায় মজুদ করে রাখে। সন্ধ্যা পার হতে না হতেই জ্বালানী কাঠ ভর্তি ডাম্পার চলাচল বেশিভাগ চোখে পড়ে। এভাবে মালিকরা বেপরোয়া বন বাগানের মূল্যবান উঠতি গাছের চারা ইটভাটায় পুড়িয়ে বিপন্ন করেছে বনাঞ্চল আর পরিবেশ। ফলে একদিকে যেমন বন বিভাগের মূল্যবান বৃক্ষ সাবাড় হচ্ছে, সরকার হারাচ্ছে প্রচুর রাজস্ব। অন্যদিকে অনবরত গাছপালা কেটে ফেলার ফলে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব ও পরিবেশ তার ভারসাম্য হারিয়ে মানবদেহের ক্ষতিকারক অতিবেগুনী রশ্মি পৃথিবীতে এসে পড়ে।
সচেতন মহলের মতে, ইটভাটা গুলোতে অভিযান চালিয়ে বৃক্ষ নিধন বন্ধ করা জরুরী। এছাড়া কাঠ পাচারকারী ও ভাটা মালিকদের নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে অচিরেই কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বনজ সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাবে। কয়লার দাম বেশী হওয়ায় কমদামে কাঠ গুলো ক্রয় করে পুড়ানো হচ্ছে।
মেহেরঘোনা রেঞ্জ কর্মকতা মামুন মিয়ার সাথে কথা বলার চেষ্টা করেও মুঠোফোনের লাইন কেটে দেওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।













