
কফিল উদ্দিন রামু :
পর্যটন নগরী কক্সবাজার জেলার ভ্রমন পিপাসুদের জন্য অন্যতম নিদর্শন রামু উপজেলার রাবার বাগান। পাহাড়ি টিলা আর সবুজ ও সুশৃঙ্খল গাছের ছায়াতলে যারা নিজেকে বিলিয়ে দিতে চান, তাহলে রামু রাবার বাগান তাদের জন্য একটি আদর্শ স্থান। কক্সবাজার থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে রামু উপজেলায় এর অবস্থান। ১২ মাস( সারা বছর) ভ্রমণের উপযোগী একটি জায়গা। সারি সারি রাবারগাছের বাগানে ঢুকলে মন হারিয়ে যায় সবুজের সমারোহে। এক অদ্ভুত রোমাঞ্চকর সৌন্দর্য। নিবিষ্ট মনে প্রকৃতিতে অবগাহন করতে করতে কখন বেলা গড়িয়ে যাবে টেরও পাবেন না।
তথ্য উপাত্ত খুজে পাওয়া যায়, ১৯৬০-৬১ সালে অনাবাদি জমি জরিপ করে গবেষণার মাধ্যমে রামুতে ২ হাজার ৬৮২ একর জমিতে সর্বপ্রথম রাবার চাষাবাদ শুরু হয়। ঐতিহ্যবাহী এ রাবার বাগান আজ দেশের অন্যতমস্থান দখল করে নিয়েছে। এই বাগানে প্রায় ৫৮ হাজার মতো উৎপাদনক্ষম গাছ রয়েছে। যেখান থেকে আনুৃমানিক আড়াই লাখ কেজি রাবার উৎপন্ন হয়। যা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় একটি হাতিয়ার হিসাবে কাজ করে। তাছাড়া বাগান র্কতৃপক্ষের একটি দৃষ্টিনন্দন বিশ্রামাগার(রেষ্ট হাউস) রয়েছে। সেই বিশ্রামাগারে ৩টি কক্ষ (১টি ডাবল ৩টি সিংগেল বেড),১টি ড্রয়িং ও একটি কিচেন রয়েছে । যা রক্ষণাবেক্ষণ করে বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে রামু উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক সুমথ বড়ুয়া জানান,
বর্তমানে দেশ তথা সারাবিশ্বে মানুষের কাছে রামু মিনি থাইল্যান্ড হিসেবে পরিচিত। তারমধ্যে উচু নিচু পাহাড়ে রাগান সৌন্দর্য পর্যটকদের মনে কেড়ে নেয়।রাবার বাগান সহ রামু বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান সমূহ যদি সরকারী উদ্যােগে সৌন্দর্য বৃদ্ধির সহ পর্যটক কেন্দ্রিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে কক্সবাজারের পাশাপাশি পর্যটন শিল্পে নতুনমাত্রা যোগ হবে বলে আশা করি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা মেলে, বাগানে ঢুকতে কোনো বাধা-নিষেধ নেই। তবে রাবার কষ প্রক্রিয়াকরণ কারখানায় ঢুকতে অনুমতি নিতে হয়। কারখানার ভেতরেই স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অফিস। বাইরে দায়িত্বরত আনসার সদস্যকে বললে তিনি অফিসে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন। কারখানায় ঝোলানো অরিজিনাল রাবারও আছে। তবে রাবার প্রক্রিয়াকরণ চুল্লির কাছে যাওয়া নিরাপদ নয়। কেননা চুল্লিতে সব সময়ই আগুন থাকে, পা ফসকে গেলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। রাবার বাগানের বিভিন্ন স্পটে স্পটে দেখা মেলে দেশের বিভিন্ন স্থান হতে শিক্ষা সফর বা ভ্রমনে আগত বিদ্যালয় ও বন্ধু মহলের আড্ডা,খাওয়া দাওয়া,নাচগানে মুখরিত হতে। আবার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন,,বন্ধুপ্রতিম সংগঠনের বিভিন্ন সভা সমাবেশের আয়োজনও করতে দেখা মেলে রামুর এই রাবার বাগানে।তাছাড়াও প্রতিদিন দেশ-বিদেশের অসংখ্য পর্যটক রামু রাবার বাগান পরিদর্শন করতে আসে। পাহাড় আর সমতলের অপূর্ব মিলনের দৃশ্য উপভোগ করে মুগ্ধহন ভ্রমনপিপাসুরা।
কিভাবে যাওয়া যায় পাঠকের সুবিধার্থে তুলে ধরা হলো, রামু চৌমুহনী ষ্টেশন থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার উত্তরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী ও নির্মাণাধীন বিকেএসপির দক্ষিন পুর্বদিকেই রাবার বাগানের অবস্থান । এ বাগানে রিক্সা, টেক্সী বা অন্যান্য যানবাহন নিয়ে যাওয়া যাবে।
রামু রাবার বাগানকে ঢেলে সাজানো হলে পর্যটন শিল্পবিকাশে অপার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যাবে বলে মতবাদ ব্যক্ত করেন রামু বিশিষ্টজনেরা।













