
রামু প্রতিনিধি :
রামুর কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের উখিয়ার ঘোনা গোলাইঘোনা এলাকায় স্ত্রীর পরকীয়ার জের ধরে স্বামীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়।
জানা যায় নিহত আব্দুস ছালাম (৪৫) উখিয়ারঘোনা সওদাগর পাড়া এলাকার মৃত নাছির মোহাম্মদের পুত্র। সে পরিবার পরিজন নিয়ে উখিয়ারঘোনা গোগলাইঘোনা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিলেন
১৩ ই মার্চ শনিবার রাত আনুমানিক সময় ৮:৩০ মিনিটের সময় তার নিজ বাড়িতে মৃতদেহ দেখতে পায় স্বজনরা। পরে তার ঘাতক স্ত্রী তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন। সেখান থেকে পোস্টমডেম শেষে তার গ্রামের বাড়ি উখিয়ারঘোনা সওদাগর পাড়াস্থ কবরস্থানে দাফন কার্য সম্পাদন করা হয়।
ঘটনার কারন অনুসন্ধান করতে গিয়ে উঠে আসে এক নতুন ইতিহাস, নিহত আব্দুস সালামের স্ত্রীর সাথে একই এলাকার মুদির দোকান ব্যবসায়ীর দীর্ঘদিনের অবৈধ সম্পর্ক ছিল, সেই সম্পর্কের কথা তিনি জানতে পারাতে তার স্ত্রীকে অনেকবার অনেক কাকুতি মিনতী করে নিষেধ করে সেই অবৈধ সম্পর্কের পথ থেকে ফিরে আসতে,কিন্ত তার স্ত্রী কথা কর্নপাত না করে অবৈধ কার্যকলাপ দিন দিন বাড়াতে থাকে। এক পর্যায়ে মুদির দোকানদার ছলিম উল্লাহ নিহত আব্দুস সালামকে মারধর,হত্যাসহ নানা ধরনের হুমকি প্রদর্শন করেন। সেই থেকে কিছুটা বিষাদগ্রস্ত হন নিহত আব্দুস সালাম। অবৈধ কাজ থেকে ফিরে আসার জন্য বারংবার নিষেধ করলে এক পর্যায়ে তার স্ত্রী তাকে তিন তালাকেরও হুমকি প্রদর্শন করেন বলে জানা যায়। অপরদিকে আনুমানিক সময় ২২ শে ফেব্রুয়ারি মুদির দোকানদারের মেঝ ছেলে সোহেল নিহত আব্দুস সালামকে মারধর সহ নানান রকম অপদস্থ করেন লোক সমাজের সামনে।
স্থানীয়রা জানান, নিহত আব্দুস সালামের ২ পুত্র সহ ১ কন্যা সন্তান রয়েছে। গেল কিছুদিন আগে বড় সন্তানকে খুব জাকজমক ভাবে বিয়ে করান। তবে পরিবার পরিজন নিয়ে খুব অভাব অনটনে ছিল সে। অপরদিকে তার স্ত্রীর পরকিয়ার টেনশন। সবদিক মিলে বেশকিছুূদিন খারাপ সময় ছিল হতভাগা আব্দল সালামের। আমাদের ধারনা এটা আত্নহত্যা না এটা পরিকল্পিত ভাবে হত্যা হতে পারে। কেননা মুদির দোকানদার ছলিম উল্লাহ সহ তার মেঝ ছেলে সোহেল বেশ কয়েকবার মেরে ফেলার হুমকি প্রদর্শন করেছিলেন। তবে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট আসলেই বলা যাবে হত্যা নাকি আত্নহত্যা।
এদিকে মুদির দোকানদার ছলিম উল্লাহ সহ তার পরিবার পলাতক রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এবিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেএম আজমিরুজ্জামান জানান, যেহেতু মৃত আব্দুস সালামকে তার স্ত্রী কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে সদর থানার সহযোগিতায় পোস্টমডেম করেছে,সেহেতু এটাকে দেখবাল করবে সদর থানা, তারা রিপোর্ট অনুসারে এটাকে অপমৃত্যু মামলা রুজু করবেন। এবিষয়ে রামু থানায় কোনো ধরনের অভিযোগ বা এজাহার হয় নাই।













