
নিজস্ব প্রতিবেদক, রামু
রামু উপজেলার উত্তর মিঠাছড়ি প্রজ্ঞামিত্র বনবিহারের অধ্যক্ষ সারমিত্র মহাথের আর নেই। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় রামু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে আবাল্য ব্রহ্মাচারী সারমিত্র মহাথেরর বয়স হয়েছিল ৫২ বছর। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পরে প্রয়াত বিহার অধ্যক্ষ সারমিত্র মহাথেরর মরদেহ ধর্মীয় আচারের মাধ্যমে প্রজ্ঞামিত্র বনবিহারে রাখা হয়েছে। সন্ধ্যার পরে সারমিত্র মহাথেরর মরদেহ রামুর উত্তর মিঠাছড়ি প্রজ্ঞামিত্র মহাবিহারে পৌঁছালে, শোকাহত বৌদ্ধ নারী-পুরুষসহ সর্বস্তরের জনতা, রাজনীতিবিদ, প্রশাসনের প্রতিনিধি এই বৌদ্ধ ভিক্ষুর প্রতি সম্মান জানাতে ছুটে আসেন।
সমাজ সর্দার বাবুল বড়ুয়া ও প্রজ্ঞামিত্র বনবিহারের সাধারণ সম্পাদক টিটু বড়ুয়া জানান, সারমিত্র মহাথের সোমবার (১৮ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত তাঁকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়া হলে, কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ৯টার দিকে হাসপাতালের সিসিইউ বিভাগে ভর্তি করে চিকিৎসা সেবা দেন। মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) বিকালে বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু সারমিত্র মহাথেরর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে, কক্সবাজার সদর হাসপাতালের চিকিৎসক তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
প্রজ্ঞামিত্র বনবিহারের সাধারণ সম্পাদক টিটু বড়ুয়া আরও জানান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁর (সারমিত্র মহাথের) শারীরিক অবস্থা আরও অবনতি হয়ে পড়ায়, পথিমধ্যে রামু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। রামু হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সারমিত্র মহাথেরকে মৃত ঘোষনা করেন।
বৌদ্ধদের ধর্মীয় গুরু সারমিত্র মহাথেরর মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন কক্সবাজার-৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল। মঙ্গলবার এক শোকবার্তায় সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি প্রয়াত বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু সারমিত্র মহাথেরর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
প্রজ্ঞামিত্র বনবিহারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নীতিশ বড়ূয়া জানান, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রয়াত ভিক্ষু সারমিত্র মহাথেরর মরদেহ বিহারে রাখা হয়েছে। আগামী কিছু দিনের মধ্যে মরদেহ পেটিকাবদ্ধ করে সংরক্ষণ করা হবে। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে।
তিনি আরও জানান, সারমিত্র মহাথের কক্সবাজারের রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের উত্তর মিঠাছড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আনন্দ মোহন বড়ূয়া ও মা চারুবালা বড়ুয়া। আবাল্য ব্রহ্মাচারী প্রয়াত সারমিত্র মহাথের ছিলেন, প্রজ্ঞামিত্র বনবিহারের প্রয়াত অধ্যক্ষ প্রজ্ঞামিত্র মহাথেরর প্রথম শিষ্য।













