টেকনাফে মসজিদ থেকে বের করে কুপিয়ে হত্যা, পা কেটে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা

0
12

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরং ইউনিয়নের লবণচাষী ও সমাজকর্মী নুরুল হক ভূট্টোকে গত ১৫ মে হত্যা করা হয়। ইউপি নির্বাচনের বিরোধের জের ধরে একটি শালিসি বৈঠক থেকে ফেরার পরে ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী’ একরামের নেতৃত্বে তাকে হত্যা করা হয়। হামলার হাত থেকে বাঁচতে ভূট্টো একটি মসজিদে আশ্রয় নিলে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে সেই মসজিদের দরজা ভেঙে তাকে বের করে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। হত্যার পর ভূট্টোর এক পা কেটে নিয়ে কাঁধে করে বিজয় উল্লাস কররে করতে সেখান থেকে চলে যায় সন্ত্রাসীরা।

এমন নৃশংস হত্যার আড়াই মাস পার হলেও হত্যার মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। উল্টো এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদী ভূট্টোর ছোট ভাই নুরুল ইসলাম নুরুকে ফেসবুক লাইভে এসে হুমকি ধমকি দিচ্ছে সন্ত্রাসীরা।

বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন টেকনাফে খুন হওয়া নুরুল হক ভুট্টোর ভাই মো. নুরুল ইসলাম নুরু।

এসময় হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের সহায়তা কামনা করেন তিনি।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নুরুল ইসলাম নুরু বলেন, ‘চলতি বছরের ১৫ মে সাবরাং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নূর হোসেনের বাড়িতে একটি সালিশি বৈঠকে যোগ দিয়ে ফেরার পথে আমার বড় ভাই নুরুল হক ভুট্টোকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।’

হত্যার কারণ সম্পর্কে নুরু বলেন, ‘গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার নির্বাচনের বিরোধকে কেন্দ্র করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত টেকনাফের চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী একরামের নেতৃত্বে আমার ভাইকে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।’

তিনি বলেন, ‘২০২০ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আহ্বানে যে ১০২ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী আত্মসমর্পণ করেছিল তাদের মধ্যে একরাম ছিল ২ নম্বরে। আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করলেও বাস্তবে একরামের মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম এখনো চলছে। এলাকায় আমার ভাইয়ের পরিচ্ছন্ন ইমেজ ছিল। আমার ভাইয়ের কারণে নির্বাচনে চাচাতো ভাই বিপুল ভোটে জয়ী হয়। মূলত সেই থেকেই নুরুল হক ভূট্টোর ওপর ক্ষুব্ধ ছিল একরাম ও তার বাহিনী।’

হত্যার নৃশংসতার বর্ণনা তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে কাঁদতে কাঁদতে নুরু বলেন, ‘হামলার মুখে জীবন বাঁচাতে আমার ভাই দৌঁড়ে গিয়ে মসজিদে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিলেও হামলাকারীরা চাইনিজ কুড়াল এনে মসজিদের দরজা কেটে তাকে টেনে হিঁচড়ে বের করে কুপিয়ে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত করার পর হত্যাকারীরা আমার ভাইয়ের ডান পা কেটে কাঁধে নিয়ে বিজয় উল্লাস করতে করতে চলে যায়। আমার ভাইকে দাফন করতে হয়েছে এক পা ছাড়াই।’

নুরু বলেন, এই নৃশংস ঘটনার পরের দিন ১৭ জনকে এজাহারভুক্ত এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৮-১০ জনকে আসামি করে টেকনাফ থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ এখন পর্যন্ত মাত্র ৭ আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছে। এ ঘটনার আড়াই মাস পার হয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ইয়াবা সম্রাট একরামসহ বেশিরভাগ আসামি স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মূলত একরামের বিভিন্ন অপকর্মের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার অপরাধে আমার ভাই ও আমার পরিবারকে চড়া মাসুল দিতে হয়েছে। একরাম ও তার অনুগত সন্ত্রাসীদের নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার আমরা। এ অবস্থায় হত্যাকাণ্ডের আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় এবং তাদের হুমকিতে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি। আমরা জীবনের নিরাপত্তা ও আমার ভাইকে হত্যার বিচারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজনীন সরোয়ার কাবেরী, নিহতের মা আবেদা খাতুন, স্ত্রী নাজনীম সুলতানা,  বড় ভাইয়ের স্ত্রী লাইলা বেগম, ছোট ভাই নুরুল আবসার খোকন ও ভাগিনা বেলাল, নূরুল আবছার।-সিভয়েস

আগেসৈকতে কিটকটে শৃঙ্খলা ফেরাতে ট্যুরিস্ট পুলিশের অভিযান
পরেকাউয়ারখোপ ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক কমিটি গঠিত