
সাগরে ১০ হত্যাকাণ্ড নিয়ে একের পর এক তথ্য বেরিয়ে আসছে। এবার এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার গিয়াস উদ্দিন ওরফে মুনির আসামি জানিয়েছেন- এই হত্যাকাণ্ডে মহেশখালী পৌরসভার কাউন্সিলর খায়ের হোসেন জড়িত এবং তিনি একজন পেশাদার জলদস্যু। জবানবন্দি দেয়া আসামি গিয়াস উদ্দিন ওরফে মুনিরের বাড়ি চকরিয়ার কোনাখালীতে।
বৃহস্পতিবার (৪ মে) আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন তিনি।
পুলিশ জানায়, আদালতের জবানবন্দিতে আসামি গিয়াস উদ্দিন বলেছেন, পেশায় তিনি লবণ চাষী হলেও মাঝেমধ্যে সাগরে নেমে মাছধরার বোটে ডাকাতি করেন। গিয়াসকে ডাকাতিতে নামিয়েছেন সোনাদিয়ার জলদস্যু মো. সুমন ।
জবানবন্দিতে গিয়াস উদ্দিন আরও বলেছেন, শেষবার তিনি আরো কয়েকজন জলদস্যুর সঙ্গে সাগরে ডাকাতি করতে যান রোজার দ্বিতীয় দিন। জলদস্যু সুমনের কথায় ওই সময় মহেশখালী পৌরসভার বর্তমান কাউন্সিলর খায়ের হোসেনের মালিকানাধীন মায়ের দোয়া বোট নিয়ে সাগরে ডাকাতি করতে যায় তারা। ওই বোটে ছিল নিহত শাপলাপুরের নুরুল কবির ও চকরিয়ার কোনাখালীর সাইফুল ইসলামসহ আরো সাত জলদস্যু। দুইদিনে দুটি বোটে ডাকাতি করে বিপুল মাছ ও মালালমাল লুট করেন তারা। দুইদিন পর দুপুরে লুটের মালামালসহ মায়ের দোয়া বোটটি নাজিরারটেক উপকূলে পৌঁছায় এবং আরেকটি বোট নিয়ে সেখানে আসেন কাউন্সিলর খায়ের হোসেন ও জলদস্যু সুমন। কিছুক্ষণ পর লুটের মালামালগুলো বোটে তুলে নিয়ে মহেশখালীর দিকে চলে যান খায়ের ও সুমন।
জলদস্যু গিয়াস উদ্দীন জানান, লবণের মাঠে কাজ থাকায় তিনি পরেরবার সাগরে ডাকাতি করতে যাননি। গেলে নিহত ১০জনের সাথে তিনিও মারা যেতেন। কিন্তু যাওয়ার জন্য জলদস্যু সুমন ও নিহত শাপলাপুরের নুরুল করিব তাকে কয়েকবার ফোন করেছিলেন।
জলদস্যু গিয়াস উদ্দীনের জবানবন্দির পর থেকে কাউন্সিলর খায়ের হোসেনের জলদস্যুতার কাহিনী সর্বমহলে জানাজানি হয়ে যায়। এতে ব্যাপকভাবে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। একজন কাউন্সিলর জলদস্যুতার মতো জঘন্য অপরাধে খায়ের হোসেন জড়িত থাকায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকেই সবাই তাকে দিনের কাউন্সিলর ও রাতে জলদস্যু হিসেবে ধিক্কার জানাচ্ছেন।
এদিকে এর মধ্যে কাউন্সিলর খায়ের হোসেন গ্রেপ্তার হয়েছেন খবর বেরিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তার গ্রেপ্তারের তথ্য জানায়নি।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, গত ২৩ এপ্রিল বিকেলে শহরের নাজিরারটেক উপকূলে ডুবন্ত একটি মাছ ধরার বোট থেকে থেকে ১০ জনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি মামলা করেন ডুবন্ত বোটের মালিক মহেশখালীর হোয়ানক ইউনিয়নের বাসিন্দা নিহত সামশুল আলমের স্ত্রী রোকিয়া আকতার। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।













