রামুর চাকমারকুলে যুবককে অ*পহরণের চেষ্টা, রোহিঙ্গা সহ ২ জনকে গনধোলাই

0
6

রামু প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের রামু উপজেলার চাকমারকুল ইউনিয়নে যুবককে অপহরণের চেষ্টা চালিয়েছে একটি চক্র। এসময় স্থানীয় জনতা রোহিঙ্গা সহ ২ জনকে হাতে-নাতে ধরে গনধোলাই দিয়েছে। পরে কৌশলে একজন পালিয়ে যায় এবং অপর একজনকে স্থানীয় ইউপি সদস্যের মাধ্যমে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রবিবার, ১৮ জুন সন্ধ্যা ৭ টার দিকে রামুর চাকমারকুল ইউনিয়নের কলঘর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
জনতার হাতে ধরা পড়া অপহরণকারি ও প্রতারকদ্বয় হলেন- কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের জুমছড়ি এলাকার মো. শরীফ ও চাকমারকুল এলাকার আলী হোছেন সিকদার পাড়ার আবদুল হাকিম।
অপহরণচেষ্টার শিকার যুবক মামুনুর রশিদ জানান- মো. শরীফ একজন চিহ্নিত প্রতারক। ২ বছর পূর্বে ওই ব্যক্তি তার মাকে পবিত্র হজ¦ পালনের জন্য নিয়ে যাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে প্রায় ৮ লাখ টাকা নিয়ে যান। পরে বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়েও ওই টাকা পরিশোধ না করে উল্টো বিভিন্ন প্রকার হুমকী ধমকি দিয়ে আসছিলো। সম্প্রতি তিনি (মামুন) একটি জমি বিক্রয় করেন। জমি বিক্রির টাকায় তিনি সম্প্রতি ইট-বালির ব্যবসা শুরু করেছেন। কিন্তু ইট-বালি মজুত রাখার স্থানে গিয়ে মো. শরীফ তার কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে আসছেন। চাহিদা মতো চাঁদা না দেয়ায় তাকে অপহরণের হুমকী দিয়ে আসছিলো মো. শরীফ ও তার সহযোগিরা। এরই জের ধরে রবিবার সন্ধ্যায় তাকে কলঘর বাজার থেকে জোরপূর্বক অপহরণের চেষ্টা চালায় মো. শরীফ, আবদুল হাকিম সহ ৪/৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি। পরে বাজারের ব্যবসায়ি ও পথচারিরা তাকে অপহরণের কবল থেকে রক্ষা করে। এসময় লোকজন তাদের হাতে নাতে ধরে ফেলে। খবর পেয়ে চাকমারকুল ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বার বেলাল উদ্দিন ঘটনাস্থলে যান। একপর্যায়ে মো. শরীফ তার কয়েকজন সহযোগিসহ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। ধৃত অপর ব্যক্তি আবদুল হাকিম এ ধরনের অপকর্ম করবে না মর্মে অঙ্গীকার করলে ইউপি সদস্য বেলাল পুলিশ প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে চাকমারকুল ইউনিয়নের পরিষদের গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে আবদুল হাকিমকে তার এলাকায় পৌঁছে দেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত বাজারের ব্যবসায়ি ছুরুত আলম, মোর্শেদ কামাল শাহীন ও মুজিবুর রহমান জানান- অপহরণকারিরা প্রকাশ্যে মামুনকে দা দিয়ে হত্যার হুমকী দিয়েছে। তারা সবাই অপহরণ, চাঁদাবাজি সহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত। এদের মধ্যে আবদুল হাকিম রোহিঙ্গা নাগরিক। ইউপি সদস্য বেলাল উদ্দিনের আপ্রাণ চেষ্টায় অপহরণকারিরা গনধোলাইয়ের কবল থেকে প্রাণে রক্ষা পেয়েছে।
প্রতারণার শিকার জান্নাতুল বকেয়া জানান- মো. শরীফ ২ বছর পূর্বে তাকে হজে¦ নেয়ার আশ^াস দিয়ে ৮ লাখ টাকা নেন। পরে হজে¦ নেয়া দূরের কথা, টাকাগুলো ফেরত দেয়নি। হজে¦ নেয়ার নামে সে বড় ধরনের প্রতারনা করেছে। তিনি আরও জানান- দীর্ঘ ৩২ বছর পূর্বে আবদুল হাকিমের সাথে তার বিয়ে হয়। যদিও সে রোহিঙ্গা নাগরিক। কিন্তু বিয়ের পর ২ ছেলে মেয়ে রেখে সে বিদেশে চলে যায়। এরপর থেকে পরিবারের কোন খবর নেয়নি। এখন সে প্রতারক মো. শরীফের সাথে একাত্ম হয়ে আমার ছেলেকে অপহরণের চেষ্টা চালাচ্ছে।
চাকমারকুল ইউনিয়ন পরিষদের ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বার বেলাল উদ্দিন জানিয়েছেন- জনতার সহযোগিতায় মামুন অপহরণের চেষ্টা থেকে রক্ষা পেয়েছে। অপহরণে জড়িত মো. শরীফ চিহ্নিত প্রতারক ও চাঁদাবাজ। সে ইতিপূর্বে জান্নাতুল বকেয়া নামের একজন মহিলার কাছ থেকে হজে¦ নেয়ার আশ্বাসে ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এখন জান্নাতুল বকেয়ার ছেলের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে আসছে। চাঁদা না দেয়ার মামুনকে অপহরণের চেষ্টা চালিয়েছিলো। ঘটনাস্থলে ২ জনকে জনতা আটক করলেও মো. শরীফ পরে পালিয়ে যায়। রোহিঙ্গা নাগরিক আবদুল হাকিমকে চৌকিদারদের মাধ্যমে স্বজনদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। কিন্তু এ ঘটনার পর থেকে অপহরণকারি চক্রটি উল্টো আবদুল হাকিমকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে মর্মে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। অথচ বাজারের সকল ব্যবসায়ি ও স্থানীয় জনসাধারণ নিজেরা পুরো ঘটনা দেখেছে। এখানে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো সুযোগ নেই।

আগেরামু গর্জনিয়া বেলতলি বাজার আদর্শ ইবতেদায়ী ও নূরানী ক্যাডেট মাদ্রাসার অভিভাবক সমাবেশ 
পরেরামুর ধেছুয়া পালং উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রশাসনের দেয়া সীমানা খুঁটি ও লাল পতাকা উপড়ে দিয়েছে ভূমিগ্রাসী চক্র