পেকুয়ায় ৩য় শ্রেণীর ছাত্রীকে দপ্তরীর যৌন নিপিড়নের অভিযোগ

0
6

পেকুয়া প্রতিনিধিঃ

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ৩য় শ্রেণীর এক ছাত্রীকে যৌন নিপিড়নের অভিযোগ ওঠেছে স্কুল দপ্তরী মোঃ ইউসুপের বিরুদ্ধে।
রোববার বিকালে মগনামা ইউনিয়নের মধ্য মগনামা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ যৌন নিপিড়নের ঘটনা ঘটে।

এঘটনায় ভিকটিমকে উদ্ধার করার পাশাপাশি কয়েকদফা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। পলাতক থাকায় এ ঘটনায় অভিযুক্ত দপ্তরী একই ইউনিয়নের পশ্চিমকূল এলাকার মৃত আবু ছৈয়দের ছেলে মোঃ ইউসুপকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

ভিকটিমের পিতা ছরওয়ার আলম বলেন, স্কুল থেকে আমার মেয়ে আসার পর তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাই। কারণ জানতে চাইলে সে জানায়, তার সাথে দপ্তরী ইউসুপ খারাপ কাজ (ধর্ষণ) করেছে। দ্রুত স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিশাত জাহানকে আমি ঘটনাটি অবগত করি। তিনি কোন ধরণের সহযোগিতা না করায়, পরে ইউপি চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিমকে অবগত করি। তিনিই ঘটনাটি থানা পুলিশকে অবগত করেন। রাতেই পুলিশ বাড়িতে এসে আমার মেয়েকে থানায় নিয়ে গেছে। আমরা পুলিশকে ধর্ষণের বিষয়টি জানিয়েছি।

তবে স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিশাত জাহান বলেন, মেয়েটি আমাকে ধর্ষণের কথা বলেনি। শুধু বলেছে তাকে টয়লেটে নিয়ে যৌন নিপিড়ন করেছে স্কুলের দপ্তরী ইউসুপ। আমরা বিষয়টি সমাধান করার জন্য অন্য কাউকে অবগত করিনি।

স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুল্লাহ ফারুক বলেন, দিনের ঘটনা হলেও আমি বিষয়টি জেনেছি রাতে। তাৎক্ষনিকভাবে বিষয়টি আমি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও ইউপি চেয়ারম্যানকে অবগত করেছি। তবে প্রধান শিক্ষক এবিষয়ে আমাকে কিছুই জানায়নি।

মগনামা ইউপি চেয়ারম্যান শরাফত উল্ল¬াহ ওয়াসিম বলেন, স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের কথা পরিবার থেকে আমাকে জানানো হয়েছিল। রাতেই আমি থানার ওসিকে বিষয়টি অবগত করি। থানা পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে, তাই আমি ধর্ষণ বা ধর্ষণ চেষ্টা কিনা তা এখন মন্তব্য করতে পারবো না।

এব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সালামত উল্লাহ বলেন, ঘটনাটি জানার পর থানার ওসির সাথে আমি ওই স্কুলে গিয়েছি। সবার সাথে কথা বলেছি। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবেন বলে আমাকে জানিয়েছেন।

পেকুয়া থানার ওসি কামরুল আজম বলেন, পরিবার থেকে ধর্ষণের অভিযোগ করা হলেও মনে হচ্ছে যৌন নিপিড়নের ঘটনা। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করেছি। ভিকটিম ও তার পরিবারের সাথে কথা বলেছি। অভিযুক্তকে আটকের চেষ্টা চালোনো হচ্ছে।

 

 

এদিকে স্কুল শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মোঃ ইউসুপ দপ্তরী নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে স্কুলে প্রভাব দেখাতে শুরু করেন। বিনা কারণে সে শিক্ষার্থীদের মারধর করতো। গত দুই বছর আগেও এক স্কুল শিক্ষার্থীকে যৌন নিপিড়ন চালিয়েছিল এ দপ্তরী। তার কোন বিচার না হওয়ায় তিনি আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেছেন। এবারেও হয়তোবা তিনি অদৃশ্য শক্তির কারণে পার পেয়ে যাবেন। এ দুশ্চরিত্র দপ্তরীকে আটক করে আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন তারা।

আগেরোহিঙ্গাদের কারণে পরিবেশের ক্ষতির প্রতিবেদন ‘মনগড়া’ দাবী পরিবেশবিদদের
পরেপেকুয়ায় সিএইচসিপি শহিদুল ইসলামের অশ্লীল ভিডিও ফাঁস