
পেকুয়া প্রতিনিধি
কক্সবাজারের পেকুয়ায় কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) শহিদুল ইসলামের একটি অশ্লীল ভিডিও ফাঁস হয়েছে। এনিয়ে পুরো উপজেলায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সরকারী কর্মকর্তার নৈতিক স্থলনের বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছে সচেতন মহল।
জানা গেছে, শহিদুল ইসলাম বারবাকিয়া ইউনিয়নের আনোয়ার হোসেনের পুত্র। তিনি পেকুয়া সদর ইউনিয়নের পশ্চিম সিরাদিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকে সরকারী কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও প্রাইভেট ক্লিনিক নুর হাসপাতালে রোগীদের দেখাশুনা করেন।
এদিকে তার অশ্লীল ভিডিওটি বিভিন্ন জনের মোবাইলে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় এলাকাবাসী ও স্বাস্থ্য বিভাগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। চলছে নানা আলোচনা ও সমালোচনা। এঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগে তোলপাড় চললেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ভিডিওতে দেখা গেছে, হেলথ প্রোভাইডার শহিদুল ইসলাম কক্সবাজার আবাসিক হোটেলের একটি রুমে কাপড়বিহীন অবস্থান করছেন। ভিডিওতে এক মহিলার সাথে কথা বলছিলেন। কিন্তু ওই মহিলাকে দেখা যাইনি ওই ভিডিওতে।
স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছেন, চকরিয়া উপজেলার ঢেমুশিয়া এলাকার এক মেয়েকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ করেন হেলথ প্রোভাইডার শহিদুল ইসলাম। পরে বিয়ে করবে না মর্মে মেয়েটা নিশ্চিত হলে হোটেলে অবস্থানকালীন একটি ভিডিও রেকর্ড করেন। তবে ভিডিওটি কে ধারণ করেছে সেই বিষয়ে কিছুই জানা যায়নি।
এবিষয়ে হেলথ প্রোভাইডার শহিদুল ইসলাম বলেন, ঢেমুশিয়া এলাকার এক মেয়ের সাথে আমার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের কথাও চলছিল। যেহেতু বিয়ে হবে তাই আমাদের মাঝে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মেয়েটি নিজেই আমাকে বিয়ে করবে না জানিয়ে কৌশলে আমাকে ফাঁসানোর জন্য ভিডিওটি বিভিন্ন জনকে পাঠিয়েছে। দুজনের সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে। তা ধর্ষণ কেন হবে ? সে আমার অশ্লীল ভিডিওটি ধারণ ও ছড়িয়েছে। সে আরো বেশি অপরাধ করেছে। বিয়ে কেন হচ্ছে না জানতে চাইলে তিনি বলেন, মেয়ের পরিবারের অনেক চাহিদা তাই বিয়ের কথাটি বন্ধ হয়ে যায়।
পেকুয়ার স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত কয়েকজন না প্রকাশ না করে জানিয়েছেন, তিনি একটি হেলথ কেয়ারের প্রোভাইডার হলেও অফিস করেন না। সরকারী দায়িত্ব পালনের সময়ে তিনি পূর্তি করে বেড়ান। কেউ কিছু বললে তার প্রভাবশালী আত্বীয় স্বজনের ভয় দেখান।
এবিষয়ে দিদারুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি বলেন, শহিদুল ইসলাম ভন্ড প্রকৃতির মানুষ। আমার নিকট আত্নীয় এক নারীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ করেছে সে। এব্যাপারে আমরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
পেকুয়ার নুর হাসপাতলের পরিচালক ও সরকারী হাসপাতালের এমআরও মুজিবুর রহমান জানান, ভিডিওটি দেখার পর আমরা হতবাক হয়ে পড়ি। মেয়েটাকে বিয়ে করার জন্য আমরা তাকে বলেছিলাম। সে বিয়ে না করলে আমাদের করার কিছু করার থাকে না। তবে আমার হাসপাতাল থেকে তাকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে।
পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ছাবের আহমদ জানান, আমি যতটুকু জানি মেয়েটার সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের কথাও চলছিল। এরই মাঝে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে আমি তাদের সাথে বসেছিলাম। কিন্তু তারা সমাধানে আসেনি।
শহিদুলের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি জানান, এবিষয়ে কেউ অভিযোগ না করায় কোন ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। তবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি।













