কক্সবাজারে ৩ ‘রেড জোনে’ ১১ জুলাই পর্যন্ত ছুটি

0
7

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

কক্সবাজার জেলার ৩টি এলাকাকে করোনাভাইরাস সংক্রমণপ্রবণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করায় সেখানে সাধারণ ছুটি দিয়েছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গতকাল মঙ্গলবার কক্সবাজার জেলার ৩টি রেড জোন এলাকায় আজ বুধবার ২৪ জুন থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে আদেশ জারি করেছে। যা আগামী ১১ জুলাই পর্যন্ত এই সাধারণ ছুটি থাকবে।

কক্সবাজার জেলার ৩টি রেড জোন ঘোষিত এলাকার সীমান হল: ১. কক্সবাজার সদর উপজেলাধীন কক্সবাজার পৌরসভা, ২. টেকনাফ উপজেলাধীন টেকনাফ পৌরসভা ও ৩. উখিয়া উপজেলাধীন রাজাপালং ইউনিয়নের ২, ৫, ৬ ও ৯ নং ওয়ার্ড, রত্নাপালং ইউনিয়নের কোটবাড়ি বাজার, পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী ও থাইংখালী বাজার।

গত শনিবার (২০ জুন) এই অঞ্চলগুলো রেড জোনের অন্তর্ভূক্ত বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়। সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয় ২৪ জুন হতে ১১ জুলাই পর্যন্ত। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২৩ জুন (মঙ্গলবার) রাতে প্রজ্ঞাপনটি জারি করে। এতে কক্সবাজারসহ মাগুরা, খুলনা ও হবিগঞ্জের সাতটি ‘রেড জোনে’ ২৪ জুন থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে আদেশ জারি করা হয়।

ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণের জন্য স্থানীয় প্রশাসন লাল অঞ্চলে জীবনযাত্রা ‘কঠোরভাবে নিযন্ত্রণ’ করতে পারবে। অফিস-কারখানা বন্ধ থাকবে, যানবাহন ও সাধারণের চলাচলে থাকবে কড়াকড়ি। এনিয়ে তিন দফায় ১৯ জেলার ৪৫টি এলাকাকে ‘রেড জোন’ ঘোষণা করে সেখানে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হল।

আদেশে বলা হয়েছে, “লাল অঞ্চল ঘোষিত এলাকায় অবস্থিত সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ ও বেসরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় কর্মরত ও অন্য এলাকায় বসবাসরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও এ ছুটি প্রযোজ্য হবে।”

জরুরি পরিষেবা এ সাধারণ ছুটির আওতা বহির্ভূত থাকবে। দেশজুড়ে দুই মাসের লকডাউনের পর করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে এখন সংক্রমণপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে নানা বিধিনিষেধ আরোপের কৌশল নিয়েছে সরকার।

এদিকে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া তথ্য মতে, গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত এ নিয়ে জেলায় ৪৬ জন রোহিঙ্গাসহ করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ২ হাজার ১৯৭ জনে। এদের মধ্যে কক্সবাজার সদর উপজেলার ৯৮৮ জন, রামু উপজেলার ১৮৫ জন, উখিয়া উপজেলার ২৬০ জন, টেকনাফ উপজেলার ১৯৫ জন, চকরিয়া উপজেলার ৩০৭ জন, পেকুয়া উপজেলার ৯২ জন, মহেশখালী উপজেলার ৮৯ জন ও কুতুবদিয়া উপজেলার ৩৫ জন বাসিন্দা রয়েছে। এছাড়াও উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পের বাসিন্দা ৪৬ জন রোহিঙ্গা রয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া তথ্যে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলায় আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ী ফিরেছে ৭৩০ জন। মৃত্যু হয়েছে ৩৫ জনের। এদের মধ্যে ৫ জন রোহিঙ্গা রয়েছে। কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের (কমেক) অধ্যক্ষ ডাঃ অনুপম বড়ুয়া জানান, গত ১ এপ্রিল থেকে কমেকের ল্যাবে করোনা আক্রান্তদের নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এ নিয়ে গত ৭ দিনে কমেক ল্যাবে সন্দেহভাজন মোট ১৫ হাজার ৯৫২ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে।

আগেটেকনাফে সন্ত্রাসীদের হাতে অপহৃত এক ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার
পরেদেশে ছুটিতে থাকা প্রবাসীরা সৌদিতে ফিরতে পারবে না