
খালেদ শহীদ, রামু
পিছিয়ে গেলো রামু চৌমুহনী রেডজোনে লকডাউন ঘোষনা’র তারিখ। মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র জারিকরা সহ ব্যাংকের জুন ফাইনাল হিসাব-নিকাশের বিষয় বিবেচনায় রামু উপজেলা প্রশাসন এ সিন্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যে রামুতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে রেডজোন-লকডাউন কার্যকর করতে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েছে।
রামুরে রেডজোন-লকডাউন ঘোষনা করতে হলে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে পরিপত্র জারি করতে হবে। এ ব্যাপারটি প্রশাসনিক ভাবেও মন্ত্রণালয়কে লিখতে হবে। বর্তমানে রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ হার কত, তার জন্য রেডজোন ঘোষনা করা যায় কিনা দেখতে হচ্ছে। পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যবসায়ীক হিসাব-নিকাশে ব্যাংকের জুন ফাইনাল কার্যক্রম রয়েছে। এ সব বিষয় বিবেচনায় রামুতে রেডজোন-লকডাউন ঘোষনা কয়েক দিন পিছিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন, রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণয় চাকমা।
জানা গেছে, পাঁচ দিন আগে অনুষ্ঠিত উপজেলা প্রশাসনের সভায়, ২৮ জুন রোববার থেকে রামু উপজেলার চৌমুহনী স্টেশনকে কেন্দ্র করে রেডজোনের আওতায় ১৪ দিনের লকডাউন ঘোষনার নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিলো।
উপজেলা প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেয়, রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের চৌমুহনী স্টেশনকে কেন্দ্র করে, পশ্চিমে রামু বাইপাস ফুটবল চত্ত্বর, উত্তরে বাইপাস চত্ত্বর, পূর্বে চেরাংঘাটা হয়ে জাদীপাড়া ও রামু ফকিরা বাজার, দক্ষিণে তেমুহনী স্টেশন পর্যন্ত রেডজোনের আওতায় লকডাউন কার্যকর করা হবে।
এদিকে তেমুহনী স্টেশনকে থেকে শিকলঘাট ব্রীজ পর্যন্ত রেডজোন-লকডাউনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে, স্থানীয় জনসাধারণ।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণয় চাকমা বলেন, রামুতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সব ধরণের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। চৌমুহনী স্টেশন ভিত্তিক রেডজোন, লকডাউন কার্যকর করার প্রক্রিয়া চলছে। বিধি অনুযায়ী ওই সময়ে নির্ধারিত এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হবে। এতে ব্যাংক সহ বিভিন্ন সরকারি-
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ সাধারণ ছুটির আওতায় আসবে। সাধারণ ছুটির জন্য মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি বলেন, রেডজোন, লকডাউন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে, মাঠ পর্যায়ে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করবে। এ ছাড়াও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, স্কাউট ও স্বেচ্ছাসেবক দল লকডাউন কর্মসূচি সফল করতে কাজ করবে।
রামুতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে দাবি করে অধ্যাপক নীলোৎপল বড়ুয়া বলেন, রামুতে লকডাউন বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত আরও আগে নেয়া উচিৎ ছিলো। লকডাউন ঘোষনার তারিখ পেছানোর কারণে রামুতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাবে। রামুতে দ্রুত রেডজোনে লকডাউন বাস্তবায়ন করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম বলেন, ব্যাংক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের জন্য চৌমুহনী স্টেশন লকডাউন ঘোষনার তারিখটা কয়েক দিন পেছাতে, ইউএনও মহোদয়কে অনুরোধ করেছি। ইতিমধ্যে ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকেও রেডজোন-লকডাউন বাস্তবায়নে পূর্ণ প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, চৌমুহনী ষ্টেশন ব্যবসা ও প্রশাসনিক যাতায়াতের কেন্দ্রস্থল। তাই চৌমুহনী স্টেশন কেন্দ্রীয় রেডজোনের আওতায় লকডাউন কার্যকর করবে উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নোবেল কুমার বড়ুয়া বলেন, রামুকে করোনা মুক্ত করতে পরিকল্পিত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ঈদের পরে রামুতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেশী হয়েছে। এ সংক্রমণ ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি। চৌমুহনীকে লকডাউনের আওতায় আনতে উদ্যোগ নিচ্ছে উপজেলা প্রশাসন।
তিনি রামুবাসির প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সচেতনভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। লকডাউনে বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে। প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগকে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করুন। খুব কম সময়ে রামু করোনা ভাইরাস মুক্ত হবে।
ইউএনও প্রণয় চাকমা বলেন, রামু উপজেলার এগার ইউনিয়নের মধ্যে ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বেশি। এ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চৌমুহনীকে লকডাউন ঘোষনার প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি বলেন, রামুতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে একটা রোড়ম্যাপের আওতায় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমিত পেলে রামু চৌমুহনীকে লকডাউন ঘোষনা করা হবে।













