রামুতে প্রভাবশালীরা কৃষি জমির মাটি বিক্রি করছে ইটভাটায়

0
7

 

আবদুল মালেক সিকদার রামু
বাংলাদেশের অন্যতম অর্থনীতির চালিকাশক্তি কৃষি। জীবন -জীবিকার পাশাপাশি আমাদের সার্বিক উন্নয়নে কৃষি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। তাই কৃষির উন্নয়ন মানে দেশের সার্বিক উন্নয়ন। বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদক্ষেপ এবং দিকনির্দেশনায় খোরপোষের কৃষি আজ
বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তরিত হয়েছে। অথচ
রামু খুনিয়াপালং ইউনিয়নের মধ্যম খুনিয়াপালং এলাকার ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় এক শত একর ফসলি জমির উর্বর মাটি অবৈধ ভাবে কেটে বিক্রি করা হচ্ছে ইটভাটায়।ভাটার আগুনে পুড়ছে কৃষি জমির প্রাণ কমে যাচ্ছে চাষাবাদ যোগ্য জমি। নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে দালালচক্র দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবসা করে আসছে। ফলে একদিকে যেমন জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, অন্য দিকে পিক-আপের গাড়ি বা ট্রলি দিয়ে ভাটায় মাটি নেয়ায় নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ কাঁচা-পাকা সড়ক। এতে জনগণসহ স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একাধিক জমির মালিক অভিযোগ করে বলেন,ইট তৈরির প্রধান কাঁচামাল মাটি। জমির মালিক কে না বলে সন্ত্রাসী কায়দায় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে রামু উপজেলা প্রশাসন মাটি কাটার অনুমতি দিয়েছে বলে প্রচার করে যুবলীগের নাম বিক্রি করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সে মাটি অবাধে কেটে নেয়া হচ্ছে ফসলি জমি থেকে। মধ্যেম খুনিয়াপালং এলাকার সৌদি প্রবাসী জাফর আলমের স্ত্রী জানান একই এলাকার মৃত সুলতান আহাম্মদের ছেলে সৈয়দ আলম, বদি আলম, সৈয়দ আলমের ছেলে তোফায়েল, ইছুআলীর ছেলে কামাল উদ্দিনসহ ১৫/২০ জনের একটি শক্তি শালী সিন্ডিকেট, আমার স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে আমার স্বামীর নামে ক্রয়কৃত ১একর ২০ শতক কৃষি জমির মাটি জোরপূর্বক কেটে কে, বি,সি ইটভাটায় বিক্রি করে দিচ্ছে। বাঁধা দিলে আমাদের কে গালি গালাজ করে, দেশীয় তৈরী অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে মাটি কাটার স্থানের চতুর্পাশে সব সময় মহড়া দে। কে,বি,সি ইটভাটার মালিক আক্তার কোম্পানি কে অবহিত করলে সেই ও কথা শুনে না। স্বার্থান্বেষী চক্রটি কৃষি জমির মালিকদের না বলে জোরকরে অনুমোদন ছাড়াই এসব মাটি কেটে নিয়ে কে, বি,সি ইটভাটায় সরবরাহ করছে।
ফলে শত শত একর কৃষি জমি উর্বরতা হারিয়ে জলাশয়ে পরিণত হচ্ছে। পরিবেশের
উপর পড়ছে বিরুপ প্রভাব। এ সুযোগে এক শ্রেণীর অসাধু মাটি ব্যবসায়ী মোটা অংকের মুনাফা অর্জন করছে। তারা আরও অভিযোগ করে জানান কিছু জমির মালিকের কাছ থেকে মাটি ক্রয় করে ও কিছু জমি ক্রয় না করে জোরপূর্বক মাটি কেটে ৩ থেকে ৪ ফুট পর্যন্ত গর্ত করে ইটভাটায় বিক্রি করছে। যে জমির মাটি এত গর্ত করে কাটছে এর ফেলে পাশের জমির মাটি এমনিতেই ভেঙে গর্তে পড়ে যাচ্ছে। তাই পার্শ্ববর্তী জমির মালিকরা তাদের জমির মাটি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এই ভাবে ধীরে ধীরে পার্শ্ববর্তী জমিও অনাবাদি হয়ে পড়ছে। এসব উর্বর জমিতে পেয়াজ,রসুন,ধনিয়া,আলু,বেগুন, সবজি,মরিচ,ভুট্টা, ধানের ফসল ফলানো যায়। সরেজমিন দেখা গেছে কক্সবাজার -টেকনাফ সড়েকের মধ্যে রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়ন, উক্ত ইউনিয়নের মধ্যম খুনিয়াপালং এলাকায় সড়কের পাশে
রয়েছে কে, বি,সি নামে এক টি ইটভাটা এর
একটু ভিতরে স্কেবেটার দিয়ে শত একর কৃষি জমির টপসয়েল কেটে পিক-আপ ও ট্রলিতে ভর্তি করা হচ্ছে, নিয়ে যাওয়া হচ্ছে
কে, বি,সি নামে ইটভাটায়। প্রশাসনের নীরব ভূমিকার কারণে দিনে দুপুরে মাটি কাটার মহোৎসব চললেও যেন দেখার কেউ নেই। পিক-আপ ও ট্রলি দিয়ে মাটি বহনের কারণে গ্রামীণ কাঁচা-পাকা সড়কগুলো ডেবে ও ভেঙ্গে যাচ্ছে। এছাড়া মাটি পরিবহনের সুবিধার্থে পাকা ও কাঁচা রাস্তা গুলি কেটে নষ্ট করা হচ্ছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সরকারি লাখ লাখ টাকার নির্মিত রাস্তা ব্রিজ ও কালভার্ট। এই ব্যাপারে কে, বি,সি ইটভাটার মালিক আক্তার কোম্পানির সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মাটি কাটার সত্যতা স্বীকার করেন। মাটি ব্যবসায়ি সিন্ডিকেটের প্রধান বদি আলম ও কামাল উদ্দিনের সাথে ফোনে যোগাযোগ করালে তারা জানান আমরা রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে মাটি কাটতেছি। আমরা যুবলীগের কর্মী, কিউ আমাদের কে বাঁধা দিতে পারবে না,নিউজ করে কিছু করতে পারবেন না। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা চান অসহায় কৃষক ও জমির মালিকেরা।

আগেতারেক রহমানের সাজার প্রতিবাদে কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল
পরেউখিয়ায় অধিগ্রহণের টাকার লোভে জমি দখলের পাঁয়তারা