সেন্টমার্টিনে বাড়তি প্রশান্তি জোগায় কেয়া বন

0
22

অনলাইন ডেস্কঃ

দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনের দূরত্ব প্রায় ৪২ কিলোমিটার। নাফ নদী ধরে সেন্টমার্টিন যাওয়ার পথে পর্যটকদের স্বাগত জানায় গাঙচিলের ঝাঁক। তাদের কিচিরমিচির শব্দ পর্যটকদের মুগ্ধ করে। সেই সঙ্গে দেখা মেলে শান্ত সাগরের সবুজ ও স্বচ্ছ পানির ঢেউ, যা মনকে করে প্রসন্ন।

সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন প্রায় ৮ বর্গকিলোমিটার। এ দ্বীপের তিন দিকের ভিত যা শিলা জোয়ারের সময় তলিয়ে গেলেও ভাটার সময় জেগে ওঠে। দ্বীপটি সমতল ও সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় উচ্চতা থেকে ৩ দশমিক ৬ মিটার উপরে। মূল দ্বীপ ছাড়াও এখানে ১০০ থেকে ৫০০ বর্গমিটার আয়তনবিশিষ্ট কয়েকটি ক্ষুদ্র দ্বীপ ছেঁড়া দিয়া, সিরাদিয়া বা ছেঁড়া দ্বীপ নামে পরিচিত। ছেঁড়া দ্বীপ দেশের মানচিত্রের সর্ব দক্ষিণের বিন্দু। এরপর বাংলাদেশের আর কোনো ভূখণ্ড নেই।

jagonews24

বঙ্গোপসাগরের কোলে অপরূপ সৌন্দর্যমণ্ডিত দ্বীপ সেন্টমার্টিন। এখানে সমুদ্রের বিরামহীন গর্জনের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে কেয়া বন। মাঝ সাগরের উত্তপ্ত রোদে ছায়া দিয়ে শান্ত করেছে দ্বীপের চারপাশের কেয়া গাছ।

সেন্টমার্টিনের বাসিন্দারা মনে করেন, কেয়া বনই ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের কবল থেকে জনবসতি রক্ষা করে। জেলেদের পাশাপাশি এখানে আগত দর্শনার্থীদের বিশ্রামে ছায়ার সাথে শীতল বাতাস দেয় এই গাছ। সেন্টমার্টিন থেকে ছেঁড়া দ্বীপ যেতে রাস্তার দু-পাশ ঘিরে থাকা কেয়া গাছ পর্যটকদের বাড়তি প্রশান্তি দেয়। শুধু সেন্টমার্টিন নয়, ছেঁড়া দ্বীপেও কেয়া গাছ আছে, যেগুলো বছরের পর বছর পরিবেশ রক্ষা করে চলছে।

jagonews24

কেয়া গাছের ফলটিও কম সুন্দর নয়। কেয়া ফল দেখতে অনেকটা ছোট আকৃতির কাঁঠালের মতো। ফলটির চারপাশ দিয়ে ছোট ছোট কাঁটার মতো থাকে। এ ফলের নানা ঔষধি গুণের কথা শোনা যায় স্থানীয়দের কাছে। স্থানীয়দের অনেকেই বলেন, ‘ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের মহৌষধ কেয়া ফল।’ কেয়া গাছ দিয়ে অনেকে আবার বসার জন্য মাচা (বসার স্থান) করেন। কেউ কেউ হোটেল বা ঘরের খুঁটি তৈরি করেন এ গাছের ডাল দিয়ে।

সেন্টমার্টিনের স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল্লাহ বলেন, ‘এ গাছের অনেক ঔষধি গুণ রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসায় অনেকেই এ গাছের পাতা ও ফল ব্যবহার করেন। এ গাছ দিয়ে ঘর তৈরি করা যায়, যেটা অনেক টেকসই হয়।’

jagonews24

তিনি আরও বলেন, ‘কেয়া গাছ আমাদের ছায়া দেয়, আবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকেও রক্ষা করে। সেন্টমার্টিনের চারপাশে উঁচু আকৃতির কেয়া গাছ আছে বলেই ঝড়ের কবল থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।’

ঢাকার সাভার থেকে সেন্টমার্টিন আসা আশিক বলেন, ‘সেন্টমার্টিনের বড় আকর্ষণ কেয়া গাছ। পরিবেশকে যেমন সুরক্ষা করছে আবার ছায়া দিয়ে অঞ্চলটিকে শীতল করে রাখে। এখান থেকে ছেঁড়া দ্বীপ যেতে বেশ সময়ের প্রয়োজন হয়। কেয়াগাছ না থাকলে, এ গাছের ছায়া-বাতাস না থাকলে সেখানে যাওয়া সম্ভব হতো না।’

আগেপানির নিচেই সেন্টমার্টিনের মূল আকর্ষণ, অথচ সেটাই দেখে না মানুষ
পরেটাইগারদের হতাশায় ডুবিয়ে ‘অসাধ্য সাধন’ ওয়েস্ট ইন্ডিজের