সাবরাং মুন্ডার ডেইল ঘাট থেকে ইয়াবা লুট, ধরাছোঁয়ার বাইরে সিন্ডিকেট

0
8
টেকনাফ প্রতিনিধিঃ
টেকনাফে উপজেলার সাবরাং মুন্ডার ডেইল নৌকার ঘাট থেকে ইয়াবা খালাসের সময় বিশাল একটি চালান লুট হয়েছে। এই বিশাল সিন্ডিকেটের সন্ধান পাওয়া গেছে।
স্থানীয় জেলেরা জানান, বোট মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল আমিনের নৌকা করে দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা পাচার করে আসছে। তার ইয়াবা চালানের দায়িত্ব পালন করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইউপি সদস্য দানু মেম্বার। পরবর্তীতে বিজিবি বোট মালিক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেন আব্দুর রহমানকে। এ বিষয়ে মুন্ডার ডেইল নৌকার ঘাটের নবাগত বোট মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহমান বলেন, এই ঘটনা সম্পূর্ণ সত্য। আমি আর কিছু মন্তব্য করতে চাই না।
সরেজমিন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, কয়েকটি সূত্রের দেয়া তথ্যমতে লুট হওয়া চালানে প্রায় কোটি টাকার দুই বস্তা ইয়াবা ছিল। ইয়াবা লুটের বিষয়টি স্বীকারও করছে বিজিবি ও স্থানীয় মাঝিমাল্লারা। দীর্ঘদিন ধরে একটি সিন্ডিকেট এই ঘাট দিয়ে নিয়মিত ফিশিং বোটে করে মাছ শিকারের আড়ালে ইয়াবা ট্যাবলেট পাচার করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মিয়ানমার হতে ইয়াবার একটি বড় চালান আসার সংবাদে স্থানীয় আইনশৃংখলা বাহিনী কৌশলে অবস্থান নেয়। পরে আইনশৃংখলা বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে ভিন্ন পথ অবলম্বন করে ইয়াবার চালানটি খালাসের সময় লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
ইয়াবার চালানটির প্রকৃত মালিক শাহপরীরদ্বীপ দক্ষিণ পাড়ার নুরুল হাকিম মাঝির ছেলে জাফর আলম (৩৩)। তবে চালান খালাস ও নিরাপদ স্থানের পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব ছিল স্থানীয় ইউপি সদস্য দানুর। ইয়াবার লুটের ঘটনায় মুন্ডার ডেইল এলাকার ইব্রাহীম, আব্দুর রহিম, ফজলুর রহমান প্রকাশ ফজরানসহ বেশকয়েকজন লুটকারী চক্র জড়িত।
স্থানীয় জেলেরা আরো জানান, মিয়ানমার থেকে ফিশিং বোটে করে ইয়াবার বড় চালানটি নিয়ে আসে আনোয়ার মাঝির নেতৃত্বে মোঃ আলম, কাদির ও রশিদ উল্লাহ।
জেলে কালু মাঝি বলেন, যারা প্রকৃত ইয়াবার চালান পাচার ও লুটের ঘটনায় জড়িত তদন্তপূর্বক তাদের আইনের আওতায় আনা হউক।সাগরে মাছ ধরতে যেতে না পারায় পরিবার নিয়ে মানববেতর জীবনযাপন করছি। তবে অনেকের দাবি, একটি বাহিনী সবকিছু জেনেও চুপ হয়ে আছে। তাদের এমন রহস্যজনক আচরণ কাজে লাগিয়ে এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে ইয়াবার চালান লুটে জড়িত অনেকেই।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, এই চালান ছাড়াও আরও বেশ কয়েকবার এই ঘাট দিয়ে ইয়াবার চালান এ ঘাটেপ্রবেশ করে। ইয়াবা লুটের ঘটনা সম্পর্কে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, পবিত্র রমজান মাস ও লকডাউনে আইনশৃংখলা বাহিনী ব্যস্ত থাকায় এত বড় ইয়াবার চালান লুটের পর এখনও অপরাধীরা ধরা পড়েনি এবং এই সুযোগে মেম্বার প্রার্থী টাকার জন্য ইয়াবার কাজ ঝাঁপিয়ে পড়ে গেছেন। যা হাস্যকর। কারণ তাদের মধ্যে অনেকেই এখনও এলাকায় রয়েছে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন দানুর কাছে জানতে চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে সংবাদকর্মীদের উপর তেড়ে আসে এবং নিরহ জেলেদের গালিগালাজ করে মারধর করা হয়। জেলেরা নিরুপায় হয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্যের এমন আচরণে মন ক্ষুন্ন হয়। জেলেরা দ্রুত সংশ্লিষ্ট প্রশাসনে সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে সাবরাং মুন্ডার ডেইল ঘাট সংলগ্ন খুরেরমুখ বিওপির দায়িত্বরত সুবেদার মতিউর রহমান জানান, ইয়াবা লুটের ঘটনার পর থেকে বিজিবি এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। ইতিমধ্যে অনেককেই শনাক্ত করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি উর্ধ্বতন কতৃর্পক্ষকে অবগত করা হয়েছে। ইয়াবা লুটের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
আগেটেকনাফের গহীণ অরণ্যে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, অস্ত্র উদ্ধার
পরেছাত্রলীগ নেতা রাজিবুল ইসলাম মোঃ মোস্তাক’র উদ্যোগে ইফতারি বিতরণ