রামু চাকমারকুলে জমি দখলে নিতে চেয়ারম্যান ফরিদের নেতৃত্বে হামলা, আহত ৬

0
6

 

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারের রামু উপজেলার চাকমারকুলে আবদুস ছালাম গংয়ের জমি দখলে নিতে সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম ও তাঁর ছেলের ফাহিমের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী। হামলায় ৬জন গুরুতর আহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৯টায় আদালতের আদেশ অমান্য করে এই হামলা চালানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে চাকমারকুলের কৃষ্ণ মোহন ধরের পুত্র অরবিন্দ গং থেকে একই এলাকার মৃত মোহাম্মদ হোসেনের পুত্র আবদুস সালাম গং ৩২ শতক জমি ক্রয় করেন। যার দাগ ৪৯৯৬ ও বিএস ৫৭৫। ১৯৯৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ওই জমির রেজিষ্ট্রিমূলে ওই জমির বৈধ মালিক হন আবদুস ছালাম গং। এরপর থেকে প্রায় ২৬ বছর ওই জমি ভোগদখলে আছে আবদুস ছালাম গং। কিন্তু সম্প্রতি জমি দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় রামুজুড়ে সক্রিয় হয়ে উঠে ভূমিদস্যু চক্র। যার অংশ হিসেবে আবদুস ছালাম গংয়ের দীর্ঘ ২৬ বছরের ভোগদখলীয় জমির উপর লুলোপ দৃষ্টি পড়ে ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফরিদুল আলমের। আবদুস ছালাম গংয়ের জমি দখলের উদ্দেশ্যে অন্য দাগের ভূয়া খতিয়ানও করেন চেয়ারম্যান ফরিদ। বিষয়টি বুঝতে পেরে আবদুস ছালাম গং আদালতে একটি মিচ মামলা দায়ের করেন। একই সাথে আদালত ওই জমির উপর ১৪৪ ধারা জারি করে। কিন্তু আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বৃহস্পতিবার সকালে আবদুস ছালাম গংয়ের জমিতে চাষা মনজুর দেখতে গেলে বাঁধা দেয় চেয়ারম্যান ফরিদ ও তাঁর পুত্র ফাহিম। এসময় আবদুস ছালামের স্ত্রী পরিবার পরিজন নিয়ে নিয়ে বাঁধা দেওয়ায় কারণ জানতে চান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম ও তাঁর পুত্র ফাহিমের নেতৃত্বে ২৫-৩০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী দা, কিরিচ, লোহার রড ও লাঠিসহ ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হামলায় আবদুস সালামের স্ত্রী সাবেকুন্নাহারসহ ৬ জন গুরুতর জখম হয়। আহতরা হলেন, মোস্তফা,চাষা মনছুর, মিজান, শহীদ ও নুর হাসেম। স্থানীয়রা উদ্ধার করে আহতদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে তাঁরা চিকিৎসাধীন রয়েছে।তারমধ্য চাষা মনজুরের অবস্থা আশংকাজনক। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ব্যাপারে আবদুস ছালামের স্ত্রী আহত সাবেকুন্নাহার বলেন, এই জমি বিগত ২৬ বছর ধরে আমরা ভোগ দখলে আছে। কিন্তু সম্প্রতি ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম জোরপূর্বক জবর দখল করতে পরিকল্পিতভাবে বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে। দলিলের ট্রেসম্যাপেও ৪৯৯৬ নং দাগে তাঁর জায়গার কোন অস্তিত্ব নেই।

অভিযোগের বিষয়ে ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম বলেন, আমি বা আমার পুত্র ফাহিম ঘটনার সময় সেখানে যায়নি। তাঁরাই মূলত হামলা চালিয়েছে। পরে আমি গিয়ে তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেছি। আর কাগজে কলমে সেই জমি আমার। তাদের কোন জমির কাগজপত্র নেই।

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল হোসাইন জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কেউ অভিযোগ দিলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আগে“আঁরারে নাগরিকত্ব দিলে বার্মা যাইয়ুমগই”
পরেরামুতে ইপসা- ইউএসএআইডি ইয়েস প্রকল্পের সিএসও রিসোর্স সেন্টার উদ্বোধন